‘আ’লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও কোটি টাকার মালিক’
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২২, ০৫:১১ পিএম
# কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়
বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার শাহ্জাহান ওমর (বীর উত্তম) বলেছেন, ‘বিএনপির আমরাও তো চার-পাঁচবার ক্ষমতায় ছিলাম, আমরা এমপি-মন্ত্রীরাও কোটি টাকা চোখে দেখি নাই। অথচ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়েরও নেতাও কোটি টাকার মালিক। নিজের দলকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না শেখ হাসিনা।’
শনিবার (১৪ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনদিন সঠিক নির্বাচনে জয়যুক্ত হতে পারে নাই। শেখ হাসিনা নির্বাচন দিতে ভয় পায়। সে কোনদিন নির্বাচন দিবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন তো দিবেই না, অসুষ্ঠু নির্বাচনও দেবে না।
কারণ সে যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসেছে। আর কোন সরকারি কর্মকর্তা, কোন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। হুদা কমিশনের মতো নির্বাচন কমিশন আর হতে দেওয়া যাবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেকোন মূল্যে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’ ‘শেখ হাসিনা এদেশে রাজতন্ত্র শুরু করেছে’ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার পরিবারের ৪১ জন সংসদ সদস্য।
শ্রীলঙ্কার দিকে লক্ষ্য করুন, এক ভাই রাষ্ট্রপতি, এক ভাই প্রধানমন্ত্রী, আরেক ভাই পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ছেলে অর্থমন্ত্রী; কোন লাভ হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী পালায়, রাষ্ট্রপতি ইস্তফা দিয়েছে, এমপি-মন্ত্রীদের ধরে ধরে সাধারণ মানুষ পেটাচ্ছে। হাসিনা এইটা টের পেয়ে গেছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পর টার্গেট বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অচিরেই পৃথিবীতে দেউলিয়া হিসেবে আবির্ভূত হবে।
শ্রীলঙ্কায় এক কেজি চালের দাম ৫০০ রুপি, এক কেজি সোয়াবিন তেলের দাম ৮০০ রুপি, ছেলে-মেয়েরা বই-পুস্তক কিনতে পারে না। আমাদের দেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়েও খারাপ হবে।
এই আওয়ামী লীগ সরকারের তো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নাই।’ ‘দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ এই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘একদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশে কোন আইনের শাসন নাই। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই।
খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বন্দি রেখেছে। তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ জিয়াউর রহমানের রক্ত এই দেশে থাকলে আওয়ামী লীগ সরকার এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকতে পারতো না। এই কারণে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদকে ‘বাচাল মন্ত্রী’ সম্বোধন করে আব্দুস সালম বলেন, ‘পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার দিকে তাকান।
আজকে তারা পালিয়েও বাঁচতে পারছে না। আপনারাও পারবেন না।’ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান,
সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল।


