# বিএনপি নেতৃত্বে পরষ্পরের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে
আঁধার ঘরে সাপ তো সারা ঘরেই সাপ। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ছুরিকাহত করার পর এমনি অবস্থা বিরাজ করছে বিএনপির মধ্যে। এ ঘটনায় দলীয় নেতৃত্বের মাঝে পরষ্পর পরষ্পরকে অবিশ্বাস শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা পল্টনের কস্তুরী গলিতে মামুন মাহমুদ ছুরিকাহত হন।
এ সময় তার সঙ্গে জেলা বিএনপি বারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সোনারগাঁ থানা বিএনপি সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন ছিলেন। তবে তাদের থেকে এলোমেলো ভাষ্য পাওয়া গেছে। যেমন, মনিরুল ইসলাম রবি বলেছেন, পল্টনে মামুন মাহমুদের একটি অফিস আছে। সে অফিসে তারা কয়েকজন একটি বৈঠকে বসেছিলেন।
ইফতারের পর এ অফিস থেকে বের হয়ে ফুটপাত ধরে আসার সময় তিন-চার জন যুবক তাদের পথরোধ করে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই একজন মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তাদের চিৎকারে পথচারীরা এক যুবককে ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে সোপদ্দ করা হয়। রবির ধরিণা, এটা কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। কারণ, তাদের কিছু খোয়া যায়নি।
এদিকে, মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পল্টনে পার্টি অফিসে ইফতার করে ফেরার গথে কস্তুরী হোটেলের সামনের ফুটপাতে পেছন থেকে তিন যুবক দৌড়ে এসে তাদের হামলা করে। এ সময় পথচারীরা এক যুবককে ধরে ফেলে।
এ ব্যপারে পল্টন থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় কস্তুরী গলিতে একজন ছুরিকাহত হয়েছে।এ সময় পথচারীরা জুয়েল নামে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয়। দুজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জুয়েল ছিনতাইকারী কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামুন মাহমুদ দলীয় অন্তর্কোন্দলে আহত হয়েছেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ সব কারণেই গত ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলন ভন্ডুল হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের কর্মীদের মাইনাস করে সেদিন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলেই গিয়াসউদ্দিনের কর্মীরা সম্মেলনে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালিয়ে সম্মেলন পন্ড করেছিল।
এদিকে, ঢাকায় মামুন মাহমুদের ছুরিকাহত হওয়ার পেছনেও গিয়াসউদ্দিনের হাত রয়েছে বলে বিএনপির একটি মহলের সন্দেহ। তবে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মামুন মাহমুদের উপর এ হামলাকে হত্যা চেষ্টা অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন এবং অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেছেন।
তবে বলাইবাহুল্য, সিদ্ধিরগঞ্জে সম্মেলনে হামলা এবং মামুন মাহমুনের উপর হামলার পর এপ্রিলে আর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির জেলা সম্মেলন সম্ভব না বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। অথচ, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সেই নির্দেই ছিল। জেলার ১৫টি ইউনিটের মধ্যে এখনও ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সম্মেলন বাকি। এর মধ্যে রয়েছে ফতুল্লা ও রূপগঞ্জ থানা এবং কঞ্চন ও তারাবো পৌরসভা।


