# সভা সমাবেশের মাধ্যমে উজ্জীবিত নেতা কর্মীরা
গত বছর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে জেলা উপজেলা পর্যায়ের দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে কোন রকমভাবে। আবার অনেক নেতা কর্মী পুলিশের ধরপাকরার ভয়ে শহরের বাইরে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ দলীয় নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সভা সমাবেশ করতেন।
আবার অনেকে নামকাওয়াস্তে কোনরকম ভাবে কর্মসূচি পালন করে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে পালিয়ে যেতেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন প্রতিনিয়ত তাদের দমন পীড়নের মাঝে রাখতেন।
অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গত বছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীতে বিশাল শোডাউন করেন। এছাড়া তাদের দলীয় ভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারতেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধান বিরোধি দল বিএনপি।
দলীয় একাধিক নেতা কর্মী জানান, ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে ভয় পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করতেন। এমনকি দলীয় নেতা কর্মীরা কর্মসূচি পালনের জন্য রাস্তায় দাড়াতে পারতেন না। আবার অনেক সময় পুলিশ প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে ২ থেকে ৫ মিনিট সময় বেধে দিতেন।
এর বেশি সময় পার হলেই লাঠি পেঠা সহ ব্যানার টেনে নিয়ে যেতেন। সেই সাথে ছত্র ভঙ্গ করে বিএনপি নেতা কর্মীদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করতেন। আবার অনেককে গ্রেপ্তার করে নাশকতা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করতেন। আর এ নিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের ক্ষোভের শেষ নেই। তবে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই বছরের শুরুতে কয়েকটি সভা সমাবেশ করেছে এখানে কোন পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোন বাধা দেখা যায়
নাই। জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দাবী তারা এখন কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছে আর এজন্য একের পর এক আন্দোলন সংগ্রাম সফলতার সাথে করতে পারছে। আগের আন্দোলনে এবং দলীয় কর্মসূচি পালনে ব্যর্থতার জন্য পূর্বের দায়িত্বরত নেতাদের কৌশল সঠিক ছিলনা বলে দাবী করেন।
অন্যদিকে এবার বিএনপি নেতা কর্মীরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য আট ঘাট বেধে নেমেছে বলে জানান তারা। শনিবার সারাদেশে সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতবিাদ সমাবেশ জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সহ ঢাকা বিভাগীয় বিএনপি নেতারা গরম বক্তব্য রাখেন।
তারা সরকারকে ক্ষমতা থেকে নেমে ত্বত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবী তুলেন। সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার মো. শাহ্জাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, আওয়ামীলীগ কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসেনি। তারা যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই গুম, খুন, হামলা, মামলার কৌশল ব্যবহার করে। কারন ক্ষমতায় এসেই তারা পথের কাটা পরিষ্কার করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। আর বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এসেছে।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, রাজনীতিতে সব দলই যার যার মত কৌশল অবলম্বন করে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। আমাদের আগে যারা জেলা বিএনপির দলীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছে তাদের কৌশলে কিছুটা ভূলত্রুটি থাকায় তখন সভা সমাবেশ গুলো ঐভাবে সফল করতে পারে নাই। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসনের বাধাতো ছিলই।
তবে আমরা বর্তমানে যারা জেলা বিএনপির পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি তারা এখন কৌশল অবলম্বন করায় আমাদের কর্মসূচি সফল ভাবে কাস্তবায়ন হচ্ছে। দল যে ভাবে নির্দেশনা দিবে আমরা ঐ ভাবে কাজ করে যাবো। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটা সমাবেশ সফল ভাবে বাস্তবায়ন করেছি। এই সভা সামবেশের মাধ্যমে নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়ির সহ সভাপতি এড. সাখওয়াত হোসেন খান বলেন, রাজনীতিকে এই সরকার সংকুচিত করে ফেলছে। জাতি সংগ থেকে শুরু করে সারা বিশ^ নেতৃবৃন্দ তা বুঝতে পারায় তারা বিশ^কে সহনশীল দেখাতে চাচ্ছে। বিরোধী দলের উপর গুম খুন চালানোর কারনে এই সরকারের র্যাবের নিষেধাজ্ঞা আসে।
এখনো বিভিন্ন জেলায় হামলা মামলা চলমান রয়েছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের আস্থা তাদের উপর নেই। তাদের এই শিথিলতাই বা যে কতদিন থাকবে তা দেখার বিষয়। কেননা তারা ক্ষমতায় এসেই বিরোধী দলের নেতাদের উপর গুম খুন মামলা হামলা বাড়িয়ে দেন।


