জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই আবদুল হাইয়ের ক্লিন ইমেজ ফিকে হতে শুরু করেছে। আসন্ন সম্মেলনের আগে সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা করেছে তৃণমূল। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে তো বটেই উপজেলাগুলো থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগের পাহাড় জমেছে গত কয়েকবছরে।
এবার বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়েও মূলত আবদুল হাইকে দূষছে তৃণমূল। মেরুদণ্ড সোজা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারা এবং স্বজনপ্রীতির কারণেই জেলা আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে অভিযোগ তূণমূল। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের। বন্দর থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক পনির আবদুল হাইয়ের কল্যাণেই পদ পেয়েছে এমন অভিযোগ তৃণমূলের।
অথচ দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতিতে অবদান রাখা এড. ইসহাককে কোন পদ দিতে পারেননি আবদুল হাই। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে স্বাক্ষর রাখা মনিরুজ্জামান কাজল, এড. সিরাজুল মজিদ মামুন, এড. তাজুল ইসলাম কিংবা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহসীন মিয়াকেও পছন্দ হয়নি আবদুল হাইয়ের।
এরা সকলেই পদবঞ্চিত হয়েছে আবদুল হাইয়ের কল্যাণে। নানা অখ্যাতদের ত্যাগী আওয়ামী লীগার বানিয়ে কমিটি অনুমোদন করে দিয়েছেন আবদুল হাই। এর নেপথ্যে নানা কথা রচনা করেছে তৃণমূল।
সূত্র জানিয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একে আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নূর হোসেনের বাড়ি বন্দর উপজেলায়। সাধারণত জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের সৌজন্যস্বরূপ সদস্য হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু কোন ধরণের সৌজন্যতার ধার ধারেননি আবদুল হাই। নিজের বাড়ির ব্যাগ টানিয়েছেন এমন ব্যক্তিদেরকেও পদ দিয়েছেন আবদুল হাই। তাই তার উপর রুষ্ঠ তৃণমূল।
তৃণমূল অভিযোগ করছে, বন্দর উপজেলার কমিটিতে অন্তত ১১ জন রয়েছে যাদের অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোন ইতিহাস নেই। ছাত্রলীগ, যুবলীগ না করেও তারা পদ পেয়ে গেছেন। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নোমান এর পরিবার বিএনপির রাজনীতি করলেও পদ পেয়েছেন আবদুল হাইয়ের কল্যানে। এছাড়া আক্তার হোসেন বিএ আওয়ামী লীগ করলেও সহসভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত শুধুমাত্র হাইয়ের সাথে সখ্যতার কারণে।
সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল তো এমন পদে কারণ আবদুল হাই। জাতীয় পার্টি থেকে আমদানি করে পিআর জাহানকেও পদ দিয়েছেন আবদুল হাই। শাহাদাত হোসেন কোনদিন আওয়ামী লীগ না করলেও আবদুল হাইয়ের সুদৃষ্টির কারণে বন্দর থানার কমিটিতে। অভিযোগ আছে মূল কমিটিতে ১৮/১৯ বছর বয়সীদেরও মূল্যায়ন করেছেন আবদুল হাই।
যারা ছাত্ররাজনীতি, যুবরাজনীতিতে জড়ানোর কথা তাদের কীভেবে আবদুল হাই মূল কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন এর উত্তর নাই কারো কাছে। এমন অভিযোগ আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি উপজেলায়। আর তাই জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আবদুল হাইকে আর দেখতে চাইছেনা তৃণমূল। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন এমন প্রত্যাশা তৃণমূলের।এসএম/জেসি


