Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘আবদুল হাইয়ের ব্যাগ টেনেছি, টাকা না দেয়ায় পদ মেলেনি’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৫:৩৬ পিএম

‘আবদুল হাইয়ের ব্যাগ টেনেছি, টাকা না দেয়ায় পদ মেলেনি’
Swapno

 

# আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিভক্তি, সুরাহা নিজ ঘরে
# ঝোপ বুঝে কোপ মারাই এখন মূলনীতি


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে তৃণমূল। জেলা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদে থেকেও পদের অপব্যবহার, পদ বাণিজ্য, বিভেদ তৈরি ও সুবিধাবাদী চরিত্রের জন্য তৃণমূল চাইছে দ্রুত জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে যাতে আবদুল হাইকে বাদ দিয়ে দায়িত্ববান কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

 

সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সুপারিশেও আবদুল হাইয়ের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জসিমউদ্দিনকে জড়িয়ে আবদুল হাইয়ের নামে নানা কথা তৃণমূলে চাউর রয়েছে। নাজির মাদবরের সাথে আবদুল হাইয়ের সম্পর্কে তিক্ততা, আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মনোনয়ন নিয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের অভিযোগ সবকিছুই এখন তৃণমূল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী সম্মেলনের আগেই আবদুল হাইকে নিয়ে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ভাবতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জোর সুপারিশ জানিয়েছে তৃণমূল।


 
 জেলা আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ট নেতার অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর আবদুল হাই বিভেদ তৈরি ও সুবিধাবাদী আচরণ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। যে কারণে তার সঙ্গ ছেড়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু। তাছাড়া সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, আদিনাথ বসু, আসাদুজ্জামান আসাদ, আবদুল কাদিরসহ অন্তুত গোটা পঞ্চাশেক জেলা আওয়মী লীগের পোড় খাওয়া নেতার সাথে দুরুত্ব আবদুল হাইয়ের। এমনকি আবদুল হাইকে বাদ দিয়েই তারা একত্রিত হয়ে কর্মসূচি পালনে বাধ্য হয়েছে।

 

অবস্থা বেগতিক দেখে শেষে কেন্দ্রের সংখ্যাগরিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল। সোনারগাঁয়ে বিভেদ উস্কে দিয়ে প্রোগ্রাম করতে দিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার কালো অধ্যায়ও আবদুল হাইয়ের ভাগ্যে জুটেছে। তবে এতো কিছুর পরও শোধরানো তো দুরের কথা, ঝোঁপ বুঝে কোপ মারার নীতিতেই অটল আবদুল হাই। জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার বক্তব্য, মূলত আবদুল হাইয়ের অসহযোগিতার কারণেই জেলা আওয়ামী লীগের শুন্য পদ পূরণ করা সম্ভবপর হয়নি।

 

এমনকি বিতর্কিত জিকে শামীমকে জেলা আওয়ামী লীগের শুন্য পদে বিবেচনার প্রস্তাব ও তার সাথে থাকা ছবি নিয়ে বিব্রত পুরো জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা কমিটির বেশিরভাগ নেতা বাদ দিয়ে মাত্র ১৩ জনকে নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের মতোই দায়িত্ব পাওয়ার পর গত কয়েকবছরে আবদুল হাই জেলা কমিটির সব নেতাকে নিয়ে একটি শোডাউনও করতে পারেননি। এমনকি একত্রে একটি কর্মসূচি পালনও করতে পারেনি। এনিয়ে আবদুল হাইয়ের উপর তিক্ত বিরক্ত তৃণমূল।

 

সম্প্রতি আবদুল হাইকে নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মধুসুদন পোদ্দার বলেন, আমি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কারা নির্যাতিত নেতা। আমার বয়স ৫৭ বছর। আমি আবদুল হাইকে দিয়ে মানুষ চিনেছি। আমি ব্যর্থ টাকার কাছে। আমার যোগ্যতা কোন অংশেই কম ছিলনা। আবদুল হাই অর্থবাণিজ্যের মাধ্যমে ১৮/১৯ বছর বয়সের ছেলেকে মূল দলের পদ দেয়। আমি তার বাসার বাজার করে দিয়ে, ফুড ফরমায়েশ খেটেছে। তবে টাকার কাছে হেরে গেছি। আমি যদি আবদুল হাইয়ের ছেলেকে টাকা দিতাম তাহলে অবশ্যই পদ কিনতে পারতাম। আবদুল হাই তো টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেননা। আমার মতো এমন অভিযোগ জেলায় তৃণমূল কর্মীদের সাথে কথা বললেই জানা যাবে। তার মতো লোকের কাছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা নিরাপদ নন।

 

 

এদিকে মধূসূদনের অভিযোগের এমন উদাহরণ আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অহরহ। তিনি সুযোগ বুঝে উত্তর-দক্ষিণে দুই দিকেই দ্বারস্থ হন। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের বিভক্ত রেখে তিনি তার মার্ক টাওয়ারের বাসায় পদবাণিজ্যের চেম্বার খুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে অহরহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক আওযামী লীগ নেতা জানান, কাকে বঞ্চিত করবে, কে কি ধরণের সুবিধা দিতে পারবে তার সবকিছুই আবদুল হাইয়ের বাসায় নির্ধারণ হয়। এমন ব্যক্তি যে তৃণমূল আওয়ামী লীগের যোগ্য অভিভাবক হতে পারেননা তা যেন অবশ্যই ভালোভাবে বিবেচনায় নেয় কেন্দ্র এই দাবি তৃণমূলের।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন