# কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আ.লীগ
# আন্দোলনে সমাধান খুজছে বিএনপি
দীর্ঘদিন পর রাজপথমুখী হচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামছে দুই দল। লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে দলীয় কর্মীদের মাঠ দখলে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়াকে ইস্যু করে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন দল গুলো। মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে নেমেছ সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ। ‘আঘাতের বিপরীতে পাল্টা আঘাত’ নীতিতে এখন থেকে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ এমন বার্তা দেন তারা।
অপর দিকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন সভা সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারাও তাই বলছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। এ অবস্থায় দাবি আদায়ে রাজপথে সমাধান খুঁজছে বিএনপি।
মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা জানান, বিএনপিকে ‘রাজনৈতিক স্পেস’ দেওয়ায় তারা রাজপথে সহিংস হয়ে উঠছে। ছাত্রদলকে দিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। অন্যদিকে ‘৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার’- এ স্লোগান দিয়ে মূলত তাদের স্বরূপ করেছে। এখন আবারও জ্বালাও-পোড়াও সহিংস আন্দোলন করতে চায় বিএনপি। কিন্তু সে সুযোগ আর দেওয়া হবে না। বিরোধীরা যাতে ‘অযৌক্তিক’ ইস্যুতে মাঠ দখল করতে না পারে সে জন্য নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখওয়াত হোসেন খান জানান, আগামীতে দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে এই স্লোগান নিয়ে নারায়নগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে হাটানোর জন্য আন্দোলনে নেমেছে। আমরাও এবার সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ছাড়বো। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায়ের জন্য আমাদের প্রধান মাধ্যম রাজপথ। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ যেভাবে আগেভাগেই হামলা ও মামলার পথে হাঁটছে, তাতে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া ছাড়া আমাদের সমাধান হবে না। সব সমস্যার সমাধান হবে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা বিএনপি নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হতে শুরু করেছেন রাজপথে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। অঙ্গসংগঠনগুলোও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে। আগামী মাসের মধ্যেই দল ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের কমিটি গঠন-পুর্নগঠনের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় হাইকমান্ড।
মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বিএনপি নেতাদের উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, বিএনপি নেতারা আগুন নিয়ে খেলবেন না। আওয়ামী লীগ আছে। সব সময় থাকবে। জামাত বিএনপি সন্ত্রাস করলে কোনো ছাড় নেই। রাজপথ ইজারা দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশ। সেই নেত্রীকে নিয়ে যখন কেউ কটূক্তি করে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এখন থেকেই রাজপথ দখল এবং পাল্টা কর্মসূচি ও পাল্টা আঘাতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালাও পোড়াও টাইপের কোনো কিছু করলে তার জবাব সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে। গতকাল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মুল দল সহ অঙ্গ সংগঠন দল গুলো প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির ইস্যুতে শহরময় মিছিল করে গরম রেখেছে। সহযোগীসংগঠন গুলোও প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।
অন্যদিকে গতকাল জেলা যুবদলের এক সভায় এসে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি এবার আর আওয়ামী লীগের প্রতারণার (নির্বাচনী) ফাঁদে পা দেবে না। আবার দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতেও দেবে না। সুতরাং এবারের নির্বাচন নির্ধলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। আর এসব হামলা-নির্যাতন করে আন্দোলন দমানো যাবে না। সরকারকে বিদায় নিতেই হবে। রাজপথেই এবার ফয়সালা হবে।
তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল বলছেন, এবার দুই দলই রাজপথমুখী হচ্ছে। এক দল তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় আরকে দল সরকারি দলকে বিদায় করে নিজেরা ক্ষমতায় আসতে চায়। তবে কে ক্ষমতায় থাকবে আর আসবে তা নির্ধারণ হবে আগমাী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। সেই দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ।এমই/জেসি


