# বিএনপির ভেতর চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে
# কারা জড়িত ভালোভাবে জানেন শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সাংগঠনিক ভাবে আরো নাজুক অবস্থার দিকে দাবিত হচ্ছে বিএনপি। এই মুহুর্তে এই জেলায় বিএনপিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো কোনো হেভীওয়েট নেতা মাঠে নেই। নাসিক নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
আর তাকে বহিস্কার করার পর থেকে সারা জেলায় এই দলের ভেতর তুমুল বিরোধ শুরু হয়েছে। এরই মাঝে রাজধানীতে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ছুরিকাহত হয়েছেন। এই হামলাকে ঘিরে এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনে পরিবারের দিকে তোলা হয়েছে অভিযোগের আঙ্গুল। পুলিশ গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে অভিযানও চালিয়েছে।
কিন্তু গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন কেবল মাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বসে তার ছেলের নাম বলা হচ্ছে। তিনি আরো জানান তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে হয়রানী করার জন্য পুলিশকে ব্যাবহার করছে। মামুনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। আর এটাকে পুঁজি করেই এখন তার ছেলেকে হয়রানী করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার সাথে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ,
সাবেক জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহআলম এমনকি বর্তমান জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবির দিকেও আঙ্গুল তুলছেন অনেকে। এছাড়া তৈমূর আলম খন্দকারের সমর্থকদেরও বাদ রাখছেননা অনেকে। সূত্র জানিয়েছে, মামুনের উপর হামলার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতা তোফার নেতৃত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই তোফা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারী। এদিকে হুট করে জেলার বড় নেতা বনে যাওয়া রূপগঞ্জের তারাবো এলাকা বিএনপি নেতা সবসময়ই ঢাকার নেতাদের সাথে লবিং করে চলেন। তৈমূর বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবং রবি জেলে যাওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পান। নাসিরকেও সন্দেহের তালিকায় রাখছেন বিএনপির কর্মীরা।
ফতুল্লার বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা রুহুল আমিন শিকদারসহ বিএনপি নেতা শাহআলমের দিকেও আঙুল উঠছে। গতকাল এমপি শামীম ওসমানও এমন আভাস দিয়েছেন, তিনি এক অনুষ্ঠানে মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে বলেছেন, মামুন মাহমুদ মারা গেলে নারায়ণগঞ্জে আরেকটি ত্বকী হত্যা সাজানো যায়।
কিন্তু মামুন মাহমুদ মারা না যাওয়ায় তাদের কপাল খারাপ হলো। মিডিয়ার মাধ্যমে জানলাম এই ঘটনার সাথে জড়িতরা বেরিয়ে আসছে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, তার ছেলেসহ ইকবাল। তাদের পিছনে শক্তি যোগান দিচ্ছে। বিএনপিতো বলে তারা নাকি রাস্তায় নামতে পারে না। আমরা জানি এই ঘটনার পিছনে কারা কারা জড়িত রয়েছে।
কারা খেলছেন তা আমরা ভালোভাবে জানি। আমি চাই তারা মিটিং মিছিল করুক। সেই সাথে তাদের অবস্থান ক্লিয়ার করুক। কয়েক দিন আগে কোথায় কবে একটি কালো মাইক্রোবাস ফতুল্লায় এসে চুপচাপ দেখা করে গেল। যারা এ গেমটা খেলছেন কিংবা পাকাচ্ছেন, ওই আড়াই হাজার বিএনপির এক নেতা এবং সোনারগাঁয়ের এক অশিক্ষিত নেতার সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ ও নদীর ওই পার বন্দরের নেতার সাথে ঢাকায় বনে মিটিং করছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা চাইছে, যাতে বিএনপির যেই মহলের ইন্ধনে মামুন মাহমুদের উপর হামলা ঘটনা ঘটেছে তা যেন তদন্তে বেরিয়ে এসে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।
এদিকে মামুন মাহমুদের উপর হামলার পর সারা নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। কারন এই জেলার প্রত্যেক থানায়ই কমিটি গঠন নিয়ে বহু নেতার বিরোধ রয়েছে মামুন মাহমুদের। কারন এডভোকেট তৈমুরকে দল থেকে বহিস্কার করার পর প্রায় সব থানায়ই মামুন মাহমুদ একতরফা কমিটি গঠন করেন।
তিনি তার পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করার কারনে বহু নেতা কর্মী দল থেকে বাদ পরে যান। ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ সব জায়গায় এক তরফা কমিটি গঠন করা হয়। এতে মামুন মাহমুদের উপর নাখোশ হন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। তাই এই ঘটনার পর মামুন বিরোধী সকলের মাঝেই আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
ফলে এই ঘটনার পর বিএনপি আরো শক্তি হারাবে বলেই ধারণা করছে এই দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অথচ আগামী বছরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তারা কেয়ার টেকার সরকারের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
অথচ রাজধানীর একেবারে পাশের জেলা হওয়া সত্বেও নারায়ণগঞ্জে দিনে দিনে বিএনপি আরো দুর্বল হচ্ছে। বর্তমানে যে অবস্থা চলছে এই অবস্থা চলতে থাকলে সরকারী দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করাতো দূরের কথা, নিজেরা নিজেরা লড়াই করেই তারা শেষ হয়ে যাবে। তাই এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বত্র বিএনপির ভেতর চরম হতাশা ছড়িয়ে পরেছে।


