Logo
Logo
×

রাজনীতি

গিয়াসকে ঠেকাতে মরিয়া শামীম-শাহআলম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২২, ০৫:১১ পিএম

গিয়াসকে ঠেকাতে মরিয়া শামীম-শাহআলম
Swapno

#এবার তাকে ঠেকানো কঠিন ভেবেই আগেভাগে নেমেছে কয়েক মহল
#সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তুমল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ভাবছে জনগণ

 

এবারও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে ঠেকাতে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বিএনপি থেকে পদত্যাগী নেতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহআলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান এমপি একেএম শামীম ওসমান। মূলত এমনটাই মনে করেন গিয়াস উদ্দিনে অনুসারীরা। কারন শাহআলম বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেও নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় তাহলে তিনি আবারও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন এবং যতো টাকা লাগুক মনোনয়ন গ্রহণ করার চেষ্ঠা করবেন।

 

শাহআলমের মাঠ পর্যায়ের অনুসারীরা এমনটাই মনে করেন। বিপরীতে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে মনির হোসেন কাশেমীকে চান বলে জানা গেছে। আর হেফাজতে ইসলামের সাথে শামীম ওসমানের সখ্যতার কথা সকলের জানা। তাই কাশেমী যদি আবার মনোনয়ন পান তাহলে শামীম ওসমানের বিজয় সহজ হবে। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পেলে শামীম ওসমানের পক্ষে জয়ী হওয়া মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সচেতন মহল। তাই এবার এই দুই কারণে শামীম ওসমান ও শাহআলম দুইজনেই গিয়াস উদ্দিনের পেছনে লেগেছেন। তাকে নানা ভাবে হয়রানী করে চলেছেন বলে কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা জানিয়েছেন।

 

এদিকে ঘনিয়ে আসছে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচন যদি সব দলের অংশগ্রহনে হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন পাঁচজন প্রার্থী। এরা হলেন এই আসনের সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি থেকে পদত্যাগী নেতা আলহাজ¦ মোহাম্মদ শাহআলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম এবং ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মনির হোসেন কাশেমী।

 

এই পাঁচ নেতার মাঝে আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে এই আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি যে এবারও মনোনয়ন চাইবেন এটা একেবারে নিশ্চিত। এরই মাঝে তিনি বেশ জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রেখে এই আসনের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্ঠা করছেন। তার দলের নেতাকর্মীদেরও ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্ঠা করছেন তিনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে টার্গেট করেই তিনি মাঠে নেমেছেন।

 


এদিকে ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন আলহাজ¦ মোহাম্মদ শাহআলম। তিনি সারাহ বেগম কবরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে অল্প ভোটে হেরেছেন। কিন্তু বিগত নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। তার জায়গায় এসেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মনির হোসেন কাশেমী। পরে শাহআলম দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং তিনি বলেন তিনি আর রাজনীতি করবেন না। তবে এই আসনের সাধারন মানুষ মনে করেন এটা শাহআলমের একটি কৌশল। তিনি বড় ব্যবসায়ী।

 

সরকারের রোষানলে থেকে বাঁচতে তিনি দল ছেড়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। তাই আগামী নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় তাহলে আবারও তিনি যে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। শাহআলমের অনুসারীদের মতে প্রয়োজনে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিএনপির মনোনয়ন কিনে নেবেন শাহআলম। তাই তিনি দল ত্যাগ করলেও অনুসারীদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে ঠিক রাখছেন। তিনিও যে মনোনয়ন চাইবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

 


অপরদিকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। তার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ। দলে তার তেমন কোনো গ্রহনযোগ্যতা না থাকলেও পর পর দুই বার দলের বড় পদে আসিন হয়েছেন তিনি। জানা গেছে কিছু টাকাওয়ালা নেতা আর সরকারী দলের এক প্রভাবশালী নেতার আশির্ভাদে রয়েছেন তিনি। তাদের কারনেই তিনি দুইবার বিএনপির সাধারন সম্পাদক বা সদস্য সচিবের পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। তাই একই কায়দায় তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ভাগিয়ে নিলে কারো অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই অনেকে মনে করেন।

 


ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম এই দলের একজন সিনিয়র নেতা এবং শিক্ষিত ব্যাক্তি। সেই জাগদল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত ব্যাক্তিত্ব। ফতুল্লার রাজনীতিতে মাঠ পর্যায়ে তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই তিনিও এবার বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

 


আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক চাইবেন এমন সর্বশেষ ব্যক্তিটি হলেন মনির হোসেন কাশেমী। এই কাশেমী গত নির্বাচনে হঠাৎ বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে যান। মনোনয়ন পাওয়ার আগে এই ব্যাক্তিকে কেউ চিনতো না। এই মনির হোসেন কাশেমীর না আছে কোনো পরিচিতি বা না আছে কোনো সাংগঠনিক আস্তিত্ব। তাই এমন একজন মানুষ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন পাওয়ার সাথে সাথেই তার পরাজয়ের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিৎ হয়ে যায়। তখন অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন এমন একজন ব্যাক্তিকে বিএনপির মতো দল মনোনয়ন দিলো কিভাবে? তিনি মনোনয়ন পেয়ে এক মিনিটও মাঠে দাড়াতে পারেননি।

 

এবং এক পর্যায়ে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ এই ব্যাক্তি আবারও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাই তিনি যদি ধানের শীষ চান তাহলে এ পর্যন্ত জনপ্রিয় এই প্রতিকটি দাবিদার এই আসনে পাঁচজন। তবে এই পাঁজননের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় কে সেটা এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার। কিন্তু বিএনপি এখন আর জনপ্রিয়তা দেখে না বলেই অনেকে মনে করেন।

 

যে বেশি টাকা দিতে পারবে সেই পেয়ে যেতে পারেন এই দলের মনোনয়ন। তাই আগামী নির্বাচনে এই আসনে কি ঘটে সেটা দেখার জন্য আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচন যদি সব দলের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় তাহলে এখানে যে মনোনয়ন নিয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন