টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা: খুনি সামেদ আলীর মদদ দাতা ইউপি চেয়ারম্যান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০৪:০৩ পিএম
চাঁদা চেয়ে ছিলো, না দেওয়ায় টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় ব্যবসায়ীকে। এরপর সেই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে, বিচার পায়নি। উল্টো শুনেছেন হুমকি! পুরো এই ঘটনার ‘মদদ দাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে’। ফতুল্লার চরাঞ্চল বক্তবলী ইউনিয়নের এই ঘটনায় শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তাই এখন দেশবাসীকে এই বাহিনীর কর্মকাণ্ড জানাতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- ফতুল্লার বক্তাবলীর আকবরনগরের মৃত. ছোবহানের ছেলে সামেদ আলী (৫৬), তাঁর ছেলে মো. ওসমান গনি, মো. রাজিব, মো. সজিব, মো. হৃদয় ও আরিফ। তাদের মদদ দাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকে। ২০১৮ সালে ৯ আগস্ট বক্তাবলীর সামেদ আলী ও ছেলেরা মিলে মুখের মধ্যে টেটাবিদ্ধ করেন জয়নাল আবেদীনের।
পরে সে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সামেদ আলী বাহিনীর ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আর ২৫ জনকে অজ্ঞাত নামা করে মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মাটি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, অভিযুক্ত সামেদ আলীদের এলাকায় রজিম হাজ্বী নামের একটি ইটভাটায় মাটি দিতেন আমার স্বামী।
ঘটনার দিন বিল (মাটি বিক্রির টাকা) আনতে যায়, টাকা নিয়ে ফেরার পথে সামেদ আলী ও তার ৫ ছেলে দলবল নিয়ে আমার স্বামীকে এলোপাথারি মারধর করে, ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখন ৪ বছর চলছে, বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু বিচার পাইনি। কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় না, বিচার পাবো কি না? তা আজও জানি না।
আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই, আর কিছু চাই না। ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের শ্যালিকা রাশিদা প্রধান রাণী জানান, ‘সামেদ আলীরা প্রভাবশালী লোকের সাথে চলে, তাদের মদদ দাতা বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী। এই চেয়ারম্যানের জন্য আমরা থানায় আসতে পারি না, সামেদ আলীদের টাকা খেয়ে থানায় এসে মামলার কাজে হস্তক্ষেপ করে।
তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম, এখন ক্ষন্না করি। শওকত চেয়ারম্যানের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঘুষের টাকা, তার জন্য বিচার পাই না।’ এ ব্যাপারে মদদ দাতা হিসেবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ‘এ গুলো মিথ্যা কথা, আমি এই বিচার প্রভাবিত করতে চেষ্টা করেছি, এর প্রমাণ দিতে পারলে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিবো।
ছামেদ আলীর সাথে আমার কোন সর্ম্পক নেই, আমি যেহেতু জনপ্রতিনিধি, আমার নির্বাচনের সময় আমরা পাশে অনেকেই ছিল, তাই বলে তাদের অপকর্মের দায় আমি নিবো কেন? যেহেতু মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে, আশা করছি, বিচার শেষ হলে যে যার কর্মফল পাবে’।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ নূর জানান, ছামাদ আলী ও তার বাহিনী গত ৩০ বছর যাবৎ এলাকার লোকজনকে নানা ভাবে হামলা, মামলা দিয়ে জিম্মি করে রেখেছে। তারা এখন এলাকার মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের বিরুদ্ধে, হত্যা, ধর্ষন ও চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তারপরেও তাদের দাপটে এলাকাবাসী তটস্থ থাকে। কেউ ভয়ে কথা বলতে পারে না।


