# যোগ্য লোকের সংকট মনে করছে তৃণমূল
# দিনের পর দিন ঝুলে থাকলে কমিটি শক্তিশালী হবেনা
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সহ জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দল গুলো আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন। ইতিমধ্যে আগমাী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগকে গতিশিল করার লক্ষে মাঠ পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে জেলা পর্যায় চিঠি প্রদান করেছেন। একই সাথে সরকারি দলের কেন্দ্র থেকে জেলা মহানগর পর্যায়ে যে সকল কমিটি হয় নাই তা সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সাথে যে সকল থানা উপজেলা কাউন্সিল এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য থানা গুলোতে কমিটি থাকলেও সদর থানায় কোন আওয়ামীলীগের কিমিটি নেই। আর এতে করে এখানে নাকাওয়াস্তে দলীয় কার্যক্রম চলে। ১৬ বছর পর ২০১৯ সনের ডিসেম্বর মাসে সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। আগামী ডিসেম্বরে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তার মাঝে গত বছর ইউপি নির্বাচনে গোগনগর ইউনিয়নের নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় সদর থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আল মামুনকে বহিস্কার করা হয়।
যার জন্য এখন শুধু এখানে সভাপতি পদে নাজির মাদবর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তৃনমূল নেতা কর্মীদের অভিযোগ ১৬ বছর পর এখানে সম্মেলন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। অপর দিকে বর্তমান সভাপতি নাজির মাদবরও শারিরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পরছে। তাই এখানে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের আলাদা ভাবতে হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন এখানে একজনের কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে কমিটি হবে নাকি একজন দিয়ে চলবে। আর যদি এই ভাবে চলতে থাকে তাহলে আগামী নির্বাচনে সরকারি দলকে পস্তাতে হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে একা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে নাজির মাদবর। আড়াই বছর আগে সম্মেলনের মাধ্য সভাপতি এবং সেক্রেটারি পদে আসেন দুজন। তার মাঝে গত বছরে গোনগর ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় আল মামুন সেক্রেটারি পদ থেকে দল থেকে বহিস্কার হন।
আর এজন্য এখনো পর্যন্ত এই পদ শূন্য রয়েছে। সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সেক্রেটারি পদে আসার জন্য এক ঝাক নেতা মাঠে নেমেছে। তার মাঝে সভাপতি পদে আসতে এবার লড়াইয়ে নেমেছে গোগনগর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। তার সাথে প্রতিযোগি হিসেবে রয়েছেন জসিম উদ্দিন।
অপর দিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে সেক্রেটারি পদে গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম এবং সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকারও আসতে চান। কিন্তু তৃনমূল থেকে জসিমের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে নেতা কর্মীদের কোন খোজ খবর না রাখার কথা জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
তিনি দুই বার নৌকা প্রতীক নিয়ে গোগনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে পরাজিত হন। দলীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ তার মত অযোগ্য ব্যক্তি নৌকা পাওয়ায় এখানে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তি নৌকা পেলে ঠিকই জয়ী হত। গোগনগরে জসিমের পিছনে কোন কর্মী নেই বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
গোনগর আলীরটেকের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের দাবী তারা ইব্রাহিম মোল্লাকে সভাপতি হিসেবে পেতে চান। কেননা তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পরেন। সেই সাথে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন। এর আগেও গত বছরের কাউন্সিলে তিনি সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। তখন অদৃশ্য ইশারায় তাকে বসে পরতে হয়।
এবিষয়ে গোগনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা জানান, আমী ছাত্রলীগে থেকে রাজনীতি করে দীর্ঘ দিনের আন্দোলন সংগ্রাম করে আওয়ামীলীগ করে আসছি। এখানে জসিমের মত লোক জাতীয় পার্টি থেকে এসে আওয়ামীলীগের পদ ভাগিয়ে বড় আওয়ামীলীগার সেজে গেলেই পদ পাওয়া যায় না।
আমি শুনেছি তিনি সদর থানার আওয়ামীলীগে সভাপতি পদে আসার জন্য দৌরঝাপ করছেন। তার মত বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদ দেয়া হলে আমরা মেনে নিব না। তার কারনে গোগনগর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পরছে। তাই সকল বিতর্কের উর্ধে থেকে আমি এর আগেও সদর থানা আওয়ামীলীগে সভাপতি পতে প্রার্থী ছিলাম এবার আছি। সদর থানায় কাউন্সিল হলে আমার বিশ্বাস কর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবে।
সচেতন রাজনৈতিক মহলের মতে বিতর্কের উর্ধে থেকে এই দিক দিয়ে ইব্রাহিম মোল্লা এগিয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী এখন তরুণদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। সেই দিক দিয়ে ইয়ং হিসেবেও তিনি এখানে দায়িত্ব পাওয়া অগ্রাধিকার রাখেন। তবে সচেতন মহলের মতে কোন বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে যেন এই সদর থানা আওয়ামীলীগের দায়িত্ব না যায়।
সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকার জানান, আলীরটেক এবং গোগনগর নিয়ে সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠিত হয়। সে হিসেবে আমি আলীরটেক এলাকার বাসিন্দা হিসেবে এখানে পদে আসার দাবী রাখতে পারি। কাউন্সিল হলে আমার বিশ্বাস আমি সেক্রেটারি পদে থাকবো। জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগে সভাপতি পদে একজন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে একজন দিয়েওতো দলীয় কার্যক্রম চালানো যায় না। আমরাতো আর কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারি না। তাই সদর থানা নিয়ে কেন্দ্রে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে আমরা তাই করবো।’


