তৈমূরের তিন ভুলের খেসারত দিচ্ছেন অনুসারীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২২, ০৫:৪০ পিএম
# দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত তৃণমূল কর্মীরাও হচ্ছেন বঞ্চিত
# অভিজ্ঞতা ও অদূরদর্শীতায় বর্তমান আহবায়ক কমিটি
মূলত তৈমুর আলম খন্দকারের তিনটি ভুলের খেসারত দিচ্ছেন বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবং তার অনুসারীরা। তাকে দল থেকে বহিস্কার করার সঙ্গে সঙ্গে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপির পুরনো নেতাদের একটি বড় অংশকে মাইনাস করে থানায় থানায় গঠন করা হয় পকেট আহবায়ক কমিটি। আর এসব আহবায়ক কমিটির নেতারাও এখন তাদের পছন্দের নেতাদের নিয়েই বিভিন্ন থানা কমিটি গঠন করতে চাইছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে মাইনাস করার সঙ্গে সঙ্গে গোটা জেলায় দলের পুরনো নেতাদের প্রায় অর্ধেক মাইনাস হয়ে গেছেন। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ থানায় থানায় যে সকল আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন এসব কমিটিতে রাখা হয়নি বিএনপির দীর্ঘ দিনের পরিক্ষীত নেতাদেরকে। এতে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি একেবারে দূর্বল হয়ে পরেছে। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার অংশগ্রহন করায় তার নিজের এবং দলের কারোই কোনো লাভ হয়নি। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন তিনি নিজে এবং দলগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে বিএনপি। কারণ তৈমুর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কার করার সুযোগে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ অতি দ্রুত তার পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটিগুলি করে ফেলেছেন। এতে আহবায়ক কমিটিগুলিতে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের মাঝে অধিকাংশই রাজনৈতিক ভাবে অদক্ষ।
এদিকে বিভিন্ন আহবায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা জানিয়েছেন তৈমুর আলম খন্দকার দলে থাকলে তাদেরকে মাইনাস করা মোটেও সহজ হতো না। তৈমুর সবাইকে রেখেই কমিটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে দল থেকে বহিস্কার করার সাথে সাথে মামুন মাহমুদ এবং তার অনুগত কয়েকজন তারাহুরো করে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে কমিটি করে ফেলেন। তবে এই নেতারা মনে করেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনটি বড় ভুল করেছেন।
১) বিএনপি বার বার বলছে এই সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তিনি এটা বুঝলেন না। তাই তিনি ভোট যতোই পেতেন তাকে জয়ী হতে দেয়া হতো না। তাই ভোটাররা ভোট দিলেও তার পরাজয় ছিলো নিশ্চিত। ২) হাজার হলেও তিনি দলের দুটি ভাইটাল পদে ছিলেন। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করা তার মোটেও ঠিক হয়নি। তিনি জয়ী হলেও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে তিনি বহিস্কার হতেন। এটা আবেগপ্রবন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী না জানলেও তার জানা উচিৎ ছিলো। ৩) তিনি বহিস্কার হলে সারা জেলায় তার অনুসারী বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বেকায়দায় পরে যাবে। তাদেরকে মামুন মাহমুদ মাইনাস করে ফেলবেন। এবং সেটাই ঘটেছে। তাই এই তিন কারণে তৈমুর আলম খন্দকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ তার নিজের জন্য এবং তার অনুসারীদের জন্য এমন কি দল হিসাবে এই জেলায় বিএনপির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।এমই/জেসি


