Logo
Logo
×

রাজনীতি

বর্তমান রাজনীতি ও খোকন সাহাকে নিয়ে যা বললেন শাহ্ নিজাম

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৫০ পিএম

বর্তমান রাজনীতি ও খোকন সাহাকে নিয়ে যা বললেন শাহ্ নিজাম
Swapno

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ‘পরীক্ষিত এক ব্যক্তির নাম খোকন সাহা’। অনেকের কাছে ‘খোকন দাদা’ নামেই বেশ পরিচিত। দীর্ঘ ২৬ বছর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মীদের আগলে রেখেছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দল থাকা অবস্থায় হয়েছে হামলা, মামলা আর নির্যাতণের শিকার।

 

অথচ, আজ তাঁর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও মামলার পলাতক আসামী তিনি। রাগ, কষ্ট আর ক্ষোভে তাঁরই সহযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম একটি আবেগি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর ফেসবুকে। সেখানে তুলে ধরেছেন বর্তমান রাজনীতির পরিস্থিতি ও ‘খোকন সাহাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মানষিক ভাবে দূর্বল হলে দলের ক্ষতির কথা।

 

’ জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালে প্রতিবাদ করার মধ্যদিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন খোকন সাহা। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। শহর যুবলীগে থাকায় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ব্যাপক আলোচিত খোকন সাহাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

এরপর দীর্ঘ ২৬ বছর চলে গেছে, দল ও নেত্রীর নির্দেশনার বাহিরে যায়নি। সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করে আগলে রেখেছেন নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি জিউস পুকুর নামের একটি দেবোত্তর সম্পত্তি দখল মুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধ সামাজিক-ব্যবসায়িক-আইনজীবীসহ ২২টি সংগঠনের সাথে আন্দোলনে নামেন এডভোকেট খোকন সাহা।

 

‘হিন্দুস লাইভস মেটারস’ ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চেষ্টার অভিযোগ এনে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি খোকন সাহার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আইভী। সেই মামলায় ২১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁরই প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম তার নিজ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছে।

 

এর-ই মধ্যে স্ট্যাটাসটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভিতরে। পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:- পত্র পত্রিকা টিভিতে বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় শুনতে পাচ্ছি দেশে নাকি মহা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঐদিন দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতির বক্তব্যে উনি শ্রদ্ধা ভরে বিশ্বাস ঘাতক খন্দকার মোশতাকেও স্মরণ করলেন।

 

এটা নিয়ে সভাপতির বক্তব্য নিয়ে তুমুল সমালোচনা করা হচ্ছে, সভাপতির কুশপুত্তলিকা দাহ করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ এটা নিয়ে বলছে না ওনাকে সভাপতি বানানোর পিছনে যারা কাজ করেছে তারা কারা??আসলে আমরা হয়তো মুল জায়গায় যেতে পারছি না।আসলে এ দলটা চালাচ্ছে কে?? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাতৃতুল্যো নেত্রী বিশ্বমানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার বাইরে এই দলের তৃনমুলের আশ্রয়ের জায়গা কোথায়??? ৩০/৪০/৫০ বছর যাবৎ যারা রোদে

 

পুরে বৃষ্টিতে ভিজে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছেন এদের মূল্য কোথায়?? দলে এখন জায়গা হচ্ছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ, ব্যারিস্টার, ডক্টরেট করা লোকদের। তৃণমূলের তো কোন স্টাটাস নাই, ওদের গায়ে ঘামের গন্ধ, ময়লা পোশাক, রিক্সায় কিংবা বাসে চলে ওরা। এদের গায়ে তো কোন ব্রান্ডের কাপড় নাই,

 

দামী পারফিউম এর গন্ধ আসে না এদের গা থেকে। হাতে থাকে না দামী ঘড়ি। নতুন মডেলের গাড়ি থেকে এরা নামে না। ওরা তো আনকালচারড, আনসোশাল, ওদের তো মূল্য দেয়ার কিছু নাই।

 

কিন্তু জাতির জনকের কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন, ওরাই দলের মূল চালিকা শক্তি, ওরাই দলের দূঃসময়ে বোকের তাজা রক্ত দিয়ে জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে ওরাই নতুন করে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বানানোর জন্য। এই তৃনমূলই দলের অক্সিজেন এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন ও বুঝেন।

 

আমি ছোট মানুষ মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী শেখ হাসিনা আপা দয়া করে দলের ত্যাগি নেতাকর্মীদের ডেকে ওনাদেরকে একটু মূল্যায়ন করেন, সন্মানিত করেন। এরা হয়তো কখনো দলের সাথে ও আপনার সাথে বেঈমানী করবে না কিন্তু মানষিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়লে দলের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। যারা সেন্টেড বুটেড ওরা কিন্তু এসি রুম ছেড়ে রাজপথে আসবে না।

 

গরম ওদের সহ্য হয়না, শরীর ঘামালে ওদের খারাপ লাগে। একটু খেয়াল দিন তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের দিকে। বিশেষ করে যে লোকটি খোকন সাহা ২৬ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জ শহর ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হচ্ছে দলের ভীতরে থাকা একজনের করা মামলায়। এসব কিসের আলামত? কোথায় আমাদের নিরাপত্তা। অযোগ্য হলে দল থেকে বের করে দেন। আপনি শাস্তি দেন বহিষ্কার করেন মাননীয় নেত্রী। কিন্তু ৪৭/৪৮ বছর রাজনীতি করার পরে এ অপমান সহ্য করা অনেক কস্টের। ভুল কিছু বলে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন