Logo
Logo
×

রাজনীতি

নেতা আছে আস্থার সংকটও আছে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১১ মে ২০২২, ০৯:০১ পিএম

নেতা আছে আস্থার সংকটও আছে
Swapno

 

# কুক্ষিগত করে ফেলেছেন আজাদ
# আজাদ ও আঙ্গুরের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত

 

আড়াইহাজার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতাই অনেকটা আস্থার সংকটে রয়েছেন। নানা কারনে তাদের কারোর ওপরই মূলত নেতাকর্মীরা আস্থা রাখতে পারছে না। র্দীঘদিন দিন ধরেই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এমনভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলেছেন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এলাকায় আসে না।

 

মাঝে মধ্যে তিনি কিছু নেতাকর্মী নিয়ে স্থানীয় রাইনাদী এলাকায় হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন। তাতে তিনি সরকারের দোষক্রুটি না খোঁজে উল্টো দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। যা নিয়ে অন্য দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ।

 

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাবেক এমপি আঙ্গুর একজন বিচ্ছিন্ন নেতা। তিনি দলটির র্দুসময়ে এলাকায় আসেনি। নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ায়নি। যার কারনে নেতাকর্মী অনেকটা বাধ্য হয়ে দলত্যাগ করেছেন। অনেকেই হামলা -মামলার শিকার হলেও সাবেক এমপি হিসেবে আঙ্গুরের সহযোগিতা পায়নি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল চরম ভীতিকর পরিস্থিতি।

 

উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আঙ্গুরকে কাছে না পেয়ে অনেকটাই নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েন। আন্দোলন সংগ্রামেও তার তেমন কোনো ভুমিকা ছিল না বলেও অনেকের অভিযোগ। সর্বশেষ ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত এএম বদরুজ্জামান খসরু’র বিপক্ষে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ নজরুল ইসলাম বাবু এমপি নির্বাচিত হন।

 

তিনি ক্ষমতায় এসে বিএনপির দুই কান্ডারী আঙ্গুর ও খসরু’র মধ্যেকার দ্বন্দ্বের সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগান। এক পর্যায়ে তিনি সফলও হোন। এতে অনেকটাই নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে খসরু’র মৃত্যুর পর তার ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন দলের হাল ধরেন। তিনি নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীদের সুসংঠিত রাখতে।

 

কিন্তু পেরে উঠছেন না। কারন তাকে ট্যাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তার আপন চাচা আঙ্গুর। পাশাপাশি রয়েছেন আজাদও। এতে তিনি অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন। তবে তার প্রতি নেতাকর্মীদের একটা দুর্বলতা রয়েছে। তার বাবা খসরু’র সঙ্গে অনেকেই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। অনেকের ইচ্ছা প্রয়াত নেতার ছেলে বিএনপির হাল ধরোক।

 

সেটা কতটা বাস্তবায়ন হবে সেটা দেখার অপেক্ষায় অনেকেই। তবে আঙ্গুর-খসরু’র দ্বন্দ্বের সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদও। তিনি দলীয় কিছু নেতাকর্মীকে কাছে টেনে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

 

মামলার শিকার নেতাকর্মীদের তিনি নানাভাবে সাহায্য করছেন বলেও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচার রয়েছে। তবে সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে নানা ক্ষোভ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের নিয়ে উপজেলা বিএনপির কমিটি আগামী দিনগুলোতে খুব একটা সুফল বইয়ে আনতে পারবে না।

 

কমিটিতে অনেক প্রবীন ও ত্যাগীদের অমূল্যায়ন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির সভাপতি ইউছূফ আলীকে ভূঁইয়াকে অনেকেই মেনে নিলেও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের ব্যাপারে রয়েছে আপত্তি। তিনি এরই মধ্যে পকেট কমিটি দিতে শুরু করেছেন বলেও তার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির একনেতা নাম না প্রকাশ্যের শর্তে বলেন,

 

উপজেলা বিএনপির কমিটি আগামী দিনে তেমন কোনো সুফল বইয়ে আনতে পারবে না। কারণ কমিটিতে অনেক সিনিয়রদের অবহেলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক মনের ইচ্ছা মতো কমিটি দিচ্ছেন। যাতে রয়েছেন অনেক আওয়ামী লীগের সমর্থক। যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। তিনি আরও বলেন,

 

আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবাই কমবেশী নির্যাতনের শিকার। এমন অবস্থায় যদি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা না হয়; তাহলে সেটি হবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেইমানি। অপরদিকে উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির একনেতা বলেন, আসলে আড়াইহাজারে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে হলে তিন নেতাকেই প্রথমে এক টেবিলে বসতে হবে। এখানে মনোনয়ন পাওয়াটা বড় বিষয় নয়।

 

দলের কর্মীদের আগে নিরাপত্তা দিতে হবে। দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মীরা নিভয়ে অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করে হবে। তৃণমূলে নেতাকর্মীরা তিননেতার কারোর ওপরই আস্থা রাখতে পারছে না।

 

তাদের ওপর রয়েছে নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট। এখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে মধ্যকার ভীতি আগে দূর করতে হবে। এ ব্যাপারে জানতে জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন