Logo
Logo
×

রাজনীতি

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২২, ০৭:২০ পিএম

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি
Swapno

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য ৪১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এই কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দলের ভেতর তৈরী হয়েছে উপদল। গঠন করা হয়েছে সিন্ডিক্যাট। চলছে উপদলীয় কোন্দল। যার ফলে দিনে দিনে আরো নাজুক অবস্থায় পতিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।


সুত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বহু পুরোনোই। নতুন করে আবারও বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সেই কোন্দল এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ইউনিট কমিটি দেওয়ার পর থেকেই এসকল কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে। কমিটি দেওয়ার পর তা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। দাঁড় করানো চেষ্টাও চলছে পালটা কমিটি। ঘটছে পদত্যাগের ঘটনাও।

 

কমিটির বিরুদ্ধে মিছিলও হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সিন্ডিক্যাট ও কোন্দল দলের বিপর্যয়ের আরো একটি কারন। এই সিন্ডিক্যাট ও কোন্দলের পেছনে বড় বড় নেতাদের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।  


সুত্র জানায়, বড় বড় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে নিজের অনুসারীদের যেকোনো মূল্যে নেতৃত্বে আনতে মরিয়া । নেতাদের সাথে লিয়াজু করে তদবির আর অনৈতিক উপায়ে সুবিধাবাদীরা চলে আসছে শীর্ষ নেতৃত্বে। এতে করে বাদ পড়ছেন দলের দূর সময়ের যোগ্য ও ত্যাগীরা নেতারা। পুনর্গঠনের গতি বৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতে এ কোন্দল আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যা আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা।


এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি মানতে নারাজ দলের নীতিনির্ধারকরা। চলছে অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনও। নানা ঝড়ঝাপটার পরও বিএনপি থেকে একজন নেতাও অন্য দলে যায়নি। দলে যে কোন্দল নেই এটাই তার বড় প্রমাণ। বিএনপি এ দেশের বড় রাজনৈতিক দল। সারা দেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। কিন্তু সে তুলনায় পদের সংখ্যা কম।

 

তাই যোগ্যতা থাকার পরও সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকের মধ্যে পদ না পাওয়া নিয়ে কিছুটা অভিমান থাকতে পারে। সেটাকে আমরা কোন্দল বলছি না। নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো অভিমান বা কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি।


সূত্র আর জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল জেলার পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতা ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নড়েচড়ে বসেছেন। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যস্ত তারা।

 

মূলদলসহ অঙ্গ সংগঠনে নিজেদের অনুসারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার চেষ্টায় ত্রুটি করেনি নেতারা। গ্রুপিং করে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অনুসারীদের নিয়েই কমিটি নিজেদের হাওয়ালে করে নিয়েছে। আর নেতাদের গ্রুপিং এর কারনে অনেক যোগ্যও ত্যাগী নেতারা কমিটি থেকে বাদও পড়েছেন।


এদিকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি রয়েছে। তাই এই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা এই ধরনের সিন্ডিক্যাট মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না। ফলে এরই মাঝে বিরাজ করছে চরম বিশৃংখলা।

 

একদিকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে দলের অন্য নেতাদের কোনো সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেন না আবার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বকেও মানছে না অনেক নেতারা। ফলে একটি সিন্ডিকেট নতুন করে বিশৃংখলার সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এসব কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ঐক্য বিনষ্ঠ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন