না’গঞ্জ জেলা ছাত্রদল পূর্ণাঙ্গ কমিটির খবর নাই
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২২, ০৫:৩৮ পিএম
# চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি জেলা ছাত্রদলের কমিটি
# মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি
দীর্ঘ প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো খবর নাই। আংশিক কমিটি উপর ভর করেই চলছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হলেও পরবর্তী প্রায় এক বছরের মধ্যেও জেলা ছাত্রদলের পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়নি। ইতিমধ্যে জেলার আংশিক কমিটির মেয়াদও ফুরিয়ে এখন জেলা ছাত্রদলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
এর জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজিবকেই দোষলেন তৃনমূল ছাত্রদলের নেতাকমীরা। তাদের দাবি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিজেদের কোন্দলের কারণেই বিগত প্রায় চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একে একে বিভিন্ন জেলার কমিটির অনুমোদন দিচ্ছে। যেসকল জেলার কমিটির তালিকা আমাদের অনেক পরেও জমা হয়েছে সেই গুলোও অনুমোদন হয়ে গেছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির কোন খবর নাই। আমরা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
দীর্ঘদিন ছাত্রদলের ব্যানারে সক্রিয় ভূমিকায় থেকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এই আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল-জুলুম ও নির্যাতনেরও স্বীকার হয়েছি। আমাদের নেই কোনো রাজনীতিক পরিচয়। ছাত্রদলের পদের আশায় অন্যান্য সংগঠনের কোন পদ- পদবীতে যাইনি আমরা। দুই বছর ধরেই শুনতাছি কমিটি হবে হবে কিন্তু হচ্ছে না। কমিটি না হওয়ার কারনে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে জেলা ছাত্রদলের কমিটি আর নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের উপর নাখোশ হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের নেতাদের সাথে কথা বললে তারাও জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরেই রাজপথে থেকেও এখনো দলীয় কোন পরিচয় অর্জন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
দলের পক্ষ থেকে দিনের পর দিন তাদেরকে কমিটির মুলা দেখিয়ে রাজপথের কাজ করিয়ে নিয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জেলার ছাত্রদলের পদ-পদবীর আশায় এখন রাজপথে জোড়ালো ভাবেই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। কিন্তু চার হতে চলেছেস এখন জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন সভাপতি ও সম্পাদক। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিজেদের কোন্দেলের কারনেই আমরা তৃনমূল নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত হয়ে আছি।
তাই এখন আর রাজপথের কোন কর্মসূচীই নামবেন না ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কারণ নেতারা ঘরে বসে পদ পদবি নিয়ে ঘুমিয়ে থাকবেন আর কর্মীরা মাঠে থেকে মামলা হামলার শিকার হবে তা আর কোনভাবেই করতে দেয়া হবেনা। জেলা ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৫ জুন মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও খাইরুল ইসলাম সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের অংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। ১২সদস্যের ওই কমিটিতে আরও রয়েছেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান অনিক, যুগ্ম-সম্পাদক ইসমাঈল মামুন, মাইনুল ইসলাম রশিদ, নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত
রাকিব হাসান রাজ, রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া। এই ১২ সদস্যের কমিটি দিয়েই এযাবৎ চলছিলো জেলা ছাত্রদলের কার্যক্রম। খালি ছিলো সহ-সভাপতির আরো একাধিক পদ, ছিলো না সহ-সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সদ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন পদও।
বিলম্ব হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো বেগবান হবে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল। এক্ষেত্রে যোগ্যব্যক্তিদের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে আনার বিকল্প নেই।


