জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শোনে বিএনপি কর্মীরা
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২২, ০৭:৪৩ পিএম
# অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার : এড. দিপু
# জুতা নিয়ে কেউ উঠছে কি না আমার জানা নেই : মামুন মাহমুদ
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’- এই গানটি শুনলেই জেগে উঠে বাঙালির হৃদয়। ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে প্রাণ দিয়ে ছিলেন রফিক,শফিক,সালাম,বরকত,জব্বার সহ নাম না জানা অনেক ভাষা শহীদরা। সেই শহীদদের স্মরণ ও তাদের প্রতি সম্মান জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু সেই শহীদদের সম্মানে নির্মিত শহীদ মিনারকে সম্মান করেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিএনপি’র যে কোন সভা সমাবেশে জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে উঠেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়াস্থ কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনারে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালি দেখা যায়, শহীদ মিনারে বেদীতে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর আগেও শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির যে কয়েকটি সমাবেশ হয়েছে প্রতিটি সমাবেশে নেতাকর্মীরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে উঠেছে। বড় বড় নেতারা আবার জুতা হারানোর ভয়ে বেদীর উপরেও জুতা রাখছেন।
কেউ কেউ আবার বসার আসনের নিচে জুতা রাখেন, কেউ আবার জুতা পায়ে নিয়ে বেদীতে দাঁড়িয়ে নেতার বক্তব্য শুনেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু জানান, শহীদ মিনার হচ্ছে আমাদের ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতিস্তম্ভ। বিবেচনা করতে হবে আমাদের মুক্তিযোদ্ধার শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধাবোধ আছে কি না, আর বিএনপি মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ধারণ করে কিনা। বিএনপি বাংলাদেশে একটা পাকিস্তানি ধারা রাজনৈতিক প্রবর্তন করতে চেয়েছিল এবং এখনও চাচ্ছে।
আমাদের মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সাথে আতাত করে আমাদের ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত ছিনিয়ে নিয়ে ছিল যারা তাদের রাজনীতি করে। শারীরিক কারণে শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধের শহীদদের প্রতি ও ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ থাকার কথা না! এই জন্যে ঐ চেনা থেকেই তারা বার বার ওই কাজটি করছে, এই ঘটনাকে আমরা নিন্দা জানাই। শহীদ মিনারের প্রতি বার বারই তাদের যে অশ্রদ্ধা, আমি মনে করি অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, জুতা’ত সিনিয়র কোন নেতার পায়েছিল না, কর্মীরা কি করেছে সেটাত আমরা আর দেখিনাই। আমরা সব সময় শহীদদের সম্মান করি। শহীদদের সম্মানে আমরা সব সময় জুতা ছাড়াই শহীদ মিনারে উঠি, জুতা নিয়ে কেউ উঠছে কি না আমার জানা নেই।এমই/জেসি


