# সিটি এলাকায় মেয়র যেতে পারবেনা গঠনতন্ত্রে তো এমন কথা নেই
# মেয়রের সমর্থন পেয়েছিলেন, ভোলেন কি করে : জিএম আরাফাত
জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নানা সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছেন। খোকন সাহা অভিযোগ করেছেন মেয়র আইভী মহানগর আওয়ামীগকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। খোকন সাহা এসব সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।
তিনি খোকন সাহাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খোকন সাহা যেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেছেন কথাগুলো, সেই জেলা শ্রমিকলীগই বিভক্ত। সারাদেশের জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিলুপ্ত জেলা শ্রমিকলীগের মিটিংয়ে গিয়ে খোকন সাহা এমন কথা বলে নিজেই গলদ তৈরি করেছেন।
মেয়র আইভীকে নিয়ে খোকন সাহা যেসব অভিযোগ করেছেন তার প্রতিত্তুরে জিএম আরাফাত বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার মেয়র ডা.আইভী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা। সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোন ওয়ার্ডের তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে যেতে পারেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে না থাকলে যে তিনি তার নির্বাচনী অধিভুক্ত এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে যেতে পারবেননা, কথা বলতে পারবেনা এমন হিসেব খোকন সাহা কোন গঠনতন্ত্রের নিয়মে বলেন।
গঠনতন্ত্রে তো এমন কথা নেই। যে সিটি এলাকার মেয়র সিটি এলাকার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভায় যেতে পারবেননা অতিথি হিসেবে। সিটি মেয়র হিসেবে সিটির সবগুলো ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি এবং অতিথি হিসেবে মেয়র আইভী কথা বলার এখতিয়ার রাখেন। এতে কোন বাধা নেই।
খোকন সাহা মেয়রকে জড়িয়ে এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হিসেবে আরাফাত মনে করেন, কাউকে তুষ্ঠ করতেই মেয়র আইভীকে নিয়ে খোকন সাহা এসব কথা বলছেন। এছাড়া মেয়র আইভীকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে খোকন সাহার তো একটু খারাপ লাগবেই। কিন্তু খোকন সাহা কী করে ভুলে যান,
খোকন সাহা যখন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তখন মেয়র আইভী তো তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন। তখন তো আরো অনেক ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা থাকলেও খোকন সাহাকে মেয়র আইভী সমর্থন যুগিয়েছিলেন। এখন খোকন সাহা তো এসব কথা বলবেই, কারণটাও সবার জানা।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার জাতীয় শ্রমিক লীগ নারায়ণগঞ্জ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মহানগর আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, গত মঙ্গলবার আমি অইসিটির একটি মামলায় জামিন নিলাম। জামিন নেওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জের কোন কোন নেতা বলে বেড়াচ্ছেন খোকন সাহাকে আদালত সমন দিয়েছেন, খোকন সাহা হাজির হলে তাহলে আর ওয়ারেন্ট হতো না।
যারা এই কথাটি বলেছেন তারা অত্যন্ত মিথ্যে কথা বলেছেন। আমাকে আদালত থেকে কখনও ডাকেনি বা সমন দেয়নি। ২১ এপ্রিল ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পরে আমি গত মঙ্গলবার জামিন নিয়েছি। তিনদিন পর জামিন নিয়েছি। খন্দকার মোস্তাকদের সাথে আঁতাত করে যারা রাজনীতি করছেন তারা ভুল ব্যখ্যা দিচ্ছেন, সেই ভুল ব্যখ্যাই পত্রিকায় আসছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের একজন নির্বাচিত নেত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, আমি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জনসভা করব। ওনিতো মহানগর আওয়ামী লীগের একজন সদস্যও না। ওনি কিভাবে দলকে ভাঙতে চান। ওনি মহানগর আওয়ামী লীগকে ভাঙতে চান। এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।
মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি এলাকায় সভার আয়োজন করবে মহানগর আওয়ামী লীগ। আপনি মহানগর আওয়ামী লীগের কোন কিছু না। আপনি ঈদের পর করতে চাচ্ছেন করেন, দেখব কিভাবে আপনি মহানগর আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে চান। আপনি দ্বিধাবিভক্ত করতে চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ দাতভাঙ্গা জবাব দিবে।
এরআগে গত রোববার (২৪ এপ্রিল) পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মহানগর আওয়ামী লীগের ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের গুরুত্বের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছিলেন।
সে সময় তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিষয়ে বলেন, তিনি জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনের সময় শুধু শহরে নয় তিনি শহরের বাইরেও অনেক কাজ করেছেন। সিটি এলাকায় আনোয়ার হোসেন অনেক অনুদান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনিই (আনোয়ার হোসেন) জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশও করেন।
মেয়র বলেন, আমাদের মহানগরের আওয়ামী লীগের ২৭টি ওয়ার্ডে কোন কমিটি হয়নি। এটা কেন হয়নি সেটা এখন আর বিশ্লেষণ করার সময় নেই। কারণ সামনেই আমাদের সম্মেলন। এ কমিটিগুলো হলে আমাদের কার্যক্রম আরও জোরদার হত।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কাজের বার্তা সব জায়গায়, ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, তা নাহলে ২০২৩ সালের নির্বাচন কঠিন হয়ে যাবে। এ জন্য তিনি আনোয়ার হোসেনকে ঈদের পরে সকল ওয়ার্ডে জনসভা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যেখানে থাকার দরকার বলবেন। আমাদের আগের থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা সকলের সাথেই মিলে মিশে কাজ করতে চাই।


