রাজাকারপুত্রের পৌরহিত্যে সংবর্ধনায় মুক্তিযোদ্ধাদের না আসার আহবান
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২, ০৮:১০ পিএম
আগামী ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস ও আগামী ২৬ মার্চের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল পত্র পত্রিকায় দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সেরা রত্ন ও বীর সেনানী।
যেখানে তারা দেশের আপামর জনগণের ভালবাসা ও স্যালুট পাচ্ছেন, সেখানে তারা একজন রাজাকারপুত্রের পৌরহিত্যের অনুষ্ঠিত ও তার দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা কেনো যাবেন? উল্লেখ্য, অন্যান্য বারের মতো এবারো মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে রাজাকারপুত্র খালেদ হায়দার খান কাজলের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কাজলের পিতা গোলাম রাব্বানী খান ৭১ সালে নারায়ণগঞ্জের শান্তি কমিটির প্রাধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক মুনতাসির মামুন ও রীতা ভৌমিকের বইয়ে গোলাম রাব্বানী খানের এ অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় কাজলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এবারের গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও কাজলের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির চিঠিতেও কাজলকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। ১০ ক্রমিকে কাজলের নাম দিয়ে, তার নিচে দেওয়া হয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট নুরুল হুদা,
সাবেক সহকারী উপজেলা কমান্ডার নুরুল হক, সাবেক উপজেলা কমান্ডার শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হযরত আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মোহর আলী চৌধুরী, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আয়াত আলী প্রমুখের নাম।


