আমি কমিটির রাজনীতি করি না : শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অনেক কমিটিই আছে। আমি কোন কমিটিতে আছি কি না জানি না, ও (আরমান) মনে করিয়ে দিল মনে করিয়ে দিল যে, আমি মহানগরের একটা কমিটিতে আছি। আমি কমিটির রাজনীতি করি না। পদ পদবীর কেয়ার করি না, ঐ রাজনীতি আমি করি না।
আমি রাজনীতি বলতে একটা জিনিস বুঝি, রাজনীতি তাকেই বলে, সত্য কথা বলার সাহস যার আছে। আমি সাংবাদিকতা বলতে এটাই বুঝি যে, সে সৎ সাংবাদিক, সত্য কথা বলার সাহস রাখে, তারই সাংবাদিকতা করা উচিৎ। রাজনীতি তারই করা উচিৎ যে যেকোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলার মতো সৎ সাহস রাখেন এবং নিজেকে ঐভাবে গড়ে তুলেন।
গতকাল শনিবার বন্দরের ২৩ নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, নাটক মঞ্চস্থ না করে, উপরে এক রূপ আর ভেতরে আরেক রূপ যাদের নাই, তাদেরই রাজনীতি করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। তবে রাজনীতি এখন অনেক কুটিল ও কঠিন হয়ে গেছে। যেকোন দলেরই হোক না কেন, ত্যাগী নেতাকর্মী যারা আছেন তারা এখন খুবই অবহেলিত এবং তাদের সম্মান আজকাল খুব কম।
তিনি বলেন, আমি কিছু কথা শেয়ার করার জন্য এখানে আসছিলাম। যে কথাগুলো বলার জন্য আসছিলাম, সামনে এতগুলো টেলিকাস্ট, এখানে অনেকেই অনেক কিছু টেলিকাস্ট করতে পছন্দ করেন। সবাই না, এরমধ্যে দুইএকজন। শামীম ওসমান বলেন, এই মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জকে কেউ কেউ বেছে নিয়েছেন একটা প্লট হিসেবে।
আমি দেখতে পাচ্ছি গত কিছু দিন যাবত এই নারায়ণগঞ্জে যারা ওয়ান ইলিভেনের প্রবক্তা, যারা বাংলাদেশে একটি নতুন ষড়যন্ত্র শুরুর করার চেষ্টা করেছেন, যারা আজকে খুশি হন যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব নিয়ে উপর যদি কোন আঘাত আসে তখন যারা খুশি হয়ে হাততালি দেন। সেসমস্ত লোকেরা নারায়ণগঞ্জে এসে আজকে মিটিং করছে, তাতে আমার কোন আপত্তি নাই। আপত্তি আছে সেখানটায় যে, কোন্ মুখোশধারীরা তাদেরকে আজকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসছেন।
আমাদের ছাত্রলীগের মহানগর না, মহল্লা ছাত্রলীগের একজন সভাপতিও যদি কোন মিটিং ডাকে তাতেও এর চেয়ে বেশি লোক হয়। ঐটুকু লোক নিয়ে যারা সরকার, রাষ্ট্র এবং নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশোধাগার করছেন। আমাদের কাছে রেকর্ড আছে, তারা বক্তব্য দিচ্ছেন, দেশে নাকি আরেকটি ১৫ আগস্ট করানো হবে। আমি অবাক এবয় বিস্মিত হই।
আমাদের নেত্রীকে তুলনা করছেন আইয়ুব খানের সরকারের সাথে। তিনি বলেন, আমি গর্ব করেই বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী, আমার বাবা শামসুজ্জোহা এবং আমার চাচাদের নামও রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতির পরে আর কারও স্বীকৃতির দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
তারা বলছেন এটা নাকি একটা ব্যার্থ রাষ্ট্র, তাতে আমার কোন আপত্তি নাই। তারা কি বললো না বললো তাতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু যখন দেখি যে একই মঞ্চে হয়তো বা আমারই মতো কেউ একজন দাড়িয়ে বক্তব্য শুনছেন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা কারা? এরা খুব ডেঞ্জারাস। জাতির পিতাকে পাকিস্তানের কারাগারে হত্যা করার সাহস দেখায় নাই।
খন্দকার মোস্তাক বঙ্গবন্ধুকে পেছনের দরজা খুলে দিয়ে হত্যা করিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে খন্দকার মোস্তাকের বংশধররা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি প্লাট ফর্ম তৈরি করতে চাচ্ছে। ঢাকার খুব সন্নিকটে নারায়ণগঞ্জ। এটাই নারায়ণগঞ্জের বড় সমস্যা।


