# এক পক্ষ দুষছেন গিয়াসউদ্দিনকে
# আঙ্গুল উঠছে শাহ আলম ও আজাদের দিকে
জেলা ও মহানগর বিএনপি ছন্নছাড়া অবস্থায় চলছে গত এক দশক ধরে। নানা কমিটি আসলেও সেগুলো নিজেদের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় সফল কোন ভূমিকা রাখতে পারছেনা। মহানগর বিএনপির তুলনায় জেলা বিএনপির কার্যক্রম তুলনামুলক জোরালো হলেও নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করে রাখা বলয়ের রাজনীতির কারণে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিতেই পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় মামুন মাহমুদ ছুরিকাঘত হওয়ার পর থেকে একের পর এক ব্যক্তি আক্রোশের বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান জেলা বিএনপির কমিটির মাধ্যমে থানা, পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই কমিটিগুলো নিয়ে জেলার বিএনপি সাবেক নেতা ও তাদের কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্র বলছে, জেলা বিএনপির আহবায়ক পদে থাকা অবস্থায় বিএনপির এড. তৈমূর আলম খন্দকার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তার আগে থেকে তৈমুর ও মামুন মাহমুদের আহবায়ক কমিটি ও তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ ছিল জেলার বিভিন্ন থানাগুলোর বিএনপি নেতাদের মধ্যে।
এটির মাত্রা চরমে পৌঁেছছে তার নজির মিলল মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনায়। এই হামলার ঘটনার জন্য একদিকে বর্তমান জেলা বিএনপির নানা সিদ্ধান্তকে দায়ী করছে একটি মহল অপরদিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন ও তার কর্মীদের দুষছেন আরেকটি পক্ষ।
এছাড়া ফতুল্লার ছাত্রনেতা সাগর সিদ্দিকীকেও দায়ী করছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে দায়ী করা সব পক্ষই মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, মামুন মাহমুদের উপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গিয়াসউদ্দিনের ছেলে জিএম রিফাতকে মাস্টার মাইন্ড বলছে একটি পক্ষ। সেই পক্ষের দাবির সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াসউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা নিবাসে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে রিফাতকে আটক করা সম্ভব হয়নি। রিফাতের অনুসারী অনেক ছাত্রদল নেতাও মামুন মাহমুদের উপর হামলার ক্ষেত্রে দায়ী হতে পারে বলে জানায় সূত্র।
তাদের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে মামুন মাহমুদের অনুপুস্থিতে সম্মেলন অনুষ্ঠানে গিয়াসউদ্দিন অনুসারী কাউন্সিলর ইকবাল ও তারো বেশ কিছু নেতাকে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। তখন অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি। তবে তিনি কিংবা তার সমর্থকরা ওই সংঘর্ষ থামাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মনিরুল ইসলাম রবি এবং মামুন মাহমুদ সাবেক বিএনপি নেতা শাহআলমের প্রেসক্রিপশনে কাজ করেন এমন অভিযোগ অনেক তৃণমূল কর্মীর। আবার এতে মূল কলকাঠি নাড়ান আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদ। আজাদের প্রেসক্রিপশনেই জেলা বিএনপি তো বটেই, যুবদল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য কমিটি সাজানো হয়।
এসব কমিটিতে সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকারসহ আরো বেশ কিছু নেতার অনুসারীদের সবসময় বাদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কর্মকান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একাংশকে সাথে নিয়েই করা হয় বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।
মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত সাগর সিদ্দিকী সরাসরি বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরীর অনুসারী বলে চাউর করছে একটি মহল। রিয়াদ চৌধুরী পরোক্ষভাবে সাবেক জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ আলমের অনুসারী বলে পরিচিত। তাছাড়া জেলা বিএনপি নেতা রুহল আমিন শিকদারকেও অন্যতম কুশিলব বলে অভিহিত করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনায় এসকল কিছু মিলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র। তবে সবগুলো অভিযোগই আমলে নেয়ার মত বলে মানছেন খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরা। গিয়াসউদ্দিনের কর্মীরা দীর্ঘদিনে ব্যাকফুটে থাকা নিয়ে ক্ষোভ যেমন তৈরি হতে পারে, আবার গিয়াসউদ্দিনকে ফাসাতে শাহআলমের অনুসারীরাও মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করতে পারেন বলে মত তাদের।
এক্ষেত্রে যখনই এধরণের কোন ঘটনা ঘটে তখন সটকে পড়েন আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ। আজাদই গত কয়েকবছর ধরে ঢাকার একটি হোটেলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে।
যা নিয়ে পুরো জেলায় বিএনপি নেতাদের মধ্যেই ক্ষোভ বিরাজমান। বিএনপি কর্মীরা বলছে, ঈদের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা যেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তাতে কোনক্রমেই সাড়া দিতে পারবেনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। পুরো জেলায় বিএনপি যে বলয় কেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিভক্ত তা মামুন মাহমুদের উপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আবারো প্রকাশ্যে এলো।


