Logo
Logo
×

রাজনীতি

নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব জেলা বিএনপিতে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১০ মে ২০২২, ০৭:৩৪ পিএম

নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব জেলা বিএনপিতে
Swapno

দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরের বেশি ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ২০২৩ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে এখনই কৌশল ঠিক করতে চাইছে বলে দলটির নেতারা। কিন্তু ক্ষমতায় না থেকেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতায় নেতায় কোন্দল  থেমে নেই। এই কোন্দল সমাধান না হয়ে দিন দিন তার উল্টো দিকে একে অপরের মাঝে এখন হত্যা চেষ্টায় রুপ নিয়েছে।

 

বিশেষ করে জেলা বিএনপি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্ধ, কোন্দল আরও বেরেছে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সমজোতার জন্য তেমন একটা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নাই। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল মনে করেন বিএনপির নেতার এই দ্বন্ধ কোন্দল মিঠ না হওয়ায় এই দল আগের থেখে আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

ক্ষমতায় না আসার পিছনে রাজনীতিবিদরা তাদের অন্যতম এই ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। যার জন্য তাদের সমালোচিত হতে হচ্ছে। যতক্ষন পর্যন্ত বিএনপি এই কোন্দল থেকে বের হতে না পারবে ততো দিন পর্যন্ত তারা উঠে দাড়াতে পারবে না। কেননা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সভায় বলে থাকেন তারা ঐক্য বদ্ধ হয়ে মাঠে সরকার হটানোর আন্দোলনে নামবেন। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে তাদের সেই মুখে বলা ঐক্য আর দেখা যায় না।

 
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চিত্র সৃষ্টি লগ্নে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলীয় তেমন কোন কর্মতৎপরতা দেখা না গেলেও ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার সময় সদর ও বন্দর আসনসহ নারায়ণগঞ্জ এর ৫টি আসনেই বিএনপি সমর্থিত সাংসদ নির্বাচিত হন।  শহর সংলগ্ন আসন অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সিরাজুল ইসলাম (কমান্ডার) সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই

 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে চঞ্চলতা চলে আসে। কিন্তু ১৯৯৬’র নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেন তখন অনেকটাই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন আবুল কালাম। তখন বিএনপিতে সদ্য যোগদান করা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এর তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে তৈমুরকে সে সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ দেওয়া হয়। তখন থেকেই মূলত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভক্তি প্রকাশ্যে আসে।


অন্যদিকে প্রায় দুই বছর আগে কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে আহবায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের তিন মাস সময় বেধে দেওয়া হয় তাদের অধীনস্ত ১০টি ইউনিটের কমিটি গঠন করার জন্য। তবে তারা ৩ মাসে তাদের অধীনস্ত ইউনিট কমিটি গুলো তিন মাসে করতে  না পারলেও একটু দেরিতে তা করতে পেরেছেন। তখন তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠে।


এরই মধ্যে গত জানুয়ারিতে সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার অংশ গ্রহন করায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।  এসময় একই সাথে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও বহিস্কার হন। পরে মনিরুল ইসলাম রবিকে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। হেফাজতের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলে নাসিরউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করা হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাসিরউদ্দিন ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ ১০টি কমিটির অনুমোদন দেয়। রবি জামিনে ছাড়া পাওয়রা বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


এরই মধ্যে এই বছরের ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলনে বিএনপির একটি পক্ষ হামলা করে এই সম্মেলনকেন পন্ড করে দেয়। এই হামলাকারী হিসেবে অভিযোগের তীল উঠেছে বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকদের দিকে। এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই তার কিছু দিন পরে

 

বিএনপির অন্তদ্বন্দ্বের সর্বশেষ যে চিত্রটি ফুটে তা হলো জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ছুরিকাঘাতে আহত হওয়া। অভিযোগ উঠেছে এই হামলায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই হামলায় জরিত জেলা ছাত্র দলের সহ সভাপতি সাগর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জেলার ৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের পুত্র গোলাম মো. কাউছার ওরফে রিফাতের নাম উঠে এসেছে।

 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাবেক সাংসদের বাড়িতে পুলিশ অভিযানও চালান।  তাই মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনায় নিজ দলীয় লোকজনের অন্তর্দ্বন্দ্বকেও দায়ী করছেন সচেতন রাজনৈতিক মহল। একই সাথে জাতীয়তাবাদী বিএনপি দলের একাধিক নেতৃবৃন্দও তাদের ক্ষমতায় আসতে না পারার পিছনে নেতায় নেতায় এই অন্তদ্বন্ধকেই দায়ী করছেন। তাদের ঐক্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন। আর এজন্য আগামীতে দলকে ক্ষমতায় আনতে হলে এবং সরকারের পালা বদল ঘটাতে হলে বিএনপির ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন