Logo
Logo
×

রাজনীতি

চেয়ার বাঁচাতে তাদের দৌড়ঝাঁপ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৪৯ পিএম

চেয়ার বাঁচাতে তাদের দৌড়ঝাঁপ
Swapno

# কি জবাব দিবেন তারা
# বেফাঁস মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

 

সরকারি বেসরকারি দলের রাজনীতিতে অনেক নেতা কর্মী দলের বিপক্ষে গিয়ে কার্যক্রম করায় দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন অপরাধে মামলার আসামী হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত পর্যন্ত হয়েছে। এবার ইউনিয়ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর থেকে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করায় আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার হয়েছেন। একই সাথে তার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সেক্রেটারি আল মামুন বিহস্কার হন।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীককে অবজ্ঞা করে বক্তব্য প্রদান করে বিতর্কিত হয়েছে। তাদের বেফাস মন্তব্যের কারনে স্থানীয় মন্ত্রণালয় থেকে সোনারগাঁ বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. বাবুল, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান এবং আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জবাব চেয়ে শোকজ করা হয়েছে। শোকজ চিঠিতে উল্লেখ্য করা হয় তাদের জবাব সন্তুষ্ট জনক না হলে তারা বরখাস্ত হতে পারেন।

 

এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে  তাদের কাছে শোকজ চিঠি পাঠানোর পর থেকে এই তিন চেয়ারম্যান নিজেদের চেয়ার রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন দরবারে দৌড়ঝাঁপ করতেছে। তাদের দরাবরের প্রথম ধাপ হচ্ছে শহরের একটি প্রভাবশালী পরিবার। একটি সূত্র জানান, এই তিন চেয়ারম্যানই জেলার প্রভাবশালি এমপি শামীম ওসমানকে গুরু হিসেবে মানেন।

 

তার আর্শীবাদেই তারা চেয়ারম্যান হন। তাই প্রশ্ন উঠেছে তাদের গুরু কি এই বিতর্কিত তিন জনপ্রতিনিধিকে রক্ষা করতে পারবেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন ভাবে নিজেদের চেয়ার বাচাঁতে দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কোন কুল কিনারা না পেয়ে অনেকটা বরখাস্ত হওয়ার আতঙ্কে সময় পার করছেন তারা। তবে এই ঝামেলা থেকে তারা কবে নিজেদের মুক্তি পাবেন তা নিজেরাও জানেন না।

 

কেননা এই তিন চেয়ারম্যানের বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়। আর এজন্য রাজনৈতিক বোদ্ধ মোহল প্রশ্ন তুলেন, তারা এখন কি জবাব দিবেন। কেননা তারা যে বেফাস মন্তব্য করেছেন তা অস্বীকার করতেও পারবে না।

 

তাই তারা কি জবাব দিবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ভাবে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু এবং নৌকাকে অবজ্ঞা করে তার আর কত পার পেয়ে যাবেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ হতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে ডিসি এসপি বরাবর স্বারলিপি দেয়া হয়েছে।


এদিকে জেলার তিনজন চেয়ারম্যানের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের অঢিটোরিয়ামে এক সভায় আলীরটেক ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ভোট কম পাইছি। অন্য কেউ হলে পাশ ওই করতো না।

 

আমি অন্য মার্কা নিয়ে নির্বাচন করলে ৯৫ ভাগ ভোট পাইতাম, কিন্তু নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ৯০ ভাগ ভোট পাইছি। তার এই বক্তব্যে ক্ষমাতসীন দলের নেতাদের রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করেন। সোনারগাঁ উপেজলা বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মাহবুবুর রহমান বাবুল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন, তিনি বারদীর ম্যাজিষ্ট্রেট।

 

বারদীতে কোন পুলিশ প্রবেশ করতে হলে তার অনুমতি লাগবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেও তার অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। আরেক দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এক সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে চিনি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি না।

 

আমি শুধু অনলি ওসমান পরিবার চিনি। তাদের তিন জনের বক্তব্যই বিভিন্ন গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়। তবে এই তিনজনের মাঝে শুধু মাত্র সোনারগাঁ উপজেলার চেয়ারম্যান বাবুল গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চেয়েছেন।

 

কিন্তু বাকি দুজন তেমন কোন ক্ষমা চান নাই বলে জানান রাজনৈতিক মহল। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানান, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। যাতে করে তাদের দেখে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা শিক্ষা পায়। সেই সাথে ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এই ধরনের মন্তব্য করার সাহস না পান।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন