উন্নয়নে আইভী আর দেশ-বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত শামীম
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২২, ০৪:২৬ পিএম
# জলাবদ্ধতা আর ময়লা আবর্জনা নিয়ে চরম বিপাকে ফতুল্লাবাসী
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মাঝে এখন আপাতত কোনো বিরোধ নেই। এদের মাঝে আইভী তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে আবারও সিটি কর্পোরেশন এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর বিপরীতে শামীম ওসমান ব্যাস্ত রয়েছেন দেশবিদেশ ভ্রমণ নিয়ে। এরই মাঝে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছেন।
তবে মেয়র আইভী আর সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের মাঝে যে বিরোধ চলছে এই বিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও ক্ষতি হয়েছে শামীম ওসমানের। বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে আইভীর সাথে শামীম ওসমান বিরোধ চালিয়ে আসলেও তার কোনো লাভ হয়নি। তিনি আইভীর কোনো ক্ষতি করতে পারেননি। বরং শামীম ওসমান নিজে দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহল।
আইভীর পেছনে লাগতে গিয়ে একদিকে শামীম ওসমান রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন, অপরদিকে তিনি উন্নয়নেও পিছিয়ে পড়েছেন। শামীম ওসমান তার এলাকায় চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। তিনি তার ফতুল্লা থানা এলাকায় নূন্যতম পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থাও করতে পারেননি। বর্ষা এলে জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে তার গোটা এলাকা। এছাড়া শামীম ওসমানের বিরোধীতা সত্ত্বেও আইভী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বহু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিভিন্ন মেঘা প্রকল্পের উন্নয়ন দিয়ে তিনি একেবারে বদলে দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশন এলাকার চেহারা। কিন্তু শামীম ওসমান এমন একটি উন্নয়নও দেখাতে পারবেন না। ফলে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তাও এখন শুন্যের কোঠায়। ফলে এই জনপদের সাধারণ মানুষ মনে করেন আর কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শামীম ওসমান জিততে পারবেন না। মূলত এভাবেই আইভীর সাথে বিরোধে জরিয়ে নানা দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে পরেছেন শামীম ওসমান এমপি। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং ফতুল্লার উন্নয়ন চিত্র দেখলেই বুঝা যায় আসলে কে কেমন নেতা। একদিকে চলছে উন্নয়নের জোয়ার আর অপরদিকে চলছে লুটপাটের মহোৎসব।
এদিকে এই দুই নেতার মাঝে আর কোনো বিরোধ দেখতে চায় না নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। গত কয়েকদিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে। সাধারন মানুষ মনে করেন এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারনে তাদের ব্যাক্তিগত ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জবাসীরও ক্ষতি হয়েছে। ব্যাহত হয় উন্নয়ন। তাই নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন এতোদিন বিরোধ করে নিশ্চয়ই দুইজনেরই সঠিক উপলধ্বি হওয়ার কথা। এতে ক্ষতি ছাড়া কারোই কোনো লাভ নেই।
এ বিষয়ে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা বহু বছর ধরে মেয়র আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মাঝে বিরোধ দেখতে পাচ্ছি। তারা নানা কৌশলে একে অপরকে ঘায়েল করতে চেয়েছেন। মেয়র আইভী ত্বকী হত্যাকান্ড সহ আরো কিছু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছেন এবং এই হত্যাকান্ডের দায়ে ওসমান পরিবারের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। বিপরীতে শামীম ওসমান নানা মনগড়া ইস্যু সৃষ্টি করে মেয়র আইভীকে ঘায়েল করতে চেয়েছেন। কিন্তু এসব করতে গিয়ে তিনি ব্যার্থ হয়েছেন। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুইজনের মাঝে কে কি করছেন এসব বিষয় বেশ ভালো মতোই জানেন।
তাই বিগত এক যুগে প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানের কোনো নালিশই আমলে নেন নাই। তাদের দুইজনকে দুটি পদে ধরে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মেয়র আইভীকে যে প্রধানমন্ত্রী কতোটা ভালোবাসেন সেটা বার বার প্রমাণ হয়েছে। তাই এটা এখন শামীম ওসমানের বুঝা উচিৎ। তাই আমরা আশা করবো এখন থেকে তিনি এসব বেহুদা ঝগড়াঝাটি বন্ধ করবেন এবং জনগনের কল্যাণে কাজ করবেন। তার নিজের এলাকা ফতুল্লায় পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।
সব দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে ফতুল্লা। শামীম ওসমানের গাফিলতির কারনেই ফতুল্লায় তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। তিনি ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনে যেতে দিচ্ছেন না, আবার নিজে কোনো উন্নয়ন করছেন না। জলাবদ্ধতা, ময়লা নিস্কাশন সহ নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত ফতুল্লা থানা এলাকা। আমরা মনে করি এসব সমস্যার জন্য দায়ী শামীম ওসমানের ব্যার্থতা।
এদিকে এ বিষয়ে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন শহরের মাসদাইর বাজার এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান তুহিন। তিনি বলেন, আসলে আমরা সাংসদ শামীম ওসমান আর মেয়র আইভীর বিরোধে তিক্ত বিরক্ত। কারণ এতে কারোই কোনো লাভ হয় না। বরং এতে তাদের দুইজনের এবং জনগনের বিরাট ক্ষতি হয়। তাদের উচিৎ বিরোধ না করে যার যার অবস্থানে থেকে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন করা। আমরা আরো মনে করি তারা দুইজনেই সরকারী দলের বেশ পরিচিত এবং জাদরেল নেতা। তাই তারা যদি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করেন তাহলে অল্প সময়ে তারা এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারবেন। আর এই ক্ষেত্রে মেয়র আইভী অনেকটা সফল হলেও শামীম ওসমান চরম ভাবে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
শামীম ওসমানের ফতুল্লা থানা এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয় নাই। বিপরীতে শামীম ওসমানের সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও মেয়র আইভী তার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনটি থানা এলাকায় ঘুরলেই ব্যাপক ও নানা রকমের উন্নয়ন চোখে পরে। বিপরীতে শামীম ওসমানের ফতুল্লায় গেলে দেখা যায় চরম বেহাল অবস্থা। কোনো এলাকায়ই কোনো রকম পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ সুবিধা গড়ে তোলেননি শামীম ওসমান। তাই আমরা মনে করি আইভীর সাথে ঝগড়া ঝাটিতে ব্যাস্ত থাকার কারনেই এভাবে তিনি ব্যার্থ হয়েছেন। তাই আমরা মনে করি এখন এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ। দুইজনের উচিৎ যার যার এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকা।এমই/জেসি


