সোনারগাঁ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ মোগরাপাড়া ইউপি। আগামী ১৫ জুন এই ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৭ মে ৫ চেয়ারম্যানসহ ৫১ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন গতবারের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, মূল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, সুরুজ মিয়া ও রক্সি মিয়া।
২০১৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আরিফ মাসুদ বাবু। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আরিফ মাসুদের পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার পিতা সাদেক আলী পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন।
ছিলেন সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সত্তরের নির্বাচনে তিনি সোনারগাঁ আসনে দলীয় মনোনয়নে এমসি নির্বাচিত হন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ছিলেন। বড়ভাই মোবারক হোসেন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হন। উনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০১৬ সালে আরিফ মাসুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এর আগেরবারও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিত ছিলেন আরিফ মাসুদ। তবে তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল। এবার মনোনয়ন পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনি। অভিমানে দলীয় সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান আরিফ মাসুদ।
গত ১৬ মে দুপুরে মোগরাপাড়ায় এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর বিকেলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত সোহাগ রনির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। মূলত তিনি আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী।
এদিকে নৌকা ও নৌকাবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াইয়ের সুবিধা পেতে পারেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্য দুই প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে তেমন হেভিওয়েট নন। জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য ইউপির নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও সীমানা জটিলতা নিয়ে করা মামলার কারণে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ছিল।
মামলার জটিলতা নিরসন হওয়ার পর এই অষ্টম ধাপে ঘোষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোগরাপাড়ারও নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। এসএম/জেসি


