# সর্বাত্মক আন্দোলনের আগে দলে বিভীষণ নির্মূল জরুরী
আগামী বছর দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে বিএনপি যখন দলকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সে মুহুর্তে দরে নীরোর মতো অনৈক্যের বাঁশী বাজাচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে তিনি দলের একজন প্রভাবশালী নেতা বলে বেড়ান, তিনি জিয়া পরিবারের পারিবারিক লোক। প্রয়াত কোকোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে বিশ্বস্ত সূত্র মতে, এক সময় আজাদ কোকোর গাড়িচালক ছিলেন। সেই সুবাদে এখনও কোকোর স্ত্রীর সঙ্গে তার হাই হ্যালোর সম্পর্ক রয়েছে।
যারা আজাদকে ভাল চেনেন সে সব নেতাকর্মীর মতে, আজাদ বহুরূপী একটি একটি দুমুখো সাপ। কাউকে তিনি পদের প্রলোভন দেখিয়ে কাছে টানেন, আবার কাউকে অপছন্দ হলে তিনি তাকে শাস্তি প্রদান করেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ওসমান পরিবারকে ব্যবহার করেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে তিনি এভাবেই শায়েস্তা করেছেন। যুবদলের আহ্বায়ক বানানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি ইতিপূর্বে সাদেকুর রহমান সাদেককে কাছে টেনেছিলেন। পরে কলা দেখিয়ে তাকে বিদায় করেছেন। এ কারণে আজাদের উপর ভীষণ ক্ষীপ্ত সাদেক। এবার আজাদ জেলা বিএনপির দু’নেতাকে একই সঙ্গে জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক বানানোর টোপ দিয়েছেন। এরা হলেন জাহিদ হাসান রোজেল ও মাকসুদুল ইসলাম রাজিব।
তাদের মধ্যে এখন সেক্রেটারী হবো হবো ভাব। আবার জেলা বিএনপির টোপ গিলিয়েচেন মামুন মাহমুদকে। মামুন মাহমুদ এখন ‘আজাদ ভাই’ বলতে বলতে অজ্ঞান। তবে একই সঙ্গে মনিরুল ইসলাম রবিকেও এ আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, বর্তমানে রবিকে পাশ কাটিয়ে মামুন মাহমুদ যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করছেন তা আজাদের পরামর্শেই। এভাবেই রবি জ্যাষ্ঠ নেতা হলেও আজাদের অঙ্গুলী হেলনে তাকে খাটো করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নজরুল ইসলাম আজাদ প্রথমে দেওভোগের যুবদল নেতা মোয়াজ্জম হোসেন মন্টির উপর ভর করেন। তারপর একে একে তিনি ভর করেন, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মশিউর রহমান রনি ও মনিরুল ইসলাম সজলের উপর। বর্তমানে তিনি তার বলয়ে ভিড়িয়েছেন মাসুকুল ইসাম রাজিব, জাহিদ হাসান রোজেল এবং রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে। তবে, তাদের মধ্যে মশিউর রহমান রনি ইতিমধ্যেই নজরুর ইসলাম আজাদের বলয় ছিঁড়ে বেড়িয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মন্টিও আজাদ বলয় ত্যাগ করেছেন।
তাদের কাছে আজাদের মুখোস উন্মোচিত হয়েছে। তিনি পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর ছড়ি ঘুরাতে চান; অথচ, আড়াইহাজারের উপরই তার কোন নিয়ন্ত্রন নেই। আড়াইহাজারেও তিনি বিএনপিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছেন। যেখানে দলে আশু ঐক্য প্রয়োজন, আজাদ সেখানে ঐক্যের অন্তরায় হয়ে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ফতুল্লায় জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীর আলোচনা সভায় আজাদ ও তার দুই চেলা মামুন মাহমুদ ও জাহিদ হাসান রোজেল উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন।
এ ব্যাপারে আলাপকালে সাবেক বিএনপি এমপি এড. আবুল কালাম, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু জাফর বলেছেন, এ মুহুর্তে প্রয়োজন দলের মধ্যে সর্বাত্মক ঐক্য স্থাপন করে বর্তমান স্বৈরশাসক সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে টেনে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা। এ মুহুর্তে যারা দলে বিভক্তি ও বিভাজন সৃষ্টি করছে, তারা আসলে দলে ঘাপটি মেরে থাকা বিভীষণ। কৃষক যেমন জমিতে বীজ বোনার আগে আগাছা নির্মূল করে, তেমনি সর্বাত্মক আন্দোলনের আগে দল থেকে এসব বিভীষণদের নির্মূল করতে হবে।এমই/জেসি


