Logo
Logo
×

রাজনীতি

আলোচনায় জেলা-মহানগরের সম্মেলন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম

আলোচনায় জেলা-মহানগরের সম্মেলন
Swapno

# জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ করতে চায় দল

 

গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জেলা-মহানগর শাখার কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে রাজনীতির সুতিকাগার হিসাবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে ব্যপক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

সেই সাথে ক্ষমতাসীনকে দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে  যে সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা এমনকি থানা ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয় নাই অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় নাই তা পূর্নাঙ্গ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

এতোদিন রমজান মাস থাকায় নারায়নগঞ্জে রাজনীতিতে ভিন্ন বিষয় নিয়ে গরম থাকলেও কমিটি বিষয়ে তেমন একটা সক্রিয় দেখা যায় নাই। তবে রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে ঈদ রমজান মাস শেষে ঈদ কাটিয়ে জেলা মহানগরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সক্রিয় হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দিয়ে পরিচিতি সভা করেছে।

 

এবার জোরে সোরে জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এ কমিটি সম্মেলন কবে হবে তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও জানেন না। তবে এ কমিটি দ্রুত করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানাযায়।

 

এদিকে ঈদের পরে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল পর্যায় দলকে শক্তিশালি করার জন্য দলীয় কার্যক্রমে নামবেন। ইতিমধ্যে জেলার কয়েকটি থানায় তা শুরু হয়ে গেছে। জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানার মাঝে ইতিমধ্যে ফতুল্লা, বন্দর, আড়াইহাজার থানার ক্ষমতাসীন দলের পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়েছে। রাজনীতিবীদদের মতে তৃনমূল পর্যায় দলীয় ভাবে শক্তিশালি কমিটি না থাকলে সেই দল আস্তে আস্তে কর্মী শূন্য হয়ে পরে।

 

আর এতে করে একটা সময় এসে ওই দল তাদের শক্তি হারিয়ে ক্ষমতা থেকে বাদ পরে যায়। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করেন আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তৃনমূল পর্যায় দলীয় কমিটি গুলোতে যুবক এবং প্রবীন নেতা সমন্বয়ের মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচি পালন করে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে হবে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে একের পর এক কমিটি ভেঙে দেয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে এ আতঙ্ক তৈরী হয়ে আছে।

 

বিশেষ করে গত ৯ই জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী ৯ দিনের মধ্যে ৩টি কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। যা নিয়ে অনেকের ভিতর ক্ষোভ রয়েছে। ভেঙে দেয়া কমিটিগুলোর নেতারা রীতিমত বিব্রত। তবে কমিটি বিলুপ্ত করা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত আছে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে। কেউ বলছেন সবগুলো কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে কমিটিগুলো বিলুপ্ত করাটাই স্বাভাবিক।

 

আবার কারও কারও মতে কমিটিগুলোকে ব্যক্তি বলয় থেকে বের করে আনার জন্যই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য এবার জেলা মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছে। জেলা আওয়ামীলীগের বতমান কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তবে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আছে।

 

দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০১৬ সালের ৯ই অক্টোবর আব্দুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি ও ভিপি বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। এর ১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৫ শে নভেম্বর ৭১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

 

অপর দিকে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আনোয়ার হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। যা বর্তমানে এই দুই কমিটিই মেয়াদহীন হয়ে আছে।

 

জেলার বিভিন্ন তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মতে, হাই-বাদলের নেতৃত্বে গঠিত জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রথমদিকে বেশ প্রশংসা কুড়ালেও বছর খানিক যাওয়ার পর থেকেই নেতৃবৃন্দের মাঝে শুরু হয় দ্বন্দ ও কোন্দল। প্রথমে ৬ শূন্য পদ নিয়ে,

 

পরবর্তীতে সোনারগায়ে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি গঠন, পরবর্তীতে জেলা আ.লীগে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ায় দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টিভাবে কেন্দ্রে অভিযোগ এছাড়া জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নামে রয়েছে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ। তাছাড়া, দীর্ঘ ৫ বছরেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নতুন কমিটি গঠনসহ জেলার আওতাধীণ বেশ কয়েকটি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেও ব্যর্থতার পরিচয় দেয় তারা।

 

অপরদিকে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে একই কমিটি থাকলেও মহানগরের ২৭ টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে পারে নি আনোয়ার-খোকনের নেতৃত্বাধীন মহানগর আওয়ামীলীগ। একইসাথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দও ছিলো চোখে পড়ার মতো। দলের সাধারণ সম্পাদক একবার আনোয়ার হোসেনের সাথে, আবার সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

 

এখানে জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিতে জেলার উত্তর দক্ষিন বলয়ের প্রভাব রয়েছে। উত্তরে রয়েছেন এমপি শামীম ওসমান অনুসারিরা। তাদের বিপরীতে রয়েছেন দক্ষিন বলয় হিসেবে পরিচিত মেয়র আইভী অনুসারীরা।

 

এই দুই বলয়ের প্রভাব রয়েছে জেলা মহানগর কমিটিতে। তাই এখন জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন কবে হতে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। সেই সাথে এই কমিটিতে কারা আসবে তা নিয়ে চিরচেনা রূপে চলছে। তবে সকল জল্পনা কল্পনা শেষে তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সকলেই তাকিয়ে আছেন কারা জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের দায়িত্বে আসছেন।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন