# সভাপতি সেক্রেটারি পদ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার পরে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগের শক্তিশালি কমিটি নেই। সেই সাথে ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালি কমিটি না থাকায় তৃনমূল নেতা কর্মীরা ঝিমিয়ে পরেছে।
আবার অনেক ইউনিয়নে সভাপতি সেক্রেটারি মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে নামকাওয়াস্তে দলীয় কর্মসূচি। দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন দিবসগুলোতে কোন রকম কার্যক্রম চলে। অনেক ইউনিয়নে তাও চলে না। দীর্ঘ দিন পরে হলেও এবার ফতুল্লা থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর এখানকার ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। আর এতে করে তৃনমূল পর্যায়ে ফতুল্লার ইউনিয়নে কমিটির মাধ্যমে নেতা কর্মীরা ঝিমিয়ে পরা থেকে সক্রিয় হতে পারবে।
ফতুল্লার ইউনিয়ন গুলোর একাধিক নেতা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে ফতুল্লা থানার ইউনিয়ন গুলোতে কমিটি হয়েছে। ওই কমিটিতে অনেক নেতা মারা যাওয়াতে তাদের শূন্যস্থানও পুরন করা হয় নাই। দীর্ঘ দিন সম্মেলন না হওয়ায় নেতারাও ঝিমিয়ে পরেছে। তাই এখন তৃনমূল থেকে যুবক প্রবীন মিলিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালি হিসেবে ঢেলে সাজাতে চান স্থানীয় নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০০৩ সনে ফতুল্লা থানাধীন ৫টি ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়। কিন্তু ২০০৩ এর পরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। আর এতে করে দল শক্তিশালি না হয়ে দূর্বল হয়ে আছে।
২০০৩ সনে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন আফাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান কামরুল ইসলাম। গত বছর আফাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আবুল হোসেন মাস্টার। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নের কমিটি গুলোর নেতৃবৃন্দ দলীয় কর্মসূচি নামকাওয়াস্তে পালন করে যাচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দলে স্থানীয় নেতারা জানান, ফতুল্লার ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন যাবৎ এখানে কমিটি না হওয়ায় নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে আছে। ইউনিয়ন গুলোতে ক্ষমতাসীন দলের কমিটি না থাকায় যে যার মত করে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। এতে করে দল শক্তিশালি হচ্ছে না।
তাই তৃনমূল নেতারা দাবী তুলেন থানা এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা যেন অতি দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি সম্পন্ন করেন। অন্যথায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে এর জন্য পস্তাতে হতে পারে। সেই সাথে পূর্বের কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দ মারা যাওয়ার পর সেই পদ গুলো শূন্য অবস্থায় আছে। আর এজন্য এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। এখানে কবে নাগাত নতুন কমিটি হবে তাও জানেন না নেতৃবৃন্দ। ফতুল্লা থানা শীর্ষ নেতা জানান আগামী জুন মাসের ভিতর ফতুল্লা থানাধীন ইউনিয়নের নতুন কমিটি হবে।
বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জানান, আমরা ওয়ার্ড কমিটি গুলো নতুন ভাবে তৈরী করছি। সেই সাথে আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, আমরা ইতিমধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের আওতাধীন ৫ টি ইউনিয়নের মাঝে সম্মেলন শুরু করেছি। তার মাঝে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া যে সকল ইউনিয়নে ওয়ার্ড পর্যায় কমিটি হয় নাই সেখানে কমিটি করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কোন বিতর্কিত ব্যক্তিরা যেন কমিটিতে আসতে না পারেন তার জন্য আমরা নেতা কর্মীদের সতর্ক থাকার জন্য আহবান করেছি। সেই সাথে ত্যাগিদের মূল্যান করে কমিটি করা হবে।


