# নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে উভয়েই বর্তমানে মাঠ কাঁপাচ্ছেন
# একদিকে ওসমান পরিবারের দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে আ’লীগ
জোট ভূক্তের কারণে ২০০৯ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (নারায়ণগঞ্জ সদরও বন্দর) আসন দুটি জাতীয় পার্টির জন্য বরাদ্দ রাখে আওয়ামী লীগ। এই দুই আসনে আওয়ামী লীগ কোন প্রার্থী না দেওয়ায় এবং জোটগত কারণে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ সমর্থন করায় এই দুটি আসনে খুব সহজেই জাতীয় পার্টির সাংসদ নির্বাচিত হন।
তবে আগামী ২০২৩ এর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুটি আসনে জাতীয় পার্টির জন্য সহজতর হবে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে দাবি উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনীত করার।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন থেকে এই দাবি আরও জোরালো হয়। তাই যদি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এই দাবি মেনে নেওয়া হয়। তাহলে এইবার জাতীয় পার্টি যে সহজে আসন ছিনিয়ে নিতে পারবে না, তা অনেকটা নিশ্চিত। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টিকে এই সমস্যা ছাড়াও আরও একটি সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর তা হলো ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। কারণ এবারের জাতীয় নির্বাচনে ওসমান পরিবারের দুই সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ও বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমান দুজনেই জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিযোগিতা করবেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে উভয়েই বর্তমানে মাঠ কাঁপাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করেন ওসমান পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ প্রয়াত নেতা একেএম নাসিম ওসমান। তৃণমূল জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ জানান, নাসিম ওসমানের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন তার ছোট ভাই পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান একে এম শামীম ওসমান।
একইভাবে নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পরে অনেকটা ব্যাকআপ দেওয়ার উছিলায় রাজনীতিতে আসেন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ওসমান পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান একেএম সেলিম ওসমান। আর তখন থেকেই অবহেলিত হতে শুরু করেন ওসমান পরিবারের উত্থানে ভূমিকার রাখা এবং নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করা নাসিম ওসমানের স্ত্রী ও পরিবার।
কারণ সেলিম ওসমান ব্যাকআপ হিসেবে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরে শামীম ওসমানের সমর্থন নিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন সেলিম ওসমান। আর তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির সুবিধা বাদীরা সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান সমর্থিত জাতীয় পার্টিতে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নাসিম ওসমানের হাতে গড়ে
উঠা সমর্থকদের মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও তার অবদানকে সম্মান জানিয়ে পারভীন ওসমান ও তার পরিবারের পাশে থেকে যান। ২০১৯ এর জাতীয় নির্বাচনে যার কিছুটা চিত্র পরিলক্ষিত হয়। তবে এবার পারভীন ওসমান তার স্বামীর নেতৃত্বের শূন্য স্থান দখল নিতে অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছেন বলে জানান তার সমর্থকরা।
তাই এবারের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পারভীন ওসমানের থাকাটা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে। আর এই আসনটিতে এবার যদি আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বী দেয় এবং একই সাথে পারভীন ওসমান এবং সেলিম ওসমান উভয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকতে ইচ্ছুক হয় তাহলে শুধু ফাঁপরেই নয়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহাফাঁপরে পড়বে জাতীয় পার্টি।


