# কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত চলছে জোর লবিং
# সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনকে সামনে রেখে মূল নেতৃত্ব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে সম্ভাব্য নেতৃত্বের মধ্যে বিরাজ করছে ‘নীরব উত্তাপ’। সম্মেলনের খবরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত চলছে জোর লবিং। এবারের জেলা সম্মেলনকে ঘিরে কেন্দ্রে লবিংয়ের কথা শোনা গেলেও স্থানীয়ভাবে সরগরম করা কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না মূল পদ প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে।
আবার অনেকে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড কর্তৃক অতীত কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বাবদ যথাযোগ্য পদ প্রত্যাশা করছেন। তবে সম্মেলন একেবারেই দোরগোড়ায় থাকায় এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
এদিকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে উঠেছেন। জেলা বিএনপির ১০টি ইউনিট কমিটির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সকলেই জেলা বিএনপির আসন্ন সম্মেলনের ভোটার। সম্মেলনের পর কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্টিত হবে এতে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ভোটের মাধ্যমে বাছাই করা হবে। ১০টি ইউনিট থেকে ৭১০জন ভোটার গোপন ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব বাছাই করে নিবেন।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সর্বশেষ জেলা সম্মেলন হয় ২০০৯ সালের নভেম্বরে। সেই সময়ে সভাপতি করা হয়েছিল বিএনপির বহিস্কৃত নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়ে মনিরুজ্জামান মনিরকে। কিন্তু এরপর কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছিল। সেই সময়ে নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে বিভক্ত ও নিষ্ক্রিয় সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা কমিটি ঘোষণার পর কিছুটা গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠেন।
কিন্তু পদপদবি নিয়ে অসন্তোষ ও গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা কমিটি কখনো এক হয়ে কাজ করতে পারেনি। বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে সীমিত পরিসরে চলেছে দলীয় কার্যক্রম। গত এক যুগে জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমায় রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি।
ফলে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এছাড়া জেলা বিএনপির কোনো কার্যালয় না থাকায় দলের কাজকর্মে সেভাবে গতি আসেনি কখনো। কার্যালয়ের অভাবে ঘরোয়া আঙ্গিকে দলীয় কর্মকাণ্ড চলেছে নেতাদের চেম্বারে চেম্বারে। ফলে মাঠের রাজনীতিতে প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়ে দলটি। বিএনপি নেতৃত্ব এ জন্যে সরকারের দমনপীড়ন নীতিকে বরাবরই দায়ী করে আসছেন।
আরও জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্তের তের বছর পর আবারও জেলা সম্মেলন হচ্ছে। কোন্দলসহ মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত দলটির অচলাবস্থা কাটাতে সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।
সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ফিরে এসছে চাঙাভাব। সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে চলছে গ্রুপিং-লবিং। যাঁরা এলাকায় থেকে দলের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম, তাদেরই মূল পদগুলোতেই দেখতে চান নেতাকর্মীরা। বর্তমান কমিটির সভাপতিসহ কমপক্ষে শীর্ষস্থানীয় এক ডজন নেতা এলাকায় থাকেন না। কর্মীদের অভিযোগ, এসব ‘প্রবাসী’ নেতাদের কারণেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দল শক্তিশালী ভিত্তি পাচ্ছে না। কাজেই এবার তাঁদের বাদ দিয়ে কমিটি করতে হবে।
জেলা বিএনপির সম্মেলনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পদক পদে নতুন মুখ আসছে, এটা নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত সভাপতি পদে রয়েছেন সাবেক এমপি বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন,
জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ভিপি মাশুকুল ইসলাম রাজিব নাম আলোচিত হচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী নেতাই নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিয়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে গেলেও সভাপতি পদে নাম আসা নেতাদের অধিকাংশই হাঁটছেন অন্যপথে।
তারা ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী হওয়ার বদলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দোহাই দিচ্ছেন। তবে সাধারণ নেতাকর্মীরা বলছেন, সম্মেলনের মাধ্যমে তারা কোনো একতরফা কমিটি চান না। তারা চান নেতৃত্বের ঐক্য ও সংহতি। এমন নেতাদের কমিটিতে স্থান দিতে হবে যারা দলের বিভক্তি দূর করে দলকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারবেন। তা না হলে এখানে দলকে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পথেই হাঁটতে হবে।
এব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমেই মূলত আমরা কমিটি গঠন করব। সেটা কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটেই হোক মতামত নিয়েই হোক। তবে কমিটি ঘোষণা নারায়ণগঞ্জে হবে না। এটা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা হবে। তবে গত দিনে যারা কমিটিতে থেকেও আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, বাদ পড়বেন শুধু তারা। কোনো তদবিরে কাজ হবে না।


