Logo
Logo
×

রাজনীতি

ঐক্যের লক্ষণ নেই ফতুল্লা থানা বিএনপিতে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম

ঐক্যের লক্ষণ নেই ফতুল্লা থানা বিএনপিতে
Swapno

 

# সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এবং দলত্যাগী নেতা শাহআলম পন্থী হিসাবে বিভক্ত তারা

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা বিএনপিতে এখনো চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। নেতা কর্মীরা সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বনাম দল ত্যাগী নেতা শাহআলম পন্থী হিসাবে বিভক্তই রয়ে গেছে। তাদের মাঝে ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে শক্তিশালী করার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান পৃথক ভাবে পালন করেছে ফতুল্লা থানা বিএনপি।

 

থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল এবং সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বে পৃথক ভাবে পালন করা হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান। যদিও ফতুল্লা থানা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিরন্তর চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম টিটু। কিন্তু এই কাজে তিনি কতোখানি সফল হতে পারবেন সেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ফতুল্লা থানা আহবায়ক কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা দাবি করছেন তারা ২৯ জন একদিকে আর শহীদুল ইসলাম টিটু একা একদিকে। আর এই ২৯ জন শাহআলমের অনুসারী। তাই শহীদুল ইসলাম টিটু একা কি করবেন? তাই শাহআলম যাদেরকে চাইবেন তারাই থাকবে ফতুল্লা থানা বিএনপির মূল কমিটিতে।

 

এখানে যারা শহীদুল ইসলাম টিটু বা সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী তাদের কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে এভাবেই যদি কমিটি করা হয় তাহলে ফতুল্লায় দল শক্তিশালী হবে কি ভাবে? তাই এ বিষয়ে জানতে থানা বিএনপির সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম টিটুকে টেলিফোন করা হলে তিনি বলেন, প্রথমত শাহআলম সাহেব বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বিএনপির কোনো পদেই নেই। দলের দুঃসময়ে তিনি দল ত্যাগ করেছেন। তাই যারা নিজেদেরকে শাহআলমের লোক দাবি করছেন তারাতো বিএনপির লোকই হতে পারেন না। কারণ শাহআলম এখন বিএনপির কেউ নন। তিনি আরো বলেন যারা এই ধরনের মানসিকতা পোষন করেন তারা বিএনপিকে ভালোবাসেন না। তারা চান না বিএনপি ফতুল্লায় শক্তিশালী হোক।

 

এ বিষয়ে শহীদুল ইসলাম টিটু আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিস্কার করে বার বার বলছেন বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হবে। তাই আমি মনে করি দলের কোনো নেতা বা কর্মীকে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু তিনিতো বিএনপি করেন। তাকে বাদ দিলে দূর্বল হবে আমার দল বিএনপি। তাই ফতুল্লায় সবাইকে নিয়েই গঠন করা হবে থানা বিএনপির মূল কমিটি। তিনি কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নূরুল ইসলাম, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি খন্দকার হুমায়ুন কবির, কুতুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা সহ অনেক সিনিয়র নেতাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি এদেরকে মাইনাস করে ফতুল্লায় দল গঠন হতে পারে না।

 

তিনি আরো বলেন, যারা বলছেন আমি একা তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই কমিটির অনেকেই রয়েছেন আমার সাথে। এছাড়া ফতুল্লায় যারা বিএনপির পরিচিত মুখ তারা সকলেই আমার সাথে রয়েছেন। কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি লুৎফর রহমান খোকা, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি আকবর আলী সুমন, কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারন সম্পাদক মঈনুল হোসেন রতন সহ মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয় নেতাকর্মীরা সকলেই দলে ঐক্য চান।

 

তিনি বলেন কুতুবপুরের হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, কাশীপুরের আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন, কবির প্রধান, বক্তাবলীর লোকমান হোসেন, হাসান আলী, এনায়েতনগরের আবু তাহের আজাদকে মাইনাস করে আপনি কিসের বিএনপি গঠন করতে চান? তাই আমি পরিস্কার ভাবে বলতে চাই আমি কখনোই কোনো মাইনাসের রাজনীতি করবো না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দল গঠন করার পক্ষ্যে আমি। আমি আমার লক্ষ্যে অবিচল থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন সকলের দোয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পঞ্চাশটির বেশি স্পটে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছি। তাই আগামী দিনে ফতুল্লায় একটি শক্তিশালী বিএনপি গঠন করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন