সমঝোতার ভিত্তিতে জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের মৃত্যু হয়। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনের মাধ্যমে এই আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান। নাসিম ওসমানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গড়ে উঠা বিরাট একটি সমর্থকের দল নেতার হঠাৎ মৃত্যুতে হতবিহবল হয়ে পড়েন এবং সেলিম ওসমানকে তার ভাই হিসেবে মেনে নেন।
কিন্তু প্রয়াত জননেতা নাসিম ওসমানের ভক্তরা মনে প্রাণে বিশ^াস করতেন সেই সময় নাসিম ওসমানের ব্যাকআপ হিসেবে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির হাল ধরলেও নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির প্রকৃত হাল ধরবেন নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী পারভীন ওসমান। কিন্তু কথায় বলে ক্ষমতার স্বাদ একবার পাইলে আর ছাড়তে ইচ্ছে হয় না। আর ঠিক তেমনটিই হয়েছে নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমানের বেলায়। বড় ভাইয়ের উছিলায় রাস্তা থেকে উঠে এসে হয়েছেন বড় ব্যবসায়ী (তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে থাকেন)।
আর সেই ভাইয়ের মৃত্যুতে ক্ষমতার স্বাদটিও পেয়েছেন তিনি, তাইতো এখন সেই ভাইয়ের স্ত্রী ভাবীকে টোক্কা দিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছেন তিনি। ভাইয়ের হাতে গড়া সকল নেতা কর্মীদের অর্থ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ২০১৪ সাল থেকে পর পর দুইবার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে ভাগাভাগী করে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে চাইছেন সেলিম ওসমান। তার সর্বশেষ প্রচেষ্টা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের একটি বিরাট ভূমিকা থাকে। অন্যদিকে ওসমান পরিবারকে স্বাধীনতার পরবর্তী এই যোগ্যতা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন একেএম নাসিম ওসমান। আর তার পাশে থেকে সহযোগীতা করে গেছেন তার স্ত্রী পারভীন ওসমান। পারভীন ওসমান এই পরিবারে আসার পর থেকেই একটি শোচনীয় পরিবেশের স্বাদ পান। কিন্তু স্বামীর সাথে থেকে সেই শোচনীয় পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে আজকের এই ওসমান পরিবারের জন্ম দেন তিনি। অথচ যাদের জন্য এই ত্যাগ স্বীকার, সেই সন্তান তূল্য দেবররাই আজ পারভীন ওসমানকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।
গত ১৭ জুনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তাকে আয়োজক কমিটিতে রাখা তো দুরের কথা দাওয়াতও দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। সেখানে জেলা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সানাউল্লাহ সানুকে। যিনি প্রকৃত অর্থেই নাসিম ওসমানের হাতে গড়া। কিন্তু বর্তমানে সেলিম ওসমানের ভক্ত। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়া হয়েছে এক সময়ের নাসিম ওসমান ভক্ত সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁ উপজেলার জাতীয়পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবালকে। আর এই দুই সাংসদ নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে তাদের পকেটে পুরে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির জনক হিসেবে যাকে ধরা হয় সেই নাসিম ওসমানের চিহ্ন মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে। কাকতালীয়ভাবে এরা দু’জনই জাতীয় পার্টির সাংসদ হিসেবে রাজনীতিতে এসেছেন ২০১৪ সালে।
এই বিষয়ে বন্দর জাতীয় পার্টির একজন প্রবীণ নেতা যিনি নাসিম ওসমানের সহচর ছিলেন, খুব কাছে থেকে দেখেছেন, ওসমান পরিবারে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে পারভীন ওসমানকে খুব ভাল করে চিনেন, তিনি জানান, জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখনও নাসিম ওসমানের অনেক ভক্ত আছেন। সেলিম ওসমান যতই চেষ্টা করুক না কেন সেই ভক্তদের বিশ^াসঘাতক বানাতে পারবে না। তারা এখনও প্রস্তুত আছে নাসিম পত্মী যখনই ডাক দিবেন এসব ভক্তরা তার পিছনে গিয়ে হাজির হবেন। তিনি আরও জানান, অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে হয়তো অনেকেই এখন সেলিম ওসমানের সাথে তাল মিলাচ্ছেন। কিন্তু নাসিম ভক্তরা কখনও নাসিমের পরিবার ছেড়ে যেতে পারবে না।এমই/জেসি


