মামুন মাহমুদ ছুরিকাহত, গ্রেফতার জুয়েল রিমান্ডে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২২ পিএম
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে (৫৪) ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেফতার জুয়েলকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর পল্টনে কস্তুরী হোটেলের সামনে ছুরিকাহত হন মামুন মাহমুদ। ঘটনাস্থল থেকে জুয়েলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।
এদিকে এই ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাগর সিদ্দিকী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জুয়েলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে সাগর সিদ্দিকী এই ঘটনার সাথে জড়িত কিনা তা যাচাই-বাছাই চলছে। তাকে আপাতত পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, নিউ মার্কেটের দোকানি ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতেই জেলা ছাত্রদলের মিছিলে ছিলেন সাগর সিদ্দিকী। কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, ‘মামুন ভাই আমাদের নেতা। তার সাথে দ্বন্দ্বের কোন প্রশ্নই আসে না। স্বার্থান্বেষী একটি মহল সাগর ভাইকে ফাঁসানোর জন্য পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আটক করিয়েছে। তার মুক্তি এবং হামলকারীদের শাস্তির দাবি জানাই।’
সাগর সিদ্দিকীর পরিবারের লোকজনের দাবি, নেতাকে দেখতে গিয়েছিল সাগর সিদ্দিকী। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ফায়দা লোটার জন্য তাদের সন্তানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
ছুরিকাহত মামুন মাহমুদ সোনারগাঁয়ের ফজলুল হক মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ছুরিকাহত অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মামুন মাহমুদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ইউসুফ আলী জানান, পল্টন এলাকায় মামুন মাহমুদের একটি অফিস আছে। অফিস থেকে বেরিয়ে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কয়েকজন তার গতিরোধ করেন। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে মামুন গুরুতর আহত হন।
এই বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলেও তারা হামলার কারণ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে স্থানীয় বিএনপির সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
৪১ সদস্যের এই কমিটিতে তৈমুর আলম খন্দকারকে আহ্বায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্যসচিব করা হয়। তাদের অধীনে অনুমোদন দেওয়া ইউনিট কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিএনপির নেতাদের মধ্যেও অন্তর্ন্দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে এই সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, ‘সোমবার আমাদের দলীয় বৈঠক ছিল পল্টনে মামুনের অফিসে। দুপুর ৩টা থেকে আমাদের বৈঠক চলে। ইফতারের পর আমরা চলে আসি। কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে জানি না। যদি ছিনতাইকারীরা এ কাজ করতো তবে তো টাকা পয়সা নিতো। অন্যকিছু থাকতে পারে।’


