কুতুবপুরে ত্যাগী আওয়ামীলীগ শূন্য করার পায়তারায় কারা?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২২, ০৭:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরকে নারায়ণগঞ্জের মধ্যে আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও যা এখন অনেকটাই হারাতে শুরু করেছে ।আর এর সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের কমিটি না হওয়া ।একই কমিটি পার করছে প্রায় দুই যুগ চলছে, দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একে অপরের ঐক্য নেই ।
আর এই ঐক্য না থাকার কারনেই ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী গোলাম রসুল সিকদারের পক্ষে কাজ না করে আনারসের সেই বিএনপি নেতা সেন্টুর পক্ষে কাজ করে নৌকাকে ফেল করায় সেই কতিপয় কিছু আওয়ামী নেতৃবৃন্দরা
এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালের নভম্বরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সেই বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টুকে আওয়ামী লীগর নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয় এবং নির্বাচনে তার বিপক্ষে কোন প্রার্থী দাড়াতে পারেনি এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বনে যান ৪র্থ বারের মত চেয়ারম্যান ।
আর তারপর থেকেই শুরু হতে থাকে এক এক করে আওয়ামী লীগ নিধনের কার্যক্রম কুতুবপুরের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাইনাস করার চেষ্টা ।আর অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন কুতুবপুরে কাগজে কলমে পদ থাকলেও যার কোন রকম কার্যক্রম,এখন আর চোখে পরে না।
এমনকি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা অনেক নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা কস্ট ।আর এতে করে কুতুবপুরের আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব হারাতে চলছে।
আর এই কুতুবপুর আওয়ামী লীগ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই ।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্ম কান্ডের মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে গত রমজান মাসে ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে ত্যাগী আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাওয়াত না দেওয়া ,নব্য আওয়ামী লীগার চেয়ারম্যান সেন্টু বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলন সহ বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ পাগলা বাজারে সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান উপস্থিত থাকলেও কুতুরপুরের আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী অনুপস্থিত মাধ্যমেই অনেকটাই ক্লিয়ার হয়ে যায় নেতাকর্মীরা অনেকটই ক্ষোভের মধ্যে আছে।
শুধু তাই নয় কুতুবপুরে দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী যুবলীগের রাজনৈতিক জড়িত কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সী একটি ষড়যন্ত্রমূলক এক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর কুতুবপুরের কোন আওয়ামী লীগের কোন নেতৃবৃন্দ তার পাশে দাড়ায়নি।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সী বলেন, আমি কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের জন্য অনেক কষ্ট করেছি হয়তো আমার জনপ্রিয়তা একটু বেশি তাই কিছু নব্য আওয়ামী লীগ হাইব্রিডরা আমাকে অসম্মান করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ফাসানো হয়েছে আর এই মামলা আমার নামে হওয়ারই কথা না আমি সেখানে ছিলাম না ।
আমার মনে কষ্ট দুঃখ অবশ্যই আছে আমি মামলা খাওয়ার পর জেল পর্যন্ত খাটলাম কিন্ত যাদের সাথে দীর্ঘদিন এক সাথে রাজনীতি করলাম তারা কেউ আমাকে দেখতেও আসলো না। কুতুবপুরে যারা আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী তারা খুব কষ্টে আছে অনেক কষ্টে আছে যেটা বলার ভাষা নেই আর সেটা আল্লাহ ছাড়া বলার মতো কেউ নেই ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতাকর্মীরাই এরকম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে কুতুবপুরে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবহেলিত হচ্ছে।আর বিএনপি হাইব্রিড নেতারাই আজ কুতুবপুরে দাবরিয়ে বেরাচ্ছে।আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য এমপি শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন । আর এই সমস্যা যদি সমাধান না করা হয় তাহলে কুতুবপুরে আর আওয়ামী লীগ কর্মী একটাও খুজেঁ পাওয়া যাবেনা ।এসএম/জেসি


