# বিভেদ-পদ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ
# কমিটির অধিকাংশ নেতাদেরকে আমলে নেননা তিনি
ত্যাগী নেতা হিসেবে আবদুল হাইকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনের আগে আবদুল হাইকে সভাপতি, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি ও আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি দেয়া হয়।
পরবর্তীতে যা ৬৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পরিণত হয়। এতোদিনেও জেলা আওয়ামী লীগের শুন্যপদগুলো পূর্ণ করতে পারেনি জেলা আওয়ামী লীগ। এরপেছনে আবদুল হাইয়ের দৃঢ় মনোভাবের অভাবকেই দুষছেন তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, এই শুন্য পদ পূরণ করতে গিয়ে মাঝে বিতর্কিত জিকে শামীমের সাথে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি তখন নেট দুনিয়ায় নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল বলছে, আবদুল হাই জেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে পারেননি।
এমনকি উত্তর ও দক্ষিণ বলয়ের বিভক্তি আরো চরম মাত্রায় তার কারণেই মাঝে পৌঁছেছিল। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতেও নৌকার প্রার্থী বাদ দিয়ে অনেক বিতর্কিত ও দলের বাইরের লোক নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। যদিও এর পক্ষে আবদুল হাই যু্িক্ত দ্বার করাচ্ছেন তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। একজন সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া কী করে সাধারণ সম্পাদকের একক প্রভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কাগজ পৌঁছায় সেই যুক্তিও এখন মানতে নারাজ তৃণমুল।
তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, ২০১৭ সালে ইফতার মাহফিল নিয়ে বিভেদ তৈরি করেন আবদুল হাই। কমিটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী সেই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করবে না জেনেও মাত্র ১৩ জনকে নিয়ে ক্ষমতা দেখিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজন করেন। কালক্রমে এই বিভক্তি আরো বাড়ার কারণ সঠিক সময়ে আবদুল হাইয়ের অনুপুস্থিতি। তৃণমুল কর্মীরা বলছেন, আবদুল হাই কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কমিটির নেতাদের সাথে থাকেননা। এর আরেকটি বড় উদাহরণ হচ্ছে, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার রহস্য। দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেলকে দিয়ে ওই কমিটি ভেঙে দেয়ার প্রেস নোটিশ দিয়ে দেশ ছাড়েন আবদুল হাই।
এদিকে কমিটি নিয়ে সোনারগাঁয়ে তখন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দা-কুড়াল সম্পর্ক। তখন এর দায় চাপান সাধারণ সম্পাদকের উপর। ঘোষিত আহবায়ক কমিটি নিয়েও তখন বিভক্তি চরমে তোলেন হাই-বাদল। এমনকি পদ ও ক্ষমতার দম্ভে সোনারগাঁয়ে প্রোগ্রাম করতে দিয়ে তৃণমূলের রোষানলে পড়েন তারা, লাঞ্চিত হয়ে পড়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ৫ বছরের বেশিরভাগ সময়ে আবদুল হাই সঠিক সময়ে নেতাদের একত্রিত তো করতেই পারেননি উল্টো বিভক্তিতে জড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন।
বন্দর, ফতুল্লা, সদর, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নেয়ার ব্যাপারে তো অভিযোগ পাহাড় সমান তৃণমূলের। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চতুরতার সাথে বিতর্কিতদের পার করার ব্যবস্থা করেছিলেন আবদুল হাই এমন অভিযোগ তৃণমূলের। তারা বলছেন, কুতুবপুরে বিএনপির বহিঃষ্কৃত নেতা নৌকা নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন জেনেও কিছু বলেননি আবদুল হাই। সাধারণ কর্মীর মতো তিনিও অভিযোগ করেছেন, তিনি সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করেননি। তাহলে এখানে নেতৃত্ব থাকলো কোথায়।
আলীরটেকে নৌকার প্রার্থী মুহুর্ত্বেই পরিবর্তন হয়ে গেল, হেফাজত ঘেষা জাকির হোসেন মনোনয়ন পেলেও সেখানে আবদুল হাই জানালেন তিনি স্বাক্ষর করেননি। তিনি প্রতিরোধও গড়ে তোলেননি। ফলে তৃণমূল বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া জাকির হোসেন তো পরে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যেরও অভিযোগ তুলেছেন। এই অর্থ বাণিজ্য ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ নানা সময়ে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে উঠছে। অদৃশ্য কারণে আবদুল হাই সেসব বিষয়ে কথাও বলেননি। এমনকি আলীরটেকের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কথার উত্তরও দেননি। আবদুল হাইয়ের এসব মৌনতায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল।
তারা বলছেন, সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সুপারিশ নিয়েও আবদুল হাইয়ের দিকে অভিযোগের তীর তুলছে তৃণমূল। আসন্ন কাউন্সিলে আবদুল হাইয়ে আর বর্তমান পদে দেখতে চাইছেনা তৃণমূল। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দেয়া দায়িত্ব আবদুল হাই কতখানি পালন করতে পেরেছে তা মূল্যায়ন করার সময় চলে এসেছে।এমই/জেসি


