Logo
Logo
×

রাজনীতি

সেক্রেটারি হতে টাকার বান্ডেল নিয়ে জিকুর দৌড়ঝাঁপ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৬:১৩ পিএম

সেক্রেটারি হতে টাকার বান্ডেল  নিয়ে জিকুর দৌড়ঝাঁপ
Swapno

ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার পরেও ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগের শক্তিশালি কমিটি নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালি কমিটি না থাকায় তৃনমূল নেতা কর্মীরা ঝিমিয়ে পরেছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের বক্তাবলী ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন না হওয়ায় এখানে দীর্ঘ দিন যাবৎ নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে তৃনমূল থেকে। এই অভিযোগের তীর ফতুল্লা থানার শীর্ষ পর্যারে নেতাদের উপর। 

 

তবে ইতোমধ্যে ফতুল্লা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের দলকে ঢেলে সাজনোর জন্য নতুন আঙ্গিকে কাজ করছেন জেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। আর এজন্য ফতুল্লা থানার বক্তাবলী আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি হওয়ার জন্য একাধিক ব্যক্তি মাঠে নেমেছে। অভিযোগ উঠেছে তাদের মাঝে থেকে বক্তাবলী আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হওয়ার জন্য নুরুজ্জামান জিকু টাকার বান্ডিল নিয়ে বিভিন্ন নেতার দরবারে দৌড়ঝাপ করছে। কিন্তু তাকে নিয়ে নাখোস তৃনমূল আওয়ামীলীগ। 

 

 

এদিকে দলীয় সূত্রে জানাযায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয় না প্রায় ১৮ বছরের বেশি। আর এতে করে এই অঞ্চলের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অনেকটা ঝিমিয়ে পরেছে। তাছাড়া বর্তমান কমিটির বেশির ভাগ নেতাই নেই। কারা দায়িত্বে আছেন তাও অনেকে ভূলে গেছে। 

 

এই ইউনিয়নের সভাপতি প্রয়াত আফাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে নামকাওয়াস্তে দলীয় কর্মসূচি। দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অনেক ইউনিয়নে তাও চলে না। দীর্ঘ দিন পরে হলেও এবার ফতুল্লা থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর এখানকার ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। আর এতে করে তৃনমূল পর্যায়ে ফতুল্লার ইউনিয়নে কমিটির মাধ্যমে নেতা কর্মীরা ঝিমিয়ে পরা থেকে সক্রিয় হতে পারবে।

 


ফতুল্লার ইউনিয়ন গুলোর একাধিক নেতা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়ন গুলোতে কমিটি হয়েছে। পূর্বের কমিটিতে অনেক নেতা মারা যাওয়াতে তাদের শূন্যস্থানও পুরণ করা হয় নাই। বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য শফিক মাহমুদ দৌড়ঝাপ করছেন। তার সাথে তাল মিলিয়ে সেক্রেটারি পদে আনোয়ার হোসেন, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবারও এই পদেই থাকতে চান। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে তরুন প্রজন্মের নেতা নুরুজ্জামান জিকু সেক্রেটারি হতে মাঠে নেমেছে।

 


বক্তাবলী আওয়ামীলীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, এই জিকু উইরা এসে জুরে বসে এখানকার নেতা হতে চায়। তাকে আগে পুর্বে কেউ তেমন একটা দেখে নাই। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিতেও তাকে পাওয়া যায় নাই। কিন্তু বর্তমানে তিনি ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ব্যাপক টাকার মালিক হয়েগেছেন। তৃনমূল থেকে সমর্থন পাওয়ার জন্য তিনি গত ঈদের সময় অনেক নেতা কর্মীকে পাঞ্জাবী উপহার সহ তাদের টাকার খামদেন।

 

 আর এজন্য তাকে নিয়ে সমালোচনা বইছে নেতৃবৃন্দের মাঝে। তাছাড়া এই জিকু অঢেল টাকার মালিক বনে যাওয়ায় অনেক নেতাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তাবলী আওয়ামীলীগের অভিভাবক ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকেও ম্যানেজ করে উইরা এসে জুরে বসার চেষ্টা করছে জিকু। তবে তৃনমূল নেতৃবৃন্দের দাবী তারা এখানে কাউকে টাকার বিনিময়ে নেতা হতে দিবে না।

 

 এই জিকু টাকা নিয়ে বিভিন্ন নেতার দরবারে দৌড়ঝাপ করছে বলে জানান। অনেকে বলাবলি করছে সম্মেলন হলে বক্তাবলী আওয়ামীলীগের সম্মেলনে  জিকু সেক্রেটারি হতে পারবে না। জিকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি তৃনমূল নেতা কর্মীদের কোন খোজ খবর নেন না। আর এখন টাকার বিনিময়ে সেক্রেটারি হতে এসেছেন।

 

 তবে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেন, টাকার বিনিময়েই যদি এত বড় দলের নেতা হওয়া যায় তাহলে দলীয় গঠনতন্ত্র থেকে কি আসে যায়। দলের তৃনমূলে পর্যায়ে যারা নেতৃত্বে আসার যোগ্য রাখে তাদের বাদ দিয়ে এই সকল টাকা ওয়ালাদের পদে বসালে তাহলে দলের জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই যারা দলের দূঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে থেকেছেন তাদের মূল্যায়নের দাবী জানান তৃনমূল আওয়ামীলীগ। নুরুজ্জামান জিকুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়।

 


বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ক্ষমতাসীন দলের নিবেদিত কর্মী হয়ে কাজ করে আসছি। এই দলে গঠনতন্ত্র আছে। আমি বক্তাবলী আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি প্রার্থী হিসেবে আছি। আমার পূর্বের আন্দোলন সংগ্রামের অবদান বিবেচনা করে নেতা কর্মীরা সুযোগ দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।

 

 কিন্তু অনেকের কাছে শুনতাছি কেউ কেউ নাকি টাকার বান্ডিল নিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু এই টাকা দিয়ে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করতে পারবে না। কেননা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ টাকার কাছে বিক্রি হয় না। তিনি যদি মনে করে টাকা দিয়ে সেক্রেটারি হয়ে যাবেন তা তৃনমূল কর্মীরাই জবাব দিবে।

 


বক্তাবলী আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ জানান, আমি দীর্ঘ দিন যাবত লড়াই সংগ্রামে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমরা চাই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হোক। যাতে করে এখান থেকে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয়। 

 

তবে তৃণমূল নেতা কর্মীরা বলাবলি করছে এখানে পকেট কমিটি করার পায়তারা চলছে। এছাড়া কমীরা জানান, নেতারা নেতা বিক্রি হতে পারে কিন্তু কর্মীরা বিক্রি হতে পারে না। তাই আমি বলব যারা ত্যাগি নেতা কর্মী আছে তাদের যেন মূল্যায়ন হয়। আর ত্যাগী নেতা কর্মীরা চায় নেতারা তাদের খোজ খবর নেক। 

 

 

দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০০৩ সনে ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়। কিন্তু ২০০৩ এর পরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। আর এতে করে দল শক্তিশালি না হয়ে আরও দূর্বল হয়ে আছে।এসএম/জেসি 


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন