দুষ্ট গোয়ালের চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো: শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আমি শেখ হাসিনার মত আল্লাহ ওয়ালা মানুষ কম দেখেছি। করোনার সময় ফ্রন্ট লাইনের যারা যোদ্ধা ছিলেন তাদের মাঝে অন্যতম ছিল, ডাক্তার, নার্স,ওয়ার্ড বয়, যারা সেম্পল সংগ্রহ করেছে তারা।
নারায়ণগঞ্জে স্যাম্পল গ্রহন করার মত লোক ছিলনা। আমাদের দুই ভাইকে এম্বুলেন্স সংগ্রহ করতে হয়েছে। অনেক জায়গায় লাশ পরে ছিল কিন্তু কেউ ধরে নাই। বাবার মৃত্যু হয়েছে অথচ সন্তান ধরছে না। তবে কেউ না কেউ ধরেছে এবং তাদের সৎকার ও দাফনের ব্যবস্থা করেছে। শনিবার নগরীর সমবায় মার্কেটে জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, সারা বিশ্ব যখন ভেঙ্গে পরেছিল তখন ডাক্তাররা প্রধানমন্ত্রীর ডাকে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সেবা দিয়ে গেছেন। তাদের কোন পোশাক ছিল না, কোন ধরনের প্রস্তুতি ছিলনা তার পরেও যে যেভাবে পেরেছে সেবা দিয়েছে। চিকিৎসকদের সাথে হাজার হাজার মানুষের সাথে সম্পর্ক। আমি জীবনের একটা জায়গায় অসহায় বোধ করি। আর তাহলো আমার কোন রোগ হলে আমি হাসপাতালে যাই না।
এমপি শামীম ওসমান বলেন, গত কয়েক দিন আগে কৃষকলীগের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে উৎখাত করার জন্য দেশ এবং দেশের বাইরে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের সাথে জামাত বিএনপি, স্বাধীনতা বিরোধী, ড. কামাল, মান্না বাসদ, কমিউনিষ্ট পার্টি জড়িত আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই যারা ষড়যন্ত্রে করছে তাদের মোকাবেলা করার মত শক্তি আমাদের আওয়ামীলীগের আছে।
কিন্তু সমস্যাটা করছে ঘরের ভিতর খন্দকার মোশতাকেরা। জাতির পিতাকে হত্যা করার পিছনে আন্তর্জাতিকভাবে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমরা জাতির পিতাকে বাঁচতে দেয় নাই। খন্দকার মোশতাকেরা তাকে হত্যা করেছে।
তেমনভাবে এই খন্দকার মোশতাকেরা কত সক্রিয় তা নারায়ণগঞ্জে তাকালে বুঝা যায়। এখানে ২৬ বছরের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা যখন মামলা হুলিয়া প্রাপ্ত হয় তখন বুঝি মোশতাকরা কোন না কোন ভাবে সক্রিয় আছে। এবং তারা সমানে থাকবেন। রমজান সংযমের মাস আর না হয় আর একটু ভালো ভাবে বলতাম।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপির মির্জা আব্বাস বলছেন, রমজানের পরে নাকি আন্দোলন কতপ্রকার ও কিকি তা দেখাবেন। আমরা ছোট বেলার খেলোয়ার, আপনারা কবে খেলতে নামবেন বলেন। আমরা বলেছি খেলা হবে। আমরা খেলতে প্রস্তুত আছি। আমি শুধু আমার দলের নেত্রীর কাছে একটা আহবান জানাই দুষ্ট গুরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল অনেক ভালো।
কালমার্কস বলেছিলেন, একটা এলাকায় লড়াইয়ের জন্য আদর্শচুত্য গেরিলার চেয়ে একজন সঠিক গেরিলা লোক যথেষ্ঠ। সামনে আঘাত আসবে। এই আঘাত সরকার পরিবর্তনের না। এই আঘাত হবে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার আঘাত। নারায়ণগঞ্জ হলো এই আঘাতের ক্ষেত্র। চারদিক থেকে নারায়ণগঞ্জ ঘেরাও করা আছে। তাদের কারনে খোকন সাহার চোখে পানি আসে,
চন্দনশীল পা হারিয়ের পঙ্গুত্ব হয়ে জীবন যাপন করেন। তার পরেও বলছি যারা হুমকি দিতে চান তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনার সংশোধন হন। এই রোজার মাসে আল্লাহ আপনাদের হেদায়াত করুক। কিন্তু আপনারা যদি ধ্বংসের এবং শয়তানের পথে যান তাহলে আমরাও শান্তির পক্ষে খেলা খেলবো। আর এ খেলাই আমরাই জিতবো। কেননা আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।
শামীম ওসমান আরো বলেন, আমরা করোনার সময় দেখেছি। এই নারায়ণগঞ্জে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে বাবার লাশ ছেলে ধরতে চাইত না, ছেলের লাশ বাবা ধরতে চাইত না। এই বাবুরাইলে আমাদের গিটারিস্ট হীরুর লাশ ঘন্টার পর ঘন্টা পড়েছিল। কেউ এগিয়ে আসেনি, পরে তা উদ্ধার হয়েছে। আমরা দুই ভাই এ্যাম্বুল্যান্সের জন্য দৌঁড়িয়েছি।
যতটুকু করা সম্ভব আমাদের সাধ্যের মধ্যে আমি আমার ভাই আমার স্ত্রী ছেলে আমরা করতে চেষ্টা করেছি। আমি দেখেছি ডাক্তারদের শরীর ক্লান্তিতে চলছিল না তবুও তারা হাসপাতালে যাচ্ছে। সেদিন একজন লোক অসহায় হয়েছিল আমি তাদের কাছে নিয়ে গেলাম বলল ঢাকায় পাঠান,
আজিজ স্যারের সাথে কথা বললাম। তারপর ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম। চিকিৎসা পাওয়ার পর সে আমাকে টেক্সট করেছে আল্লাহ আপনার ভাল করুক। আমার কাছে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান কথা। আপনারা তো প্রতিদিনই এমন হাজার হাজার দোয়া পান।


