# প্রতারণায় বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক
প্রথমে প্রাইভেট শিক্ষক তারপর ভেন্ডার সেখান থেকে রাজনীতিতে এসে এখন মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক রোটারিয়ান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ভেন্ডার গিয়াস। বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। অবশেষে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে ১৪ একর জমি বিক্রি করে ফেঁসে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ বন্দর উপজেলার বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন গিয়াসউদ্দিন কমপ্লেক্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। শহরের শহীদনগর এলাকার ছায়াকুঞ্জ নামের সাড়ে ১৪ একর জমির জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০০ সালের কাছাকাছি সময় বন্দর উপজেলায় আসেন গিয়াস উদ্দিন। সে সময় তার পেশা ছিল প্রাইভেট পড়ানো। পরে তিনি দলিল লেখার পেশায় নাম লিখিয়ে ভেন্ডারি টাইটেল গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তৎকালীন সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন এবং সফল হন। এরপরই ঘুরে যায় তার আর্থিক অবস্থা।
স্থানীয়রা তাকে লজিং মাস্টার হিসেবে চিনতেন। সেই ব্যক্তি পরবর্তি সময়ে দলিল লিখক হয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। তার রয়েছে অঢেল ভূ-সম্পত্তিসহ বেশ কয়েকটি অট্টালিকা।
যার মধ্যে অন্যতম বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন গিয়াসউদ্দিন কমপ্লেক্স। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দলিল লিখক সমিতির ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ দলিল লিখকরা আন্দোলনও করেছিল। এক এগারোর শেষের দিকে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগে সেনা বাহিনীর হাতেও তিনি আটক হয়েছিলেন।
বন্দরে তার অবস্থান পোক্ত করার জন্য তিনি এখানে বিয়ে করেন। এর ফলে এক সময় বন্দরের অনেকেই তাকে জামাই গিয়াস নামে চিনতো। এরপর জাতীয় পার্টির নেতা বনে যাওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে চাইতে হয়নি। একই সাথে ভাগিয়ে নেন দলিল লিখক সমিতির সভাপতির পদটি। তার ক্ষমতার দাপটেই বন্দর ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস নবীগঞ্জ থেকে সরিয়ে বন্দর এলাকায় তার বাড়ির পাশে এবং পরে তার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র
থেকে জানা গেছে। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তিনি সাংসদ সেলিম ওসমানের খুব কাছের মানুষে পরিণত হন। এর মধ্যে দলিল লিখক সমিতির অর্থ কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নানা সময় নানা প্রতিবাদ হতে শুরু হয়। অন্যদিকে সাধারণ গিয়াসউদ্দিন থেকে এখন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক।
শুধু তাই নয়, ওসমান বলয়ের লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করে সফল হতে পারেননি। তিনি বন্দর বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্যও ওসমান পরিবারের সমর্থন পান। তিনি ওসমান বলয়ের আওয়ামী লীগের নেৃতবৃন্দের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেই ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন।
এমনকি জাতীয়পার্টিসহ ওসমান পন্থী আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনীদের নিয়ে গত নির্বাচনগুলোতেও তাকে ওসমান বলয়ের বাইরের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হুমকি ধামকি দিতে দেখা যায়। তবে এবার অনেক ঘটনার হোতা রোটারিয়ান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে গিয়াসউদ্দিন ভেন্ডার ওরফে জামাই গিয়াস এবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় স্বাস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন অনেকে।
যে মামলার কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সেই মামলার বাদী মো. আজিজুর রহমান মিঠু জানান, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী তাদের একান্ত পারিবারিক দলিল লিখক। এ সুযোগে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বাদীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে তার সহি-সাক্ষর জাল করে জাল দলিল তৈরি করে ব্যবহার করেছে গিয়াস উদ্দিন।
এ বিষয়টি বাদী জানতে পেয়ে গিয়াস উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন তাকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। পরে তিনি গত ৮ মে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন (নং ১৩৩) দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক অভিযোগটিকে গুরুত্ব দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি রেকর্ড করতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে মঙ্গলবার রাতে সদর মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় এবং বুধবার সকালে তাকে বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শহীদনগর এলাকার ম খন্ডের ছায়াকুঞ্জ নামের সাড়ে ১৪ একর প্লটের জমির জাল দলিল সৃজন করে মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে গিয়াস ভেন্ডার। পরে সেই জমি বিক্রি করার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান জানান, জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণা মামলায় গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।


