ফতুল্লা এগিয়ে, অন্যরা পূর্ণাঙ্গতে ব্যর্থ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম
# জেলার শীর্ষ নেতাদের চাপ দেয়ার দাবি
# নির্বাচনের আগেই সাংগঠনিক তৎপরতা চায় তৃণমূল
ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগের শক্তিশালি কমিটি নেই। সেই সাথে দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন দিবসগুলোতে কোন রকম কার্যক্রম চলে। অনেক ইউনিয়নে তাও চলে না। দীর্ঘ দিন পরে হলেও এবার ফতুল্লা থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর এই থানার ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যান্য থানা গুলোতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কমিটি সভাপতি সেক্রেটারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। তাই তৃণমূলে আলোচনা হচ্ছে ফতুল্লা থানা দলীয়ভাবে সবার থেকে এগিয়ে থাকলেও অন্যান্যরাকেন পিছিয়ে রয়েছে। আর এতে করে দূর্বল হচ্ছে দল। দলকে শক্তিশালীতে রূপান্তর করতে ব্যার্থ হচ্ছে দায়িত্বরত থানা সভাপতি সেক্রেটারিকে দায়ী করছে। রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে এইভাবে চলতে থাকলে দল আরও দূর্বল হয়ে পরবে বলে মনে করেন তারা। আর এজন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ালীগকে তার খেসারত দিতে হতে পারে ।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাাযায়, ২০১৯ সনে মাঝামাঝিতে জেলার রূপগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি হন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং সাধারণ সম্পাদক হন শাহ জাহান ভূঁইয়া। একই বছরের নভেম্বর মাসে সম্মেলনের মাধ্যমে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হন এম এ রশিদ এবং সেক্রেটারি হন কাজিম উদ্দিন প্রধান।
অপর দিকে সোনারগাঁ থানায় ২ বছরে ২ বার আহবায়ক কমিটি দিয়ে দলীয় কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এখনো তা আহবায়কই রয়ে গেছে। পাশাপাশি সদর থানায় কোন কমিটি নেই। কেননা ২০৯ সনে সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি হন নাজির মাদবর এবং সাধারণ সম্পাদক হন আল মামুন। কিন্তু গত বছর সদর থানা আওতাধীন গোগনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে আল মামুন কাজ করায় তাকে ক্ষমতাসীন দলের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। আর এতে করে সদর থানা আওয়ামীলীগে এক জন আছে।
একই সাথে আল মামুন ইউপি নির্বাচনের সময় এক সভায় নৌকার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেন। যার খেসারত হিসেবে বহিস্কার হন। এই থানাগুলোতে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় দলীয় শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সমালোচনা চলছে।
সেই সাথে তৃণমূল থেকে প্রশ্ন উঠেছে ফতুল্লা যদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ইউনিয়ন সম্মেলন করতে পারে তাহলে অন্যরা কেন এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না। আর এজন্য তৃণমূল নেতা কর্মীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, এতে শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতাই দায়ী। এখনি যদি দলকে শক্তিশালী করা না হয় তার জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে দলকে খেসরাত দিতে হতে পারে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান, আগামী ১ এপ্রিল শুক্রবার কাশীপুরের হাজী উজির আলী স্কুলের মাঠে কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে ৫ টি ইউনিয়নের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা দলীয়ভাবে পরামর্শ করে কাশিপুর ইউনিয়নে সম্মেলন আগে শুরু করবো।
পরে পর্যায় ক্রমে রমজান শেষে বাকি ইউনিয়ন গুলোর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হবে। আর এতে করে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আরও শক্তিশালি হবে। অন্যরা কেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না তা তারা বলতে পারবে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।


