Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগর জাপার সভাপতি কে এই দুলাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২২, ০৫:৫৩ পিএম

মহানগর জাপার সভাপতি কে এই দুলাল
Swapno

 

# আগামী ১৫ দিনের মাঝে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ

 

 

যারা তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসছে তারাই একটা সময় পর জেলা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পদে এসে দায়িত্ব পালন করেন। যারা দলের জন্য ত্যাগ শিকার করে পর্যায়ক্রমে তাদের মূল্যায়ন করে পদায়িত করা হয়। কিন্তু যারা দলীয় কর্মসূচিতে নেই, নামকাওয়াস্তে দলে পদ নিয়ে থাকেন তারাই যখন হঠাৎ করে এসে সভাপতির পদ পেয়ে যান তখন তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোনচনা তৈরী হয়। সেই সাথে নগরবাসী তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেন তিনি কি করে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান। তার পিছনের শক্তি কারা।

 

দীর্ঘ দেড় যুগ পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির এই সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন মোদাছিরুল হন দুলাল। তাকে নিয়ে শহর জুড়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাছিরুল হক দুলাল কে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন তিনি উইড়া আইসা জুইড়া বসে মহানগরের পদে পদায়িত হন। তবে তার দাবী তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জরিত রয়েছেন। জাতীয়  পার্টির তৃনমুল নেতাদের অভিযোগ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি দুলালকে অনেকেই চিনেন না। সেই সাথে তাকে আগে পরে দলীয় কর্মসূচিতে দেখেননি। অথচ তিনি হঠাৎ করে এসে সভাপতি হয়ে গেলেন। সচেতন রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেন কার ইশারায় তাকে সভাপতি করা হলো। দলের ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে তাকে সভাপতি করে কাদের স্বার্থ হাসিল করা হলো।  

 

খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দেওভোগ বাবুরাইল এলাকায় থাকেন। তিনি বিক্রমপুর থেকে এসে নারায়ণগঞ্জের সেলিম ওসমানের উইজডম ফ্যাক্টরীতে চাকরী নেন। দীর্ঘদিন তার ফ্যাক্টরীতে কাজ করায় ওসমান পরিবারের সাথে তার ভালো সখ্যতা গড়ে উঠে। সেই সখ্যতার খাতিরে অর্থাৎ ওসমান পরিবারের আশীবাদে মহানগর জাতীয় পার্টির এই সভাপতি পদ ভাগিয়ে নেন দুলাল। তাকে নিয়ে দলে মাঝে অভিযোগ রয়েছে তিনি দলীয় কার্যক্রমে নেই। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নেই, এমনকি জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগও নেই। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করছেন তিনি। তিনি কি করে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান তা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।

 

এদিকে এর আগে মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে আকরাম আলী শাহিন। তার আগে নাসিম ওসমান জীবিত থাকা কালীন সময় তিনি জেলা জাতীয় সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এবার নতুন কমিটিতে তাকে মাইনাস করে মোদাছিরুলকে ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে সভাপতি করা হয় বলে জানান দলীয় একটি সূত্র। আর এনিয়ে জাতীয় পার্টির অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সাথে আকরাম আলী শাহিনের মত জাতীয় পার্টির ত্যাগী নেতাকে নিয়ে মাইনাস করার বিষয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। আকরাম আলী শাহিনকে মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটিতে রাখা হয় নাই।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়া পার্টির সদ্য সভাপতি মোদাছিরুল হক দুলাল বলেন, আমি জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন জেলার ছাত্র সমাজের প্রতিষ্ঠা কালিন যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্বন পালন করেছি। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমান থাকা কালীন সময় মহানগর জাতীয় পার্টির প্রথম সদস্য ছিলাম। জাতীয়াপার্টিতে আমি দক্ষতার সাথে কাজ করেছি। আমার দক্ষতার জন্য আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়।  

 

মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক আহবায়ক আকরাম আলী শাহিন বলেন, মহানগর জাতীয় পাির্টর যে কমিটি গঠন হয় তা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হয়। পদাদিকার বলে এই অনুষ্ঠানে আমার সভাপতিত্ব করার কথা। আর এটাই হলো রাজনীতির শিষ্টাচার। যারা সম্মেলনের আয়োজন করেছে তারা তা কতুটুকু করেছে আমার জানা নেই। এই সম্মেলনের অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত পর্যন্ত দেয়া হয় নাই। কেন দেয় নাই। তা আয়োজকরা বলতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর কমিটির সম্মেলন শেষে নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে জেলা সভাপতি সানাউল্লাহ সানু ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবু নাঈম ইকবাল এবং মহানগরের সভাপতি মোদাছিরুল হক দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। একই সাথে আগামী ১৫ দিনের মাঝে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন