# কমিটির রাজনীতি করেননা কিন্তু ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কিসের
# জুন মাসে দলবল নিয়ে খেলবেন তিনি
# খেলার কথা বলে তৃণমূলকে বিভ্রান্ত করেন তিনি : জাহাঙ্গীর
সারাদেশের রাজনীতিতে চটকদার বক্তব্যের জন্য প্রসিদ্ধ সাংসদ শামীম ওসমান। বিশেষ করে শামীম ওসমানের খেলা হবে ডায়লগটি তো দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও অন্য রাজনীতিবিদরা লুফে নিয়েছেন। মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মেছে শামীম ওসমান থাকবেন আর খেলা হবেনা এমনটি হতেই পারেনা। তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই খেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন তিনি।
যে কোন সময়ই তিনি খেলা খেলবার আগাম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অদৃশ্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত একবছরে শামীম ওসমানের খেলা হবে সংলাপটি বারবার তার মুখ থেকে বেরিয়েছে। নানা বিষয়ে আগাম খেলার খেলবার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবারও অদৃশ্য প্রতিপক্ষের প্রতি খেলার আগাম নিমন্ত্রণ জানিয়ে দিয়েছেন শামীম ওসমান।
তবে বয়সের ভারে আগের মতো খেলার মনমানসিকতা তার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, গত সিটি নির্বাচনের আগে থেকে থেকেই শামীম ওসমানের রাজনৈতিক প্রভাব আশঙ্কজনকহারে হ্রাস পেয়েছে। হুঙ্কার, গর্জনেও তার একসময়ের অনুগত কর্মীরা নড়াচড়া করছেননা। এমনকি অনেকেই তাকে ছেড়ে অন্যত্র ভিড়েছেন।
নতুন কেউও শামীম ওমসানের সেসব বক্তব্যে অনপ্রাণিত হয়ে তারদিকে ঝুঁকছেননা। তীব্র কর্মীসংকটে রয়েছে তিনি। আর এর কারণ হিসেবে ঘন ঘন নানা হুঁশিয়ারি আর অজানা আশঙ্কার সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে না পাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করে তার কর্মীরা।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের অবস্থান দল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে পরিষ্কার হয়েছে। বেশ কিছু কমিটি ভেঙে দেয়া আর সিটি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের উত্তাপ, অভিমান, বিদ্রোহ, কমিটি বাতিলের ঘটনায় শামীম ওসমান অনুসারী অনেক নেতাই বাদ পড়েছেন।
সিটি নির্বাচনের পর একের পর এক পালক যুক্ত হচ্ছে সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের। এর ছাপ পড়তে পারে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে এমন বিষয়ও সামনে আসছে। নানা গরম বক্তব্য দিয়েও শামীম ওসমান তার নেতাকর্মীদের চাঙা করতে পারছেননা। ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন শামীম ওসমান।
কিন্তু তিনি এখন অবধি তা করেননি। শামীম ওসমান শুক্রবার আবারো খেলা হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছু উত্তপ্ত কথা বলেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমাদের চুপথাকাটা অনেকেই দুর্বলতা ভাবছেন। আমি তাদের বলতে চাই আমরা দায়িত্বশীল চুপ থাকি। একটা রাজাকারের বাচ্চা আছে তিনি কোন এক জায়গায় বললো খোকন সাহার নামে মামলা হলে শামীম ওসমান বলেছিল এই নারায়ণগঞ্জে শুধু মাথা আর মাথা দেখা যাবে।
মাথা দেখা যেতে পারে তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে রমজান মাস সংযমের মাস। সব কিছু মিলিয়ে আমরা কার বিরুদ্ধে কথা বলবো। যারা দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন আবার মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মামলা করে ওয়ারেন্ট ইস্য্ ুকরে সে বিষয়ে আমি সাধারণ মানুষের কাছে ছাড়তে চাই।
তারা যেভাবে আমাকে গালাগালি করে তাহলে তাদের নামে আমার ডেলি ১০ টা করে মামলা করার কথা। কিন্তু আমি করি না। এবং করবোও না। নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশিল সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার নারায়ণগঞ্জকে অন্য কারো নারায়ণগঞ্জ বানাবেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাদের স্লোগান খেলা হবে তা সারা পৃথিবীতে চলে গেছে। আমরা জানি কেমনে খেলতে হয়।
প্রবেমলেমটা হচ্ছে আমাদের এখন বয়স হয়ে গেছে। অনেকে এক সেকেন্ডের জন্যও আওয়ামীলীগ না করে অনেকে অনেক কিছু পেয়েছেন। তার পরেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। নেত্রীর প্রতি আনুগত্য থাকেন। জাতির জনকের কন্যা কৃষকলীগের মিটিংয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। সেই আঙ্গিকে আপনি নারায়ণগঞ্জের মহানগরে মিটিং করবেন করেন।
আমি আপনাদের বক্তব্যটা শুনতে চাই এই বক্তব্য কাদের বিরুদ্ধে হয়। জামাত বিএনপি, ওয়ান এলিভেনের বিরুদ্ধে হয় নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্যে হয়। যদি তাদের বিরুদ্ধে তাহলে আমি তাদের স্যালুট জানাই। তাদের কর্মী হিসেবে আমি কাজ করবো। আর যদি তাদের বিরুদ্ধে না হয় তাহলে আমি সরি আপনারা পারবেন না। কারণ আমরা খুব শিগ্রই মাঠে নামছি।
শরীরটা এখন অসুস্থ্য আছে দেশের বাহিরে যাবো। সমানে পার্লামেন্ট আছে সামনে আগষ্ট মাস। আমরা আগষ্টে আগে জুনেই মাঠে নামবো। এবং আমরা প্রমাণ করবো জনগণের শক্তির সামনে পৃথিবীর কোন ষড়যন্ত্র টিকে নাই টিকবেও না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। মৃত্যুর মুখেও বলি আগে শেখ হাসিনাকে বাচান। শেখ হাসিনার নারায়ণগঞ্জকে যদি কেউ নষ্ট করতে চায় করা জবাব দেয়া হবে।
আর কিছু কথা পার্লামেন্টেও বলবো। লন্ডনের এক নেতা তাদের এমপি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বক্তব্য দেয়ানো হয়েছে। তাই এর জবাব আমি পার্লামেন্টে দিবো। আর যারা সততার মুখোশ পরে আছেন আমি আর আপনাদের মত না যে খোকন সাহার নামে মামলা করবো। কারণ নিজের দল করি উপরে থুথু ফেললে নিজের উপর পরে।
আমরা চাই সকলে মিলে মিশে কাজ করি। কিন্তু কেউ যদি মুখে বড় বড় কথা বলেন তাহলে মুখোশটা উম্মোচন করে দিবো। আমার প্রমাণ ছাড়া কোন কথা বলি নাই। কথা বলবোও না। কিন্তু দলের এবং নেত্রীর স্বার্থে চুপ থাকি। ধৈর্য্য ধারণের চেষ্টা করছি।
নারায়ণগঞ্জে যে যেখানে যত গোপন মিটিং করছেন এবং যারা পাওয়া হিসেব নিয়ে খেলছেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমরা মাঠে খেলতে নামবো। তখন আপনারা এই খেলার সামনে পাঁচ মিনিটও টিকবেন না। আও যদি বাই এনি চাঞ্চ মাথা গরম হয় তাহলে কিন্তু সময়ও বেশি পাবেন না। আমাদের কোন কমিটির রাজনীতির দরকার নেই।’
এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শামীম ওসমান কমিটির রাজনীতি করেননা কিন্তু দলীয় কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি প্রতি ওয়ার্ডে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট কিসের কমিটির ফরম ছেড়েছেন।
এছাড়া শামীম ওসমান নানা অদৃশ্য মহলকে ইঙ্গিত করে নানা হুঁশিয়ারি দেন যা আগের মতোই মনে করেন তার কর্মীরা। আদতে শামীম ওসমান যা বলেন তার সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বারবার একই সুরের বক্তব্য দেয়ায় তার কথার মূল্যায়ন কমে গেছে বলে মনে করেন তার অনুগত কর্মীরাই।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শামীম ওসমান শুধু খেলার তারিখই বলে যায়। আসলে এটা তার মুদ্রাদোষ। আমরা যখন তোলারাম কলেজে ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম শামীম ওসমান তখন খেলার সুযোগ পেতনা।
কীভাবে খেলতে হয় আমরাও জানি। অযথা এসব খেলার কথা বলে তৃণমূল নেতাকর্মীকে তিনি বিভ্রান্ত করেন। কমিটির প্রতি আকর্ষণ না থাকলে উনি কীভাবে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট অদ্ভুদ কমিটির ফরম ছাড়ে। আর যে প্রোগ্রামে অসব কথা তিনি বলেছেণ সেই শ্রমিক লীগ তো ভেঙে দিয়েছে।


