Logo
Logo
×

রাজনীতি

শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে চার নেতা

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২২, ০৫:৩৪ পিএম

শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে চার নেতা
Swapno

 

# শামীম ওসমান-গিয়াসউদ্দিনে প্রতিযোগিতা হলে বাঘে-মোষে লড়াই হবে
# ঝোঁপ বুঝে কোপ মারার চিন্তায় বিভোর অন্যরা

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জের ৫ টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৪ (ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে বছর যে দলের প্রার্থী এ আসনে বিজয়ী হয়েছে সে বছর সে দলই দেশে সরকার গঠন করছে। যেমন, ১৯৭৩ সনে দেশে প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সে নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের আফজাল হোসেন। সেইবার আওয়ামীলীগ দেশে সরকার গঠন করে। ১৯৭৯ সালে দেশে ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেইবার বিএনপি প্রার্থী এম.এ সাত্তার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হন এবং বিএনপি দেশে সরকার গঠন করে। ১৯৮৬ সনে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এম. এ সাত্তার বিজয়ী হন এবং জাতীয় পার্টি দেশে সরকার গঠন করে।

 

এমনি ভাবে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত যখন যে দলের প্রার্থী এই আসনে জয়ী হয়েছে, সে দলই তখন দেশে সরকার গঠন করেছে। দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে শামীম ওসমান এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তবে এ দুটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ রয়েছে, দশম নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন শামীম ওসমান।

 

এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতেই ভোট হয়ে যাওয়ায় ভোটাররা দিনের বেলায় আর ভোট দিতে পারেনি। আগামী বছর ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে প্রার্থী হতে এখন থেকেই রীতিমতো প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে,

 

এ মূহুর্তে ৪ জন রাজনৈতিক নেতা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে এ আসনটির দিকে শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। এরা হলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগ এমপি শামীম ওসমান, বিএপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, পদত্যাগী বিএনপি নেতা শিল্পপতি শাহ আলম এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মনির হোসাইন কাশেমী।

 

এদের মধ্যে বিএনপির মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং আওয়ামীলীগের শামীম ওসমান এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনকে টার্গেট করে গিয়াসউদ্দিন প্রতিদিনই কোনো- না কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করছেন এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি সোচ্চার দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ব্যাপারে। জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যু দিবসটি তিনি তার নির্বাচনী ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করছেন।

 

দোয়া মাহফিল ও খিচুরি বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি বিভেদ পরিহার করে দলে বজ্রকঠিন ঐক্য গড়েতোলার আহবান জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের অনুসারী নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, গিয়াসউদ্দিন আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করছেন তবে ঘরে বাইরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এখানে ঘরের ষড়যন্ত্রকারী বলতে মোহাম্মদ শাহ আলম এবং বাইরের ষড়যন্ত্র বলতে শামীম ওসমানকে বোঝানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, শাহ আলম বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেও জীবনে একবার এমপি হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করবেন। শাহ আলম অনুসারীরা বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি মনোনয়ন কিনে নিবেন। তার জন্য যতো টাকা লাগে তা খরচ করতে তিনি রাজি আছেন। টাকা তার কাছে কোনো সমস্যা নয়।

 

ওদিকে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ পেয়েও শেষ মুহুর্তে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মনির হোসাইন কাশেমীও আবার এ আসনে মনোনয়ন পেতে চান। এদিকে আওয়ামীলীগ থেকে শামীম ওসমানও প্রস্তুত। এ আসন থেকে তিন বারের এমপি শামীম ওসমান মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি তার নিজস্ব।


তবে ভোটাররা মনে করেন আওয়ামীলীগ থেকে শামীম ওসমান এবং বিএনপি থেকে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে এ আসনে বাঘে-মোষের লড়াই হবে। যা বিগত ২০০১ সালের অষ্টম সংসদীয় নির্বাচনে হয়েছিলো।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন