Logo
Logo
×

রাজনীতি

বাংলাদেশের মালিকানা ছিনতাই হওয়ার পথে : জিএম কাদের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

বাংলাদেশের মালিকানা ছিনতাই হওয়ার পথে : জিএম কাদের
Swapno

 

# কালো টাকা নিয়ে অনৈতিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে
# বিএনপি দুর্নীতিতে চার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা  জিএম কাদের বলেছেন, আমরা কারও সাথে নেই। আমরা দূরে আছি। সরকারি দলেও নেই বিরোধী দলেও নেই। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি। দেশের মালিক সমালোচনা করতে পারবে এবং দায়িত্বশীলকে শুনতে হবে। এটাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মালিকানা ছিনতাই হওয়ার পথে।

 

এটা জনগণের দেশ হবে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ চালাবে এটাই আমাদের রাজনীতি। আমরা জনগণের রাজনীতি করি। আমরা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাথে ছিলাম। আওয়ামী লীগ বলেছিল খুন গুম বিচারবহির্ভুত হত্যা বন্ধ করবে। সেটা তারা করেনি। তারা বলেছিল দুর্নীতি কমাবে কিন্তু কমেনি। তাদের আদর্শগত বিরোধ রয়েছে তবে চরিত্রগত মিল রয়েছে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের দখলকৃত মালিকানা সত্ত্ব ফিরিয়ে দিব। 

 

শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে বন্দরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা আগে এদেশের সম্পদ লুটে পাকিস্তানে নিয়ে যেত এখনও আমাদের দেশের টাকা বাইরে পাচার করা হচ্ছে। এ টাকা দেশের মানুষের টাকা। তারা এই টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে শতভাগ টাকাই অসৎ টাকা। এবার বাজেটে আইন করে কালো টাকা দেশে আনার সুযোগ দিতে চাইছে। এটা একটা অনৈতিক সুবিধা। আর যারা ক্ষমতায় আসার জন্য লাফালাফি করছে তারাও একই লুটপাট করেছে।

 

রাজনীতি হল রাজার কাজকর্ম। এখন মানুষ বলে এটা আমার দেশ আমরাই সব ঠিক করব। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ দেশের মালিক। এর ক্ষমতা ও সম্পদের মালিক জনগণ। তবে দেশে সে অবস্থা আর নেই। এখন আর নির্বাচন নেই। নির্বাচন ব্যাবস্থা প্রহসন তাই পরিবর্তন করার ক্ষমতা চলে গেছে। আমাদের সকলকে সমান ভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়না।

 

এরশাদ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন আমরা তা বাস্তব করব। আমাদের নেত্রী রওশন এরশাদ অসুস্থ আপনারা সকলে তার জন্য দোয়া করবেন। সেলিম ওসমানের আগে তার ভাই নাসিম ওসমানের সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। আমি তার জন্যেও দোয়া চাই। আমি এখানে এক সময় চাকরি করতাম। আজ এখানে এসে আবারও পুরানো দিনগুলো মনে পড়ে গেল। আজ যারা এত বিশাল একটি আয়োজন করেছেন আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হওয়া। এতে প্রমান হয়েছে জাতীয় পার্টি সজীব ও শক্তিশালী। এটা মানুষ দেখছে, ৩২ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও জাতীয় পার্টি শক্তিশালী। ২১ বছর ক্ষনতার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের কী অবস্থা হয়েছিল দেখেছেন। বিএনপিও আজ ১৪ বছর যাবৎ ক্ষমতার বাইতে। তাদেরও টালমাটাল অবস্থা। তবে জাতীয় পার্টি আজও উজ্জীবিত। আমরা এ বাংলাদেশকে পরিবর্তিত করে উপহার দিব।

 

নেতৃত্ব মেনে চলতে হবে। দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচন যত কাছে আসছে দেশ তত সাংঘর্ষিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল যেনতেন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে আর বিরোধী দল যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। সারাদেশের মানুষ উৎকন্ঠার সাথে দেখছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে তারা ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। বিরোধী দলও মরিয়া ক্ষমতায় আসতে কারণ তারা জানে যে হারবে, তারা হারিয়ে যাবে।

 

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া বাকি দলগুলোর কিন্তু সারাদেশে সক্রিয় নয়। বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করছে মুক্তির জন্য। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। ব্রিটিশরা বাংলাদেশের কিছু মানুষেদর দ্বারাই আমাদের শোষণ করত। পাকিস্তানিরাও আমাদের শোষণ করেছে। বৈষম্য ছিল সেখানে ধনীরা ধনী হত আর গরীবরা গরীব। আজ আমরা বাঙালিরাও নিজ দেশে এটা সৃষ্টি করেছি। নিজ দলের লোক হলে চাকরি সুযোগ সুবিধা পাবে নয়ত পাবে না। এটা একা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করেনি। দুজনেই করেছে। সাধারণ মানুষ এখনও অত্যাচারিত ও নিপীড়িত।

 

এসময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন