Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিভেদ সৃষ্টির নাটের গুরু আজাদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২২, ০৯:০৩ পিএম

বিভেদ সৃষ্টির নাটের গুরু আজাদ
Swapno

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ঐক্য নষ্টের ‘গেইম মেকার’ হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদকেই দায়ী করা হচ্ছে। তাকে ঘিরেই জেলা বিএনপির দৈন্যদশার সৃষ্টি বলে মনে করা হচ্ছে। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এ সময়ে দলের মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামা দরকার। কিন্তু নজরুল ইসলাম আজাদ স্বীয় স্বার্থে অনৈক্য সৃষ্টি করে চলেছেন।


 
জানা গেছে, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি আড়াইহাজার উপজেলাবাসী হলেও পুরো জেলাজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী পরিবারের  সাথেও রয়েছে তার বিশেষ সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে সায়েস্তা করেছেন। যেমনটি করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনিকেও।


 
নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে কেউ গেলেই তাকে নানাভাবে সায়েস্তা করা হয়। আবার নিজের পক্ষে নেতাকর্মীদের টানতে নানা ধরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে থাকেন তিনি। যেমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সাদেকুর রহমান সাদেককেও। তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, জেলা যুবদলের আহবায়াক বানানো হবে। কিন্তু শেষতক সেটি আর হয়ে উঠেনি। এ নিয়ে সাদেক দারুণভাবে ক্ষুব্ধ আজাদের ওপর।


 
এবার অবশ্য নজরুল ইসলাম আজাদ একই সঙ্গে জেলা বিএনপির দুই নেতাকে আশ্বস্ত করেছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক বানাবেন বলে। এদের একজন জাহিদ হাসান রোজেল অপরজন মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তারাও নিশ্চিত ‘ভাই বলেছে’ জেলা বিএনপির সেক্রেটারি হবোই হবো!


 
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি হবেন মামুন মাহমুদ। নজরুল ইসলাম আজাদও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। সে লক্ষ্য নিয়েও হাঁটছেন। যে কারণে মামুন মাহমুদ সর্বত্রই ‘আজাদ ভাই’ বলে বলে মুখে ফেঁনাও তুলে ফেলছেন। তবে, মজার বিষয় হচ্ছে, এই নজরুল ইসলাম আজাদ তলে তলে আবার মনিরুল ইসলাম রবিকেও নাকি আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছেন! আবার সাম্প্রতিক সময়ে রবিকে পাশ কাটিয়ে মামুন মাহমুদ যেসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হচ্ছেন তা নজরুল ইসলাম আজাদেরই পরামর্শে হচ্ছেন। এখানে পদে সিনিয়র হলেও রবিকে মাইনাস করা হচ্ছে।


 
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করার জন্য নজরুল ইসলাম প্রথমে ভর করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টির ওপর। এরপর অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মশিউর রহমান রনি ও মনিরুল ইসলাম সজলের ওপর। বর্তমানে তিনি তার বলয়ে ভিড়িয়েছেন মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জাহিদ হাসান রোজেল এবং রিয়াদ মো. চৌধুরীকে। তবে, তাদের মধ্যে মশিউর রহমান রনি ইতোমধ্যেই নজরুল ইসলাম আজাদের বলয় ছেড়েছেন। শোনা যাচ্ছে অ্যাড. সাখাওয়াত ও মন্টিও আজাদ বলয় ছেড়েছেন। তাদের কাছে আজাদের মুখোশ উন্মেচন হওয়ার পরই তারা এই বলয় ছেড়েছেন।


 
জানা গেছে, নজরুল ইসলাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বিএনপির প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি দাবি করে থাকেন, জিয়া পরিবারের পারিবারিক লোক তিনি। কেউ কেউ জানেন, আজাদ প্রয়াত কোকোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু! যদিও শোনা যায়, কোকোর গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ।


 
এদিকে আজাদ পুরো নারায়ণগঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন। অথচ তিনি তার আড়াইহাজার বিএনপিকেই ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। এখানে বিএনপিকে ত্রিধাবিভক্ত করে রেখেছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। খোদ তার এলাকাতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে গ্রহণ করতে পারেন না বলেই জানা গেছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে এই ব্যক্তি পুরো নারায়ণগঞ্জকে কীভাবে ঐক্যব্ধ করবেন?


 
তৃণমূল বলছে, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন সব থেকে বেশি। কিন্তু নজরুল ইসলাম আজাদ সেই ঐক্যের অন্তরা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তিনিসহ মামুন মাহমুদ ও জাহিদ হাসান রোজেল ফতুল্লার একটি আলোচনা সভায় ঐক্যের বদলে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নানা ধরণের উসকানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের মুখে অনৈক্যের সুরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।


 
তারা বলছেন, নজরুল ইসলাম আজাদ, মামুন মাহমুদ এবং জাহিদ হাসান রোজেল এখন বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার এই তিনজনের সাথেই সরকারি দলের প্রভাবশালী একটি পরিবারের রয়েছে সখ্যতা। মূলত এই পরিবারটির বাতাসেই তারা দোল খাচ্ছে। কিন্তু দলের বৃহত্তম স্বার্থে তাদেরকে এর থেকে সরে আসা দরকার বলে মনে করছেন তৃণমূল। অথবা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন