‘উপরে থুথু ফেললে থুথু নিজের উপরই পড়ে’
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২২, ০৪:১১ পিএম
# কাজলের খারাপ কিছু পেলে কোন অবস্থাতেই তাকে ছাড় দেবোনা
# অমুক্তিযোদ্ধা হয়ে মুক্তিযোদ্ধার সমালোচনা করা বড় অন্যায়
নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের পিতা গোলাম রব্বানীকে মুক্তিযোদ্ধাদেও সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসনে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বেশ সরগোর তৈরি হয়। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন ও রীতা ভৌমিকের বইয়ে গোলাম রব্বানীকে শান্তিকমিটির সদস্য ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া তৎকালীন পত্রিকাগুলোতেও একই বিষয় প্রকাশিত হয়। এব্যাপারে এতোদিন পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এই প্রত্যয়নপত্র দেয়ায় তাকে নিয়েও নানা সমালোচনা তৈরি হয়। এব্যাপারে এতোদিন পর মুখ খুললেন এমপি সেলিম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের রাজনীতি হওয়া দরকার।
এখানে মিথ্যা কথা বলে রাজনীতি করা বোধ হয় আর উচিত হবেনা। কে সমাজের কাজ করছেন এটাই বড় কথা। কাজ করতে গিয়ে আমি অন্যায় করছি কিনা এটা দেখার বিষয়। এটা দেখার বিষয় না যে খতিয়ান বের করবেন। খতিয়ান বের করতে গিয়ে যদি কাউকে মুক্তিযোদ্ধা বানান আবার কাউকে রাজাকার বানান, তাহলে উপর দিকে থুথু ফেলতে গেলে কিন্তু থুথুটা নিজের উপরই পরে।
সুতরাং কে কি এটা আমার দরকার নাই। নারায়ণগঞ্জের জন্য কে কাজ করছেন সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। বর্তমান জমানায় সে যদি খারাপ হয়, সে যদি আমার আপন ভাইও হয় তার সাথে আমি চলবো না। আর যে ভাল কাজ করে যে যদি আমার সৎ ভাইও হয় অবশ্যই তার সহযোগীতা আমি নিবো। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জাহাজে আনন্দ ভ্রমন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যেকোন অনুষ্ঠান করতে খালেদ হায়দার খান কাজল আমাকে সহযোগিতা করেছে।
আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদি কোনদিন ব্যক্তি কাজলের খারাপ কিছু পাই তাহলে আমি তাকে কোন অবস্থাতেই ছাড় দিবোনা। আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানেই কাজলকে দেখেছেন। কারো গীবত করা ভালনা। আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলছিনা।
আসেন পরোসমালোচনা না করে আত্মসমালোচনা করি। আসেন সমস্যা যত বড়ই হোকনা কেন এক টেবিলে বসে আলোচনা করলে ওই টেবিলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন রোজার আগে রাস্তায় যানজটের কি সমস্যা ছিল।
আলোচনায় বসে সেটার কিন্তু একটা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। যে কেউ যদি আলোচনা করেন আমরা সহযোগীতা করবো। যার যার স্থানে সেই সেই কাজটা করতে পারবে।
গতকাল শুক্রবার বাদ আসর নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, মোহাম্মদ আলী সাহেবকে নিয়েও আজকাল প্রশ্ন তুলে উনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধেও ৫১বছর পর আজ প্রশ্ন উঠে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল আর কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলনা। এটা সরকার বের করবে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল আর কে ছিলনা।
অমুক্তিযোদ্ধা হয়ে মুক্তিযোদ্ধার সমালোচনা করা, এর থেকে বড় অন্যায় আর কিছু হতে পারেনা। আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাড়িঘর জীবনের মায়া ছেড়ে আমরা যুদ্ধ করেছি। তখন কোথায় ছিলেন আপনারা? আর আজকে? নব্য আওয়ামীলীগার আর নব্য মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার চিন্তা ভাবনা কইরেন না। উপর দিকে থুথু দিলে নিজের দিকে পড়বে। ইতিহাস কিন্তু বেরিয়ে যাবে।
ইতিহাস কখনো চাপিয়ে রাখা যায়না। আমি কারো গীবত না করে সরাসরি বললাম। আমরা কারো গীবত করবো না, কারো সমালোচনা করবো না আমরা আত্মসমালোচনা করবো। মোটা ভাত আর মোটা কাপড়ের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি। আজকে আমরা চাল আর কাপড় রপ্তানি করি। আবারো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী ৫ বছরের জন্য তিনি যেন আবারো ক্ষমতায় আসতে পারেন সেই জন্য আমাদের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন,
সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার শাহজাহান ভুইয়া জুলহাস, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা দোয়ায় অংশ নিয়েছেন। এমপি সেলিম ওসমান তাঁর বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম তমিজ উদ্দিন রিজভী, কমান্ডার আমিনুর রহমান, আব্দুস সাত্তারকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।


