জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৬:৩৫ পিএম
# ফতুল্লায় ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে থাকবেন বঞ্চিত বিএনপি নেতারা
ফতুল্লা থানা বিএনপি এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দলের নতুন আহবায়ক কমিটির বাহিরে রাখা হলেও তারা মাঠ না ছাড়ার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মনে করেন তাদেরকে দলের বাহিরে রেখে কার্যত বিএনপিকে দূর্বল করার মিশন নিয়ে খেলছেন কয়েকজন নেতা। তাদের মূল মিশন হলো কমিটি বাণিজ্য।
তারা মনে করেন দল থেকে পদত্যাগী একজন শিল্পপতির ইশারায় তার পছন্দের লোকদের নিয়ে করা হয়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির নয়া আহবায়ক কমিটি। কিন্তু যে সকল নেতৃবৃন্দকে বাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন বিএনপির প্রান। তাদের অনেকেই সেই জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিএনপি করেন। যেমন অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা এসএম নূরুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ মোল্লা, নাসিম আবেদিন,
আবদুল কাদির খান সহ আরো অনেকে। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যারা এরশাদ বিরোধী এবং শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করেছেন তাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে। যেমন কুতুবপুরের বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, কাশীপুরের বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন, মাসুদ আহম্মেদ বাবুল,
কবির প্রধান, আলী হোসেন শিকদার, মঈনুল হোসেন রতন, বক্তাবলীর লোকমান হোসেন এবং হাসান আলী, ফতুল্লার এডভোকেট বারী ভুইয়া, এছাড়া ফতুল্লা থানা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেও মাইনাস করা হয়েছে। এরা সকলেই বিএনপির পরিচিত মুখ। তাই এই নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি কতোদূর এগুতে পারবে অনেকেরই জানা নেই।
এমন সব নেতাদের নিয়ে এবার বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদের মাঝে খুব কম সংখ্যক নেতাকেই মানুষ চিনে বা দলকে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রয়েছে। এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার কুতুবপুরে হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লার বাসভবনে এক বিশেষ বৈঠক করেন নেতৃবৃন্দ। সেখানে তারা মাঠ না ছাড়ার স্বিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়,
আগামী দিনে তারা আরো সংঘবদ্ধভাবে মাঠে থাকার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তারা খুব ভালো করেই জানেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। যে ব্যাবসায়ী তাদেরকে দল থেকে মাইনাস করেছেন সেই নেতা বার বার এমপি হওয়ার চেষ্ঠা করেও সফল হতে পারেননি। এমন কি বিগত নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে চেনা নেই জানা নেই কোথাকার কোন কাশেমীকে ধরে এনে মনোনয়ন দেয়া হয়। যদিও সেই কাশেমীকে মাঠেই দাড়াতে দেয়া হয় নাই। তাই আগামী নির্বাচনেও কি ঘটে বা কে পান বিএনপির মনোনয়ন সেটা মোটেও নিশ্চিৎ নয়।
এমন কি দেশে কোনো নির্বাচন হবে কি হবে না, আর হলেও সেই নির্বাচন কেমন হবে? নাকি আবার তত্বাবদায়ক সরকার ক্ষমতায় আসবে অথবা আসতে পারে সামরিক শাসনও। অথচ এখানে গত প্রায় এক যুগ ধরেই চলছে কে কার লোক সেই হিসাবনিকাস। আর এটা সবচেয়ে বেশি করেছেন দলত্যাগী সেই শিল্পপতি নেতা। অথচ ওই নেতা এসব না করে সবাইকে আপন করে নিলেও পারতেন।
তাই আগামী দিনের রাজনীতিতে কি ঘটে সেটা যেহেতু জানার কোনো উপায় নেই তাই অন্তপ্রান এই বিএনপি নেতাদের মাইনাস করা হলেও তারা সংঘবদ্ধভাবে মাঠে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাবার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করবেন বলে জানা গেছে।


