Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘উন্নয়নহীন ফতুল্লায় জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২২, ০৮:৩২ পিএম

‘উন্নয়নহীন ফতুল্লায় জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি’
Swapno

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে সুষম উন্নয়ন হলেও বর্তমান সরকার আমলে তা নেই বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

 

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরে উন্নয়ন হলেও ফতুল্লার উন্নয়ন হয় নাই। এখানকার জলাবব্ধতা নিরসন করতে পারে নাই। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা। তারা শুধু বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে বেড়ায়। বড় বড় কথা বলে আর বিএনপিকে দোষারোপ করে। মানুষ এখন অতিষ্ঠ তাদের বড় বড় বক্তৃতা শুনতে শুনতে।’ মঙ্গলবার দুপুরের নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরের দেলপাড়া ও নন্দলালপুরসহ কয়েকটটি স্থানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই কথা বলেন তিনি।

 

ফতুল্লা থানা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. শহীদুল্লাহার সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম টিটু। ‘বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য ফতুল্লাসহ দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য আরেকবার দরকার বেগম খালেদা জিয়ার সরকার’ মন্তব্য করেন গিয়াসউদ্দিন।

 

তিনি বলেন, ‘বক্তৃতা বিবৃতি অনেক দিয়েছেন। আপনাদের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। যে কারণে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌরসভায় আপনারা আপনাদের দল থেকে কোনো ব্যক্তিকে প্রার্থী করতে সাহস পান না। আপনাদের জনপ্রিয়তা এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে, এখন আমাদের দল থেকে হায়ার করতে হয়। আপনাদের দলের প্রতি আপনাদেরই আস্থা নাই।’

 

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে অন্যতম পাটকল ছিল আদমজী। এই দেশের মানুষের টেক্সের কোটি কোটি টাকা সেখানে লুণ্ঠন হত, লস হত সরকারের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার সেই দুর্নীতির আখড়াকে বন্ধ করে দিয়ে ইপিজেড করে। আজ কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সেখান থেকে আয় হচ্ছে।’

 

‘বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, মামলা-হামলায় জনজীবন বিপন্ন। সরকারের দুর্নীতি অপশাসনে অতিষ্ঠ মানুষ এখন এই সরকারের পরিবর্তন চাচ্ছে’ উল্লেখ করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল বৃদ্ধি করা হয়েছে সিন্ডিকেট করে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ আজ দিশেহারা। মানুষের টাকা লুটেপুটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। কিন্তু জনগণ কোনো কথা বলতে পারছে না। যারা লুটেপুটে খাচ্ছে তারা সরকারি দলের লোকজন। এ কারণে প্রশাসনও তাদের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

 

‘বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে। সেটা তারাও জানে। তারা জানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। এ জন্য তারা আরো একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চাচ্ছে। তারেক রহমান ঘোষণা করে দিয়েছেন, এই সরকারের অধিনে আর কোনো নির্বাচন নয়’ বলেন গিয়াসউদ্দিন। সাবেক এই সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা দাবি করে আরও বলেন, ‘সরকারি দলের নেতা-নেত্রীর দেহের জ্বালা, মনের জ্বালা, মুখের জ্বালা তারেক রহমান। তারা তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে আবোল তাবোল বকছেন।’

 

তারেক রহমান ইতোমধ্যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন জানিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান গিয়াসউদ্দিন। একই সাথে তিনি সকলকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তাই তারা চাচ্ছে আমাদের বিএনপির মধ্যে বিভেদ আত্ম কলহ সৃষ্টি করে আমাদের দুর্বল করতে। আর সেটি হলে তারা আবার নিজেদের স্থান করে নিতে পারবে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না, এই ফতুল্লার মাটি বিএনপির ঘাটি। কাজেই আমাদের মধ্যে যেন তারা কোনো আত্মকলহ, ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দলকে যেন দুর্বল করতে না পারে। তারা চাচ্ছে এখানে দুর্বল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে।

 

 তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান যখনই নির্দেশ দিবেন, তখনই আমাদেরকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এই স্বৈরাচারি সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা মামলায় সাজানো রায় দিয়ে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন গিয়াসউদ্দিন।

 

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া। তার মত এতটা জনপ্রিয় নেতা বাংলাদেশে আর একটিও নেই। তিনি যতবার পাঁচটি আসনে নির্বাচন করেছেন ততবারই জয়ী হয়েছেন। এই ইতিহাস আর কারো নেই।’ জিয়া পরিবার এবং বিএনপির প্রতি দেশের মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা রয়েছে বলে দাবি করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। জিয়া পরিবারের কর্মী হতে পেরে গর্ববোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম আসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হালিম জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আবেদিন, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লূৎফর রহমান খোকা, সাবেক সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী বিল্লাল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ফতুল্লা থানা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. বাবুল আহম্মেদ, জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি হাসান আলী, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন রতন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুমন আকবর, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম হিমেল, যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম, পলাশ শেখ, আজিজ পাশা, মনিরুজ্জামান মনির, রবিন খান, সোহেল মোল্লা, রাসেল খান, আবু তাহের প্রমুখ।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন