# সত্য বিষয় তুলে ধরেন: পারভীন ওসমান
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের সদস্যদের বর্ণাট্য রাজনীবিদ হিসেবে জানেন মানুষ। রাজনৈতিক দল গুলোতে রয়েছে তাদের বিশাল কর্মী সমর্থক। দলীয় কর্মী ছাড়াও তাদের অসংখ্য সমর্থক আছেন। তবে ২০১১ সনের নাসিক নির্বাচনের পর কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে এই পরিবারের সমর্থক অনেকটা কমে এসেছে।
ওসমান পরিবারের বর্তমানে জেলার দুটি আসন থেকে দুই ভাই এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন থেকে নৌকা মনোনয়ন নিয়ে এমপি হিসেবে আছেন শামীম ওসমান এবং জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে জেলার ৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাাচ্ছেন সেলিম ওসমান।
সেলিম ওসমানের আগে এই আসনের এমপি ছিলেন তারই ভাই প্রয়াত নাসিম ওসমান। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সনের উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
খোজ নিয়ে জানাযায়, সেলিম ওসমান ২০১৯ সনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। এর পর থেকে জাতীয় পার্টি অনেকটা তার নেতৃত্বে চলে। জাতীয় পার্টির জেলা মহানগরে যারা নেতৃত্বে আছেন তারা এমপি সেলিম ওসমানের অনুসারি হিসেবে পরিচিত। তবে এই দলেওর অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি ও ছাত্র সমাজ ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমানের অনুসারী।
তার পারভীন ওসমানের নির্দেশনা চলে। গত সপ্তাহে পারভীন ওসমান জাতীয় পার্টির সদস্য পদ থেকে পদন্নোতি পেয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে নিয়োগ পান তিনি। দলটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের তাকে এই চিঠি তুলে দেন। পারভীন ওসমান পদন্নোতিহ পাওয়ার পর পরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহরে র্যালী করেন। এই র্যালীতে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন। এতে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক যোগদান করেন।
এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে পারভীন ওসমানের পদন্নোতি নিয়ে শহরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহল বলছেন প্রয়াত নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ দিন নিরব ছিলেন। সরাসরি এসে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কথা বলতেন না। তবে এখন পদন্নোতি পাওয়ায় তিনি গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক সামাজিক সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে যোগদান করছেন।
আর এতে করে তার এক্টিভিটিস দেখে কর্মী সমর্থকরা অনেকটা খুশি হয়েছেন। সেই সাথে দলীয় কর্মীরাও উজ্জীবিত হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে তার এই সক্রিয়তা কি আগামী সংসদ নির্বাচনের ইঙ্গিত। নাকি কর্মীদের সবল করে শক্তিশালি হিসেবে নেতৃত্ব তৈরী করা।
সব কিছু মিলিয়ে পদন্নোতি পাওয়ার তিনি রাজনৈতিক সামজিক অনেক অনুষ্ঠানে এসে বক্তব্য দেয়ায় সবাই এখন তাকে নিয়ে আলোচনা করছে। সেই সাথে রাজনীতিবিদরা বিষেøশন করছে আসলে তিনি কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার এই সক্রিয়তা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই শহরে তাদের বিশাল প্রভাব রয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, ওসমান পরিবার ত্বকী হত্যার ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত হয়ে আছে। এই হত্যার অভিযোগের তীর এই পরিবারের উপর। যদিও তাদের দাবী এই পরিবার ত্বকী হত্যায় জরিত নন। তবে দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবী জানিয়ে আসছে তার পরিবার ও জেলার সচেতন মহল। কিন্তু চার্জশীট জমা না হওয়ায় এই হত্যার বিচারের কোন কুল কিনারা হচ্ছে না। ত্বকী হত্যার ঘটনার পর থেকে অনেক মানুষ ওসমান পরিবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে তারাও এই হত্যার বিচারের দাবী জানান।
ওসমান পরিবারের প্রভাভাশালি এমপি শামীম ওসমান নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে এক সভায় বলেছেন, আমরাও ত্বকী হত্যার বিচার চাই। এই হত্যা নিয়ে শহরে অনেকে নাটকের মঞ্চ তৈরী করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষনা দেন।
স্বাধীনতা দিবসে খানপুরে এক সভায় পারভীন ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, পদ পদবি কোন বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারা। যারা দেশ বিরোধী কাজ করে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। যারা দেশদ্রোহী ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিচার করেছেন।
পত্রিকায় বিভিন্ন সময় ওসমান পরিবার ও আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, আমি অনুরোধ করবো এসব সংবাদ প্রকাশ করবেন না। সংবাদ প্রকাশের পূর্বে অবশ্যই আপনারা যাচাই-বাছাই করে তারপর সংবাদ প্রকাশ করবেন। যেটা সত্যি সেটা লিখুন।


