সিটি নির্বাচনে নজর কেড়েছেন জিএম আরাফাত
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২, ০৭:৪৫ পিএম
# তৃণমূল থেকে সিনিয়র নেতা সকলেই চাইছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাতে তার নাম প্রস্তাব করা হয়
সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় কাজকর্ম ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু করা জিএম আরাফাত সময়ের সাথে সাথে নিজের পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন।
নাসিক নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা যখনই আওয়ামী লীগের দুই নং গেটের কার্যালয়ে এসেছেন তখনই সার্বিক সহযোগিতায় নিবেদিত প্রাণ হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো করার ব্যাপারে ব্যাপক কার্যক্রম করে প্রশংসিত হয়েছিলেন জিএম আরাফাত। ধারাবাহিকভাবে দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেয়া, দলের কার্যক্রমে ক্লিন ইমেজের তৎপরতার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতাকর্মীরা চাইছেন জিএম আরাফাতকে।
শুধু নিজ কাজকর্মের জন্যই নয়, পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমৃদ্ধ অতীত ইতিহাস রয়েছে আরাফাতের। তার পিতা মরহুম আলম চান মুন্সী বৃহত্তর দেওভোগ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। বাবার রাজনীতির প্রবাহটাই যেন ছেলে আরাফাতের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়েছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তবে এই পথচলা যে অতটা সহজ ছিলনা।
তা দলের দুঃসময়ে তার উপর দিয়ে বয়ে চলা ঝড়ই প্রমাণ করে। ১/১১’র সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন তিনি। সেসময় ওই মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। তার কর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদ বিনা অপরাধে জেল খাটে। আওয়ামী লীগ নেত্রীর উপর যখন গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে তখনও প্রতিবাদ মিছিল করার অপরাধে তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছিল।
দলের দুঃসময়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অনেক লাঞ্ছনা বঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছেন জিএম আরাফাত। সম্প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হতে পারে এমন সম্ভাবনায় তৃণমূল চাইছে জিএম আরাফাতকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হোক। যুগের চিন্তার সাথে আলাপকালে জিএম আরাফাত বলেন, আমি সবসময় একটা বিষয়ই চেয়েছি রাজনীতি করতে।
আমি কোন মোহ, স্বার্থ বা লাভের আশায় কখনোই রাজনীতি করার চেষ্টা করিনি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সমর্থন ও ভালোবাসা সবসময় পেয়েছি।
সামনেও পাবো। দলের প্রয়োজনে আমাকে যেই দায়িত্বই দেয়া হোক আমি সেটি করবো। দলের প্রয়োজনে রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমার বাবাও কোন চাওয়া পাওয়া নিয়ে রাজনীতি করতেননা। যার কারণে নেতাকর্মীদের ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি। দলের জন্য যখনই কিছু করার সুযোগ পেয়েছি, ঝাপিয়ে পড়েছি। দল আমাকে মূল্যায়নও করেছে।
আওয়ামী লীগ সভানত্রী তাঁর দক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মীদের খবর ঠিকই রাখেন। আমি আমার নেতাদের সমর্থন যেমন পেয়েছি, সামনেও এই সমর্থন পাবো বলে আমি বিশ্বাস করি। দলকে সুসংগঠিত করতে যদি আমাকে যোগ্য মনে করে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় আমি সেটি পালন করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। তৃণমূল ও আমাদের নেতাদের সমর্থন অতীতের মতো সামনেও পাবো বলে আমি মনে করি।
জিএম আরাফাত আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের দল যেহুতু বড় দল, এখানে প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে দলের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবেই রাজনীতি করতে হবে। আমাদের মধ্যে সহনশীলতা, শালীনতা থাকতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনোই ভালো কোন কিছু দিতে পারেনা। আমার অতীত কার্যক্রম এবং আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সাংগঠনিক তৎপরতা দেখে দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে আমি সেটাই মেনে নেবো।
মেয়র আইভী, আনোয়ার ভাই, এমপি বাবু ভাই এবং মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ভাই আমাকে সবসময় সমর্থন করে গেছেন, তাদের সমর্থন সামনেও পাবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি হলে ভুলে সংখ্যা অনেক কমে যায়। আমি সকলের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিটাই শুধু করতে চাই। যে যেখানেই রাজনীতি করুক দলের জন্যই যাতে কাজ করুক।
প্রতিযোগিতা যাতে কখনোই দলের জন্য বিশৃঙ্খলা হিসেবে তৈরি না হয়। সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে জিএম আরাফাত বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে আমাদের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেন। তিনি সব জেনে বুঝেই ঠিক করেন।
যারা সিটি নির্বাচনে ক্যান্ডিডেট পছন্দ হয়নি বলে তাকে ফেল করাতে হবে এমন চিন্তাভাবনা থেকে দলের বিরোধিতা করেছেন প্রকাশ্যে অথবা পরোক্ষভাবে তারা দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
দল যাকে চাইবে, যাকে যোগ্য মনে করবে, জনগণ যাকে চাইবে যাকে যোগ্য মনে করবে তার বিমুখ হয়ে তাকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা, যায়না এটা আমাদের সিনিয়রদেও মনে রাখতে হবে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন তো এর জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ।


