# মিউচুয়াল ক্লাব ভবনটি সংরক্ষণ করেছি
#শেখ রাসেল পার্ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ লেকে ঘুরতে যাওয়ার আহ্বান
শিশুদের সবসময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, জয় বাংলা বললে মনের ভেতর সাহস আসে। ভয় পেলে জয় বাংলা বলবে। তাহলে মনের ভেতর সাহস আসবে। এই সময় শিশুদের নিয়ে ‘জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নগরীর নিতাইগঞ্জে নির্মাণাধীন নগরভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন। শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশকে স্বাধীন করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছে বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের কথা সবাই মনে রাখবো। আর সবসময় জয় বাংলা স্লোগান দেবো। জয় বাংলা বললে আমাদের মনের ভেতরে সাহস আসে। ভয় পেলেই জয় বাংলা বলবে, দেখবে মনের ভেতর সাহস আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। একই সাথে আজকে শিশু দিবস।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করে থাকি। শেখ রাসেলের জন্মদিন পালন করি। নতুন ভবনে এইবার আয়োজন করা হয়েছে। নতুন ভবনটির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় আয়োজনে কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। এটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা আগামীতে আরও সুন্দর করে আয়োজন করার দিতে খেয়াল রাখবো।’
আইভী বলেন, ‘বাচ্চারা যদি বঙ্গবন্ধুর কথা, দেশের কথা না জানে তাহলে এত প্রোগ্রাম করেও কোন লাভ হবে না। কারণ শিশু-কিশোর দিবস ঘোষণা করা হয়েছেই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার জন্য। আমরা ছবি আঁকার পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করি। যাতে শিশু-কিশোররা দেশ ও জাতি সম্পর্কে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে।
’ তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকেই ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন এই নারায়ণগঞ্জে, বালুর মাঠে জনসভা করেছিলেন। জাতির জনক ওই সমাবেশে বক্তব্যও রেখেছিলেন। সভা থেকে তাকে স্বর্ণখচিত প্রতীক উপহারও দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনা তার বইতে লিখেছেন এই কথা। এই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সুতিকাগার।
পাইকপাড়ার মিউচুয়াল ক্লাবে মিটিং করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই কারণে আমরা বলি, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম। আমরা সেই মিউচুয়াল ক্লাব ভবনটি সংরক্ষণ করেছি। বাচ্চাদের বই দেওয়া হবে। অভিভাবকরা বইটি পড়ে বাচ্চাদের জানাবেন।’ বই পড়ার প্রতি তাগিদ দিয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘আজকে মোবাইলের যুগে ইন্টারনেটে সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে।
কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠছে না। তাদের বই পড়তে হবে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সম্পর্কে জানতে হবে শিশুদের। তাদের ত্যাগ সম্পর্কে জানতে হবে। তা না হলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে উঠবে না। মা ও বাবা হলো একটি শিশুর প্রথম শিক্ষক। পিতামাতাকেই সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। আপনারা নিজেরা পড়বেন এবং শিশুদেরও জানাবেন। ইতিহাস সম্পর্কে জানাবেন।
শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবেন।’ নাসিক মেয়র ডা. আইভী নগরীর দৃষ্টিনন্দন শেখ রাসেল পার্ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ লেকে ঘুরতে যাওয়ার আহ্বান জানান শিশুদের। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,
কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, মিজানুর রহমান খান, শাওন অংকন, মনোয়ারা বেগম, নাসিকের প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কেএম ফরিদুল মিরাজ, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন, পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পাল প্রমুখ।


