# তৃতীয় শ্রেণির নেতারাও প্রথম সারির নেতৃবৃন্দকে চ্যালেঞ্জ করছে
# নাসিক নির্বাচন থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভাজন স্পষ্ট হয়
ইদানীংকালে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন কর্মসূচী হলেই কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়। জেলার বড় কোন কর্মসূচীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে কোন কর্মসূচী কোন প্রকার গণ্ডগোল ছাড়া করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক মহল।
সেই চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা কিংবা বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। আর এর জন্যই দলের কর্মসূচী বাস্তাবায়নে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দলাদলি দেখা দিলে স্মরণাপন্ন হতে হয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। এজন্য স্থানীয় উপরের সারির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরোধ এবং দলীয় কমান্ডের তোয়াক্কা না করাকে দায়ী করেছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় এরই মধ্যে শহর সংলগ্ন চৌরঙ্গী পার্কে অনুষ্ঠিত বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান ও সিদ্ধিরগঞ্জের সম্মেলনসহ বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ ধরণের অরাজকতা দেখা যায়। তবে এই সূত্র জানায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন কমিটিগুলোর মধ্যকার নেতৃবৃন্দের মধ্যে রেষারেষি বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আগে থেকেই ছিল।
তারপরও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যখন এখানে প্রচুর পরিমানে সময় দিতে পারতো তখন চেইন অব কমান্ড কিছুটা হলেও রক্ষা করা যেত। কিন্তু এখন জেলার প্রবীণ নেতাদের বেশিরভাগই হয় অসুস্থতা এবং বয়স ছাড়াও রেষারেষির কারণে দলীয় কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে বিতৃষ্ণা প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে
গিয়ে সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অপরাধে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। যদিও এই একই দোষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আরও একাধিক লোক জড়িত ছিল বলে বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। কিন্তু তারপরও শুধু তাদের দুজনকেই বহিস্কার করা হয়। অনেকেই একে দেখছেন ভিন্ন চোখে। কারও কারও মতে এখানে কারও স্বার্থ সিদ্ধির বিষয়টিও নাকি এর সাথে জড়িত আছে।
অন্যদিকে বিএনপির কিছু প্রভাশালী সুবিধাবাদী নেতা যারা বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে বিএনপির সাথে না থেকে একটি পরিবারের সুবিধা নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারাও নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তাদের কমান্ড জোরদার করতে কাজ করছেন বলে জানান তারা।
এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেছেন, ‘বিএনপিতে একজন গডফাদার আছে’। তার এমন বক্তব্যে অর্থাৎ কে সেই গডফাদার এই বিষয়টি নিয়ে এখন শুধু বিএনপিই নয়, পুরো রাজনৈতিক মহলেই আলোচনা চলছে। আবার কেউ কেউ তার এই বক্তব্যের সমালোচনাও শুরু করে দিয়েছেন। তবে যারা বিএনপিসহ রাজনীতি নিয়ে সবসময় কাজ করেন তারা হয়তো রনির এই ইঙ্গিত কাকে করা হয়েছে তা বুঝতে সমস্যা হয়নি।
কিন্তু যারা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা বা সমর্থক তাদের কাছে কিন্তু বিষয়টি পরিস্কার না হওয়ায় ধাঁধার মধ্যে পড়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যে আরও ঘি ঢেলে দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের উপর হামলার ঘটনা। কেননা এই ঘটনার পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে নয়া মোড় নিয়েছে। এমনিতেই সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপিতে প্রকাশ্য দুটি ভাগে বিভক্ত। তারপর এই হামলার ঘটনা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করে এবং এই ইস্যুটি নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গন ঘোলাটে হতে শুরু হয়।
অনেকে আবার এ ঘটনাটি নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলেও বলতে শুরু করে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতাসহ বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর ছেলেকেও ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করেন অনেকে। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন ইস্যু তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে বিএনপির সম্মেলনসহ আগামী সংসদ নির্বাচন ও সরকার বিরোধী আন্দোলনে বড় ধরনের প্রভাব পরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভাজন স্পষ্ট হয়ে যায়। এরই মধ্যে যেই গ্রুপটি নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমুর গ্রুপের অপসারণ চাইছিলেন তারা অনেকটা সফল হয়েছেন। অন্যদিকে ইউনিট কমিটিগুলো নিয়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অথচ তৈমুর আলমের অপসারণের পর নেতাকর্মীকে শক্তহাতে পরিচালনা করার মতো কোন শক্ত নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।
প্রথম সারির নেতারা দলে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং আর্থিক ফায়দার জন্য চিন্তা করতে গিয়ে দলীয় চাহিদার কথা ভুলতে বসেছে বলে বর্তমান নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগের শেষ নেই। এমনকি তৃতীয় শ্রেণির নেতারাও প্রথম সারির নেতৃবৃন্দকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো এই চ্যালেঞ্জ ক্রমেই সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।


